কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একদিন

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫
  • শাহ আকবর আহমেদ

বন্ধুত্ব যেন চিরদিনের। আর সে বন্ধু যদি হয় স্কুল জীবনের তাহলে তো কথাই নেই। স্কুল জীবনের বন্ধুরা যেন কখনই বদলায় না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা যেন চোখের পলকে কেটে যায়। এই তো সেদিনই পা রেখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। সেই জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতিগুলো যে আজও চোখে ভেসে বেড়ায়। দেখতে দেখতে যেন তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে চলে এলাম। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি, তারা সবাই কিন্তু ছোটবেলার স্কুল-কলেজ জীবনের বন্ধুগুলোকে ছেড়ে আসি। কারণ আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে একেকজন একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাই। আর এই বিশ্ববিদ্যলয়ের ব্যস্ত জীবনে পুরনো বন্ধুদের মধ্যে অনেককেই হরিয়ে ফেলি কিংবা তাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ থাকলেও সময় করে দেখা করাটা কঠিন। ঢাকা শহরের কোলাহলপূর্ণ জায়গা থেকে বাইরে টাঙ্গাইলে অবস্থিত দেশের একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কিছু স্কুল জীবনের বন্ধু পড়াশোনা করার সুবাদে প্রায়ই তাদের বিশ্ববিদ্যলয়ে ঘুরে আসতে বলত। কিন্তু সেখানে যে একদিন সত্যি সত্যি চলে যাব সেটা হয়ত ভাবা হয়নি। বন্ধুদের কাছে শুনতাম সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা। আর সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নাকি লুকিয়ে আছে অনেক ইতিহাস। তাই একদিন সময় করে রওনা দিয়ে দিলাম সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে আসার উদ্দেশ্যে।

ঢাকা থেকে বাসে যেতে মোটামুটি ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগল। আগে থেকে বন্ধুদের জানিয়ে দিয়েছেলাম বলে বাস থেকে নামতেই দেখি আমার সেই স্কুল জীবনের বন্ধুরা (সুমি হাবীব, মারুফ, মারুফা) আমার জন্য অপেক্ষা করছে। স্কুল বন্ধুদের প্রায় পাঁচ বছর পর দেখে অনেক বেশি উত্তেজনা কাজ করছিল। তখন সময় প্রায় দুপুর ১টা। এরপর টাঙ্গাইল শহরের নিরালায় একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাওয়া শেষ করেই রওনা দিলাম কাক্সিক্ষত সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্দেশে। টাঙ্গাইল শহর থেকে একটু দূরে অবস্থিত এটি। অটোরিক্সায় বসে যেতে প্রায় ২৫ মিনিট সময় লাগল। যেতে যেতেই বন্ধুদের কাছে শুনলাম জননেতা মওলানা ভাসানীর অনেক ইতিহাস, যার জীবনকে ঘিরে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরপর এসে পৌঁছলাম বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান গেটের সামনে। অনেকটা অবাক হলাম যখন অটোরিক্সা থেকে নামতেই বিশ্ববিদ্যলয়ের আমার বন্ধুদের ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইরা আমাকে দেখে আমাদের সবাইকে নাস্তা না করিয়ে ছাড়ল না। এরপর প্রধান গেটের ভেতর দিয়ে যখন হাঁটতে শুরু করলাম তখন মুগ্ধ হলাম এই স্থানের মনোরম নৈসর্গিক পরিবেশে। হাঁটতে হাঁটতেই শুনছিলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিকথা আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম এর সৌন্দর্যে। প্রতিটি জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। এই ক্যাম্পাসের ভেতরেই আছে শিক্ষার্থীদের হল, কেন্দ্রীয় কারাগার, খেলার মাঠ। এছাড়া ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার ভেতরে রয়েছে মওলানা ভাসানীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঐতিহাসিক দরবার হল, প্রখ্যাত সুফি সাধক পীর শাহ জামানের নামানুসারে পীর শাহ জামান দীঘি, মওলানা ভাসানীর মাজার, একটি সমজিদসহ আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। আরও জানতে পারলাম, এই অধিভুক্ত জায়গা ছাড়াও সন্তোষের অদূরে রথখোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি রয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শিক্ষা দেয়া হয়, যাতে তারা মওলানা ভাসানীর নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক জীবন দর্শন সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞানলাভ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এছাড়া রয়েছে একটি শারীরিক শিক্ষা বিভাগ, যেটি শিক্ষার্থীদের জন্য যাবতীয় খেলাধুলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বছরজুড়েই এই ক্যাম্পাসে নানারকম সাংস্কৃতিক কর্মকা- চলে এবং বিশেষ বিশেষ দিবস উদযাপিত হয়। যেমন অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মওলানা ভাসানীর জন্ম ও প্রয়াণ দিবস, পহেলা বৈশাখ বসন্ত বরণ ইত্যাদি।

পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। এখানে বেশ কয়েকটি জমিদার বাড়িও রয়েছে। এই বাড়িগুলো প্রাচীন আমলের। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস ঘুরে ঘুরে দেখা, অনেক অজানা তথ্য জানা আর প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে অনেক অনেক আড্ডার মধ্য দিয়েই দিনটি পার হয়ে গেল। বন্ধুদের অনুরোধে রাতটি থেকে সকালে ঢাকায় ফিরতে হলো।

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

১০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: