রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পরোয়ানা পেলেই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫, ০১:২৮ এ. এম.
  • জানালেন ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা পেলেই পুলিশ গ্রেফতার করবে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা ও দগ্ধ করার মামলায় বেগম জিয়াকে হুকুমের আসামি হিসেবে চার্জশীট দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অন্য যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরও এ মামলার আসামি করা হয়েছে। সে হিসেবে বিশ দলীয় নেতা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নাম এসেছে। খালেদা জিয়া ও পলাতক অন্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। আদালতের ওয়ারেন্ট পেলেই গ্রেফতার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ডিএমপি মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, কথিত অবরোধ এবং হরতাল চলাকালে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে একজন নিহত ও ২৯ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন হাসপাতালে মারাত্মক ইনজুরি নিয়ে ভর্তি ছিলেন। এতে আহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ২৯ জন। এর মধ্যে নূরে আলম নামের এক বৃদ্ধ যাত্রী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান।

যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারার ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং আরেকটি হলো বিশেষ ক্ষমতা আইনে। যেহেতু বিস্ফোরকের ব্যবহার হয়েছিল সেই হিসেবে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটিতে মূলত ২০ দলীয় নেতা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। তাঁর ঘোষিত কর্মসূচীর কারণেই মূলত ঘটনাটি তাঁর দলের নেতাকর্মীরা সংঘটিত করে। যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের ৫৮ নম্বর মামলার তদন্ত শেষে বুধবার আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চার্জশীটে ৩৯ জনের সম্পৃক্ততা থাকলেও একজন আসামি ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বাকি ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অনেক ছিল।

ডিএমপি মুখপাত্র বলেন, এ মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনের জবানবন্দী, বিশেষ করে আদালতে ৪ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর প্রেক্ষিতে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং যারা জখম হয়েছিলেন তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়। একজন মারা যাওয়ায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়ছে। আসামিদের মধ্যে ৩১ জন এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন। ৩১ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলাটিতে প্রধান আসামি এবং মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে রয়েছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এছাড়া বিভিন্ন পেশারও কিছু লোক রয়েছেন। যারা তাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থলে ৫ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের ওপর হামলা করায় পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ কাজে যারা অর্থ দিয়েছেন, তাদেরও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতে দাখিলের জন্য বাকি একটি মামলার অভিযোগপত্রও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫, ০১:২৮ এ. এম.

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: