মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তাবিথের খোলা চিঠি ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫, ০১:৪২ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার নানা অনিয়ম ও কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এক দীর্ঘ চিঠি দিয়েছেন ঢাকা উত্তরের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন সাংবিধানিক ও আইনানুগ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনে কেবল ব্যর্থতার পরিচয়ই দেয়নি, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের আজ্ঞাবহ অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন যে কোনভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি সে সম্পর্কে বেশি বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। জনগণ নির্বাচন কমিশনের উপর, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আর কোন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা উত্তরের বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাহক মারফত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বরাবর খোলা চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন থাকে। যাতে দলমতের উর্ধে উঠে নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে এ দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়। অথচ দুর্ভাগ্য, সাংবিধানিক ও আইনানুগ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনে কেবল ব্যর্থতার পরিচয়ই দেয়নি, এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারের আজ্ঞাবহ অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একজন মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের পূর্বে আচরণবিধি ভঙ্গের এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে আপনার কাছে শতাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার আশা করেছিলাম। কিন্তু অভিযোগসমূহ কোনরূপ আমলে না নিয়ে, অভিযোগের কোন তদন্ত না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন সংঘটিত অনিয়মের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে আমলে নিয়ে শক্তভাবে মোকাবেলা করলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারত না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ছিল একেবারেই নির্লিপ্ত। জাতি হতবাক হয়ে প্রত্যক্ষ করল নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ঘোষণা করলেন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন নাকি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মদদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতাসীনদের এত নগ্ন তা-ব এবং কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির এহেন মহোৎসবের পরও আপনি কী ভাবে এ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু আখ্যা দিলেন তা আপনার বিবেক এবং নৈতিকতার কাছে আমার প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে আপনাকে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তাছাড়া চিঠি ও ফ্যাক্সযোগে নির্বাচন কমিশনে ১১৩টি অভিযোগ দায়ের করেছি। অথচ তার কোন প্রতিকার পেলাম না। নির্বাচনের আগে এক ক্ষমতাসীন মন্ত্রী বললেন, যেভাবেই ‘হোক এ নির্বাচনে জিততেই হবে’, তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশনকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল না। বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা নির্বাচন বিধিমালা ভঙ্গ করে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোটদান ও ভোট আদায়ে কাজ করার নির্দেশ দিলে আমি তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আপনার কাছে অভিযোগ করি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বিকার।

নির্বাচনের সময় প্রাথমিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিলেও ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সেনা মোতায়েনের ঘোষণা পাল্টে দিলেন। নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভোট ডাকাতির তা-ব মঞ্চস্থ করা সম্ভব হবে না এ কারণেই সরকারের ইশারায় রাতারাতি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা পাল্টানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করে। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নির্বাচনী মাঠে যে ভোট জালিয়াতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের অধিকাংশই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে মদদ দেয়, ভোট জালিয়াতিতে জড়িয়ে। এহেন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিন সেনা মোতায়েন ছিল অত্যাবশক ও সময়ের দাবি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ছিল একেবারেই নীরব, নির্লিপ্ত।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫, ০১:৪২ এ. এম.

০৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: