কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খালেদার তিন দুর্নীতি মামলায় রুলের শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫, ০১:০৭ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা নাইকো গ্যাটকো ও বড় পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের ওপর রুলের শুনানি ১৩ মে বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোঃ নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভুইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলার বিরুদ্ধে একটি রিট, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বিরুদ্ধে একটি রিট ও একটি ফৌজদারি মামলা এবং নাইকো দুর্নীতির মামলার বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা করেছিলেন খালেদা জিয়া। এর আগে ৮ এপ্রিল মামলা চারটির শুনানির জন্য হাইকোর্টের নতুন এই বেঞ্চ নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

মামলা তিনটি থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে দুদক। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে) উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এস এম সাহিদুর রহমান তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। পরে এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। খালেদা জিয়া বর্তমানে এ মামলায় জামিনে রয়েছেন।

এদিকে ১/১১ এর জরুরী অবস্থার সময়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোঃ সামছুল আলম। মামলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এতে চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মরহুম), অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মরহুম), শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী শামসুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম তিন মাস স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মামলা দায়ের ও কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনী হবে না জানতে চেয়ে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে রুলও জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মামলার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ মামলায় স্থায়ী জামিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

অন্যদিকে ২০০৭ সালে ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী মতিঝিল থানায় খালেদা জিয়া ও তার কনিষ্ঠ পুত্র সদ্য প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও কমলাপুরের কন্টেইনার টার্মিনালে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য মেসার্স গ্লোবাল এগ্রোটেড লিমিটেডকে (গ্যাটকো) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। এরপর ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্র দায়েরের পর মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটি কেন বেআইনী ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন। সময়ে সময়ে এই স্থগিতাদেশ বাড়ানো হয়। এ মামলাতেও খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। পরবর্তীতে এ বছর দুদকের পক্ষ থেকে এ মামলা তিনটি সচলের আবেদন জানিয়ে রুল শুনানির জন্য আবেদন জানান।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫, ০১:০৭ এ. এম.

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: