মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫
  • অঞ্জন আচার্য

দৈনন্দিন জীবনযাপনের অনেক ক্ষেত্রের মতো এখন চিকিৎসা খাতেও শুরু হয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এটি হতে পারে কার্যকর একটি মাধ্যম। এ কথা সত্য যে, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন হয়ে উঠছে আরও সহজ। এর ফলে পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যেরও। মোবাইল আর ইন্টারনেটের যুগে সব ক্ষেত্রে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব প্রযুক্তি। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশও। তারই প্রমাণ মোবাইল হেলথ সিস্টেম বা মোবাইলে স্বাস্থ্য সেবা। তবে বাস্তবতা এই, সঠিক তথ্যের অভাবে প্রতিদিন সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশে বহু রোগী। স্বাস্থ্যখাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এসব রোগীর সঠিক তথ্য প্রদান করে পৌঁছে দিতে পারে উন্নত চিকিৎসাসেবা। একদিকে আমাদের দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে গ্রাম ও উপজেলায় বসবাসকারী নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে। তাই দেশের শহর ও গ্রামে বসবাসকারী সকল রোগীর কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য দেশের বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এই টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল হেলথ সিস্টেমের (এম-হেলথ সিস্টেম) মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া সম্ভব আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিশ্বের অনেক উন্নয়শীল দেশেই মোবাইল ফোনকে কাজে লাগিয়ে এম-হেলথ সিস্টেমের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। তাই এই মোবাইল ফোন দিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহর কিংবা গ্রামের সকল পেশাজীবীর মধ্যে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে উন্নত চিকিৎসা। আধুনিক এ সিস্টেম ব্যবহার করে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ডিজিটালাইজড করতে পারে অল্প সময়ে ও অল্প খরচে।

যেভাবে সম্ভব

একটি মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (এ্যাপস) যা মোবাইল ফোনে ইনস্টল করেই এই সেবা চালু করা যায়। দেশের বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তাররাই এই সিস্টেম চালু করতে পারবে। এই সিস্টেম দ্বারা একজন রোগী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অল্প খরচে এবং সহজে ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারেন। এর ফলে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে এবং ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসা সেবা সহজে পৌঁছাতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা পেতে সরকারী উদ্যোগ

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাগরিক এখন সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে নিতে পারছেন বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ। সেজন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে (মোট ৪৮২টি হাসপাতাল) দেয়া হয়েছে একটি করে মোবাইল ফোন। আপনিও গ্রহণ করতে পারেন এই সেবা। এসব মোবাইল ফোনের নম্বর স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই লিংক থেকেও (যঃঃঢ়://ধঢ়ঢ়.ফমযং.মড়া.নফ/রহংঃথরহভড়/সড়নরষবংবধৎপয.ঢ়যঢ়) নম্বরগুলোর তালিকা পাবেন আপনি। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কোন না কোন চিকিৎসক রিসিভ করেন এই মোবাইল ফোনের কল। স্থানীয় জনগণ এসব মোবাইল ফোনে ফোন করে হাসপাতালে না এসেই নিতে পারেন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ। এই সেবা চালুর ফলে গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত ধনী-গরিব সকলের জন্যই বিনামূল্যে সরকারী চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিঝুম রাতে, জরুরী প্রয়োজনে বা পথের দূরত্বের কারণে আরও দেরি করার প্রয়োজন নেই চিকিৎসা পরামর্শ পেতে। হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুল বা অপচিকিৎসার ঝুঁকি নেবারও প্রয়োজন নেই। এর জন্য হাসপাতালেও আসতে হবে কাউকে। ওই চিকিৎসা বাড়িতে বসেই সম্ভব। যে চিকিৎসা গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকেই সম্ভব, তার জন্য উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। আবার যে রোগটি জটিল এবং আশু চিকিৎসা প্রয়োজন তার জন্য অযথা এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে সময় নষ্ট না করে বড় হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শটিও পাওয়া সম্ভব একটি মাত্র ফোন কলেই। ব্যস্ত মানুষও রোগের শুরুতেই পরামর্শ নিতে পারেন চিকিৎসকের। এর ফলে রোগ জটিল হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায় অনেক।

এম-হেলথ সিস্টেম

১. সহজেই বিষেশজ্ঞ ডাক্তারের এ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পরামর্শ পাওয়া যাবে।

২. স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে।

৩. দেশের অনুন্নত জায়গাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া যাবে।

৪. রোগের ধরন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

৫. কোন হাসপাতালে কী ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য এর মাধ্যমে পাবেন সব ধরনের মানুষ।

৬. বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জরুরী চিকিৎসা যেমনÑ সাপে কাটা, পানিতে পড়া, আগুনে পোড়া ইত্যাদি সম্পর্কে চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

৭. কোন ল্যাবে কী কী ধরনের টেস্ট হয় সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে।

৮. অনুন্নত জায়গায় কোন রোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা জানানো যাবে।

৯. খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে।

যে কারণে এ সেবা জরুরী

দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে রোগী আসে অসংখ্য। সীমিত জনবল এবং ওষুধপত্র দিয়ে সবসময় মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের কাজটি তাই কঠিনই বটে। মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক প্রচার হলে অনেক রোগী ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। ফলে হাসপাতাল-গুলোর ওপর চাপ কমবে। তখন সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়েই আগত রোগীদের ভাল চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। ফলে বৃদ্ধি পাবে রোগীদের সন্তুষ্টিও। আর এর মাধ্যমেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে দেয়া যাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা। সঠিক চিকিৎসার অভাব তাহলে সারাদেশ থেকেই দূর করা যাবে।

মুঠোফোন এ্যাপস তৈরি করল রাব্বানী ও শফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ডিসটেন্স লার্নিংয়ে ব্রিটিশ ল’ পড়ছেন। তবে ২০০৮ সাল থেকেই আইটি’র ওপর আগ্রহ থেকে সংগঠনের জন্য অনলাইনে প্রচারণার কাজ করে আসছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় অনলাইন লেখক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করেছেন। অন্যদিকে রেজা আইটি বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বিবিএ পড়ছেন বেসরকারী আইএসটিটিতে। সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম ও উন্নয়নের সংবাদ তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি নিউজ পোর্টাল। এ পোর্টালটিতে সংগঠনের সকল কার্যক্রমের তথ্য থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বাঙালী’ শীর্ষক একটি মুঠোফোন এ্যাপস। যা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই সবাই দেখতে পারবে। এতে থাকবে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী, ভাষণ, কর্ম, বিভিন্ন দুর্লভ ছবিসহ নানা কার্যক্রমের বিবরণ। বাংলা ও ইংরেজী এই দুই ভাষাতেই দেখা যাবে এ্যাপসটি।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

০৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: