মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অভূতপূর্ব সমাধান

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

১৯৪৭ সালে ইংরেজ আইনজীবী স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফের অপরিণামদর্শিতার শিকার হয়ে অবরুদ্ধ জীবনের নারকীয় অবস্থায় বসবাস করতে হয়েছে ছিটমহলগুলোর বাসিন্দাদের। যে মানচিত্র তিনি এঁকেছিলেন দেশ বিভাগকালে তা ভয়াবহ মানবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। তাদের না ছিল দেশ, পতাকা, জাতীয়তা, সরকার, আইনের শাসন, শিক্ষা, চিকিৎসার কোন সুবিধা ও সুযোগ। অভিশাপযুক্ত জীবনে যেন বাইরের পৃথিবীও ছিল দূরঅস্ত। সেই তারা এখন বিশ্বের স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদায় নিজেদের অভিষিক্ত করতে যাচ্ছে। বিশৃঙ্খলময় অবস্থান থেকে মুক্তি পেল ১১১টি ছিটমহলের ৫২ হাজার অধিবাসী। মানবিক বিপর্যয়ের গ্রাস থেকে তাদের উত্তরণ ঘটতে সাতটি দশক পেরিয়ে গেল।

১৯৭৪ সালের ১৬ মে সম্পাদিত মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এক প্রটোকলে সই করেন। চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের বিরোধী কতিপয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতা সত্ত্বে¡ও বেরুবাড়ি হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু ভারতের কোন সরকারই রাজনৈতিক সব দলের সমর্থনের অভাবে বিল সংসদে আনতে পারেনি ২০১১ সালের আগে। জমি হস্তান্তরে ভারতের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হলেও গত চার দশকেও তারা তা করতে পারেনি। ২০১৩ সালে বিজেপি, তৃণমূল, অসম গণপরিষদের বিরোধিতার কারণে কংগ্রেস সরকার সংসদে বিল এনেও পাস করাতে পারেনি। কিন্তু এবার বিজেপি সরকার বিলের বিরোধিতা দূরে থাক, বরং তা পাস করাতে সকল রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছে। নজিরবিহীন ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে চার দশকের ঐতিহাসিক চুক্তিটি প্রাণ পেল। তেমনি প্রাণ পেল এবং মানবিক সঙ্কট মুক্ত হলো দু’দেশের ছিটের জনগণ। সেইসঙ্গে সম্পন্ন হলো দীর্ঘকালের অমীমাংসিত সমস্যাটি। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অচিহ্নিত সীমান্তরেখা ও অপদখলীয় ভূমিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের শঙ্কাও দূর হলো। এ ক্ষেত্রে ভারতের রাজনীতিক, সরকার ও সমাজবিদরা যুগান্তকারী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা তাঁদের সাধুবাদ জানাই। চুক্তিটির বিষয়ে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। যার ফলে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া গেছে। অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। এটা মূলত উভয় দেশের জন্যই একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সাফল্যের দাবিদার দুই দেশের সরকার এবং জনগণ। শেখ হাসিনার কালজয়ী প্রতিভা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনার ফসল হিসেবে এটা জাতির ইতিহাসে অবশ্যই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। চুক্তিটি বাস্তবায়নে আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেসব অনায়াসে হয়ে যাবে বলে সবার ধারণা। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সহজাত বন্ধন একাত্তর থেকেই দৃঢ়। বাংলাদেশের অতীতের সরকারগুলো চুক্তি নিয়ে কোন উচ্চবাচ্চ্য করেনি। বরং শেখ হাসিনাকে শুনতে হয়েছে তাঁর দল ক্ষমতায় এলে দেশ বিক্রি হয়ে যাবে। একটা চুক্তি পাস করা যতটা না কঠিন, বাস্তবায়ন করা তার চেয়েও বেশি কঠিন। তথাপিও এই চুক্তিটি যথাসময়ে কার্যকর হবে দু’দেশের মানুষ তা-ই আশা করে।

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

১০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: