কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছোট কাগজ

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

অরণি

সাহিত্যের ছয় মাসের কাগজ ‘অরণি’ জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৪ সংখ্যাটি গত কয়েকটি সংখ্যা থেকে ব্যতিক্রম সাজে বেরিয়েছে। এবারের সূচী দেখলে অন্তত তাই মনে হবে পাঠাকের। চলতি সংখ্যার প্রথম আয়োজন আগ্রহ প্রশমিত করার উপস্থাপন। ‘কেন লিখি’তে পাঠক পাবেন লেখকদের নেপথ্য কিছু বয়ান। রশীদ হায়দার, জুলফিকার মতিন, আব্দুল মান্নান সরকার, মুজিবুল হক কবীর, সুজন হাজারী, নিতাই সেন, আলমগীর রেজা চৌধুরী, সোহরাব পাশা, মনজু রহমান, আবু মাসুম, দীলতাজ রহমান, রহিমা আখতার কল্পনা, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আমিনুল ইসলাম, জাকির তালুকদার প্রমুখ জানিয়েছেন সেসব কথা। কবিতার শিল্পনাও ভাসিয়েছেন বিমল গুহ, হাসান হাফিজ, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, জামাল আহমেদ, বাদল মেহেদী, দুলাল সরকার, সালিম হাসান, সুমন সরদার, ফজলুল হায়দার চৌধুরী, স্বপন মোহাম্মদ কামাল, প্রত্যয় হামিদ, ইফতেখার হালিম, মুহম্মদ আবু তাহের, জব্বার আল নাঈম, সোহেল মাহবুব, শাহজাহান ইমতিয়াজ প্রমুখ। প্রবন্ধ লিখেছেন বাবু রহমান, হামিদ রায়হান, মহিবুর রহিম, আলী রেজা। মুহম্মদ আবদুল মাননান, আনোয়ারা আজাদ, সালেহ আহমাদ, রাশেদ রহমানের গল্প পাঠক পাবেন এ সংখ্যায়। কবি অরুণাভ সরকারকে স্মরণ করেছেন আর এক কবি সাযযাদ কাদির, তাঁকে নিয়ে আরও লিখেছেন হেনা সুলতানা। কবি তিতাশ চৌধুরীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন মাহমুদ কামাল।

মুক্তগদ্যে কবিতা নিয়ে মহসিন শস্ত্রপাণির ভাবনা পাঠককে নিঃসন্দেহে ভাবাবে। উদ্বুদ্ধ করবে নতুন লিখিয়েদের নতুন জগৎ অনুসন্ধানে। স্বল্প পরিসরে ফরিদ আহমদ দুলাল চেষ্টা করেছেন প্রিয় লেখকদের সম্পর্কে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে। কেন ওলেন্ডের একটি লেখা বাংলায় ভাষান্তর করেছেন স ম আজাদ ‘রক্তস্নাত সাম্রাজ্য’ নামে। লেখায় মূল লেখক পরিচিতি থাকলে অনেকটা বুঝতে সুবিধা হতো। বার বার ঊর্ধ্ব কমার অপব্যবহার দৃষ্টিকটু। খান মাহবুবের ভ্রমণকথা ‘শুভলং ও চিম্বুকের পথে’ আরও গভীর ও বিস্তৃতির দাবি রাখে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যাটি উতরে গেছে। ছোটকাগজ হিসেবে ঢাকার বাইরে থেকে ‘অরণি’র নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রাখা এবং ২০টি সংখ্যা পার করা কম শ্রমসাধ্য নয়। সম্পাদক মাহমুদ কামালের এ একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও ছোটকাগজের প্রতি ভালবাসা দায়বদ্ধতাকে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করা নয়; প্রকাশনা অব্যাহত থাকুক এ শুভকামনা। আরিফুর রহমানের প্রচ্ছদ চমৎকার।

গল্পপত্র

গত শতাব্দীর ৮-এর দশকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একবার প্রশ্ন তুলেছিলেনÑ আমাদের ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অনেক বিতর্ক-বিত-া হয়েছে। মেলেনি সদুত্তর, হয়নি মীমাংসা। আলোচনা চলছে, সমৃদ্ধ হচ্ছে এ সংক্রান্ত সমালোচনা, তেমনি একটি গল্পবিষয়ক চমৎকার আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্কম-িত মলাটবন্দী শব্দভা-ার আমরা পেলাম সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘গল্পপত্র’-এ। নানা কারণেই সংখ্যাটি সমৃদ্ধ। একটি ঐশ্বর্যপূর্ণ কাজ করেছেন সম্পাদক। সবদিক দিয়েই আকর্ষণীয় এবং সংরক্ষণযোগ্য ৫ম বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যাটি। চলতি সংখ্যাটি গল্পকার সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র বেরিয়েছে; আছে পাশাপাশি ছোটকাগজ সম্পাদক, নিষ্ঠাবান গদ্যকর্মী অকাল প্রয়াত কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে স্মরণ। অনেক গদ্য রচনার মাঝে বিশিষ্ট একটি স্বাদ পাবেন পাঠক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রথম গল্প ‘বিশাল মৃত্যু’ পাঠে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের দীর্ঘ সাক্ষাতকারে বিবৃত হয়েছে অতীত-বর্তমানের গল্পের গতি-প্রকৃতি ও তাঁর গল্পভাবনা। উঠে এসেছে গল্প লেখার প্রেরণার গল্প। তাঁর এবং সৃষ্টিকর্মের ওপর আলোকপাত ভাষ্য ও মূল্যায়ন করেছেন মশিউল আলম, জাকির তালুকদার, পাপড়ি রহমান, সাইমন জাকারিয়া, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, জিয়া হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, মনি হায়দার, কাজল রশীদ, নীলিমা আফরোজ, তানভীর আহমেদ শিউলি, আসাদ আহমেদ, ধীরেন মুখার্জী, আহমদ জসীম, সোলায়মান সুমন, আশরাফ উদ্্দীন আহমদ, মনোজিৎ কুমার দাস প্রমুখ।

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে স্মরণ, মূল্যায়ন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন মামুন হুসাইন, শামীম আজাদ, মাহবুব মোর্শেদ, ভাগ্যধন বড়ুয়া। হাসান আজিজুল হকের সৃজনশীলতার দুয়ার গদ্যে পাওয়া যাবে তাঁর সাম্প্রতিক কাজ ও ভাবনা সম্পর্কে ধারণা। রসালো অথচ তীর্যক বাক্যবাণে একজন সম্পাদকের বাস্তবতার চিত্র ফুঠে উঠেছে হর্ষ দত্তের বিবরণীতে। একটি কৌতূহল নিরসনমূলক বিষয় ‘কেন লিখি’তে নিজের দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছেন, ভি এস নাইপল, নবনীতা দেবসেন, আনিসুল হক, শাহাবুদ্দীন নাগরী, জুলফিয়া ইসলাম। ভ্রমণ-গল্প লিখেছেন সরকার আমিন। এ সংখ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ গল্পবৈঠক। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সঞ্চালনায় তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন গল্পকার জানিয়েছেন গল্পের বাঁকবদল, বিষয়-অনুষঙ্গ, বৈশ্বিক অবস্থান, আকাশ সংস্কৃতির দৌরাত্ম্যের কবলে বাংলা কথাসাহিত্য প্রসঙ্গে। সে ভাবনা ও অভিমত ব্যক্তিক নয়, হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। বস্তুত বাংলা গদ্য সম্পর্কে এক অমূল্য ভাষ্য হয়ে থাকবে বৈঠকের শব্দভা-ার। এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আহমাদ মোস্তফা কামাল, পাপড়ি রহমান, শাহনাজ মুন্নী, চঞ্চল আশরাফ, অদিতি ফাল্গুনী, হামিদ কায়সার, মনি হায়দার, ঝর্ণা রহমান, সুমন্ত আসলাম, আসরার মাসুদ, ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ, শৈলজানন্দ রায়। বর্তমান মোদ্দাকথা দু-একটি মুদ্রণপ্রমাদ ছাড়া একটি প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল কাজ গল্পের চারণ ভূমিখ্যাত গল্পের কাগজ গল্পপত্র এ সংখ্যাটি। সম্পাদক মাসউদ আহমাদ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন বটে।

রাঢ়বঙ্গ

‘রাঢ়বঙ্গ’ ছোটকাগজটির ২য় বর্ষ ২য় সংখ্যার মূল আকর্ষণ কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুকে নিয়ে ক্রোড়পত্র। কবির ৭টি কবিতাসহ তাঁর সাক্ষাতকার পাঠকের জন্য বিশেষ উপহার। কবির ওপর আলোকপাত করেছেন বাবলু জোয়ারদার, তপন বাগচী, হিমেল বরকত, অনুপম হাসান, ম হেলাল, মতিন বৈরাগী, কামরুল বাহার আরিফ, প্রত্যয় হামিদ প্রমুখ।

কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুকে নিয়ে স্মৃতিগদ্য লিখেছেন কামরুল হাসান, সিরাজুদ্দৌলাহ বাহার। কবিকে নিয়ে লেখকপঞ্জি উল্লেখযোগ্য রচনা।

এ সংখ্যায় কবিতা লিখেছেন আরিফুল হক কুমার, ওয়ালী কিরণ, জলিল আহমেদ, কামরুজ্জামান গোপন, মোজাম্মেল বিশ্বাস, আবু দায়েন, মোস্তফা তারিকুল আহসান, ওবায়েদ আকাশ, মুক্তি ম-ল, শামীম হোসেন। গল্প দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন মামুন হুসাইন, কবীর রানা, চন্দন আনোয়ার, তারিক স্বপন, মোজাফফর হোসেন। নান্দনিক প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজিব রায়। চলমান সংখ্যাটি সব মিলিয়ে চমৎকার আয়োজন। বিশেষ করে তারুণ্যের প্রিয় সামাজিক দায়বদ্ধ কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুকে নিয়ে ক্রোড়পত্র সংগ্রহে রাখার মতো। সম্পাদক অনুপম হাসান এজন্য ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

নন্দন

‘নন্দন’ বেরিয়েছে কাজলা, রাজশাহী থেকে। ১৩তম সংখ্যাটির লেখা বাছাই ও বিভাগ সৃষ্টিতে বৈচিত্র্যের ছাপ স্পষ্ট। প্রচ্ছদ আকর্ষণীয়। বিদেশী চিত্র অবলম্বনে এঁকেছেন আসিফ মাহমুদ। প্রবন্ধ দিয়েই শুরু হয়েছে রচনাক্রম। লিখেছেন মোহাম্মদ আজম, সায়ীদ আবুবকর, সোহেল হাসান গালিব, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ‘লেখা নিয়ে লেখা’ বিভাগটি অভিনব। বিখ্যাত উপন্যাস বা গল্পের স্মরণীয় চরিত্রগুলোর বিশ্লেষণ করেছেন ভগীরথ মিশ্র। কবিতায় সমৃদ্ধ করেছেন সরকার মাসুদ, খুরশীদ আলম বাবু, মনজুর মুহাম্মদ, মইনুস সুলতান, মহিবুব রহিম, মিজান রহমান, কুমার সুমন, নভেরা হোসেন, সৌম্য সালেক, অজয় রায়, আক্তারুজ্জামান লেবু, মাহাফুজা হিলালী, মিজানুর রহমান সোহেল, রোদ্র রায়হান। ছোটগল্প লিখেছেন নুরুল করিম নাসিম, নাজিব ওয়াদুদ, নুর কামরুন নাহার, আশরাফ উদ্দীন আহমদ, আবেশ কুমার দাস, রেজা ঘটক, অর্নব মজুমদার। বিদেশী রচনা পর্বে রয়েছে ওলাভ হেগের কবিতা। ভূমিকা লিখেছেন ও ভাষান্তর করেছেন অংকুর সাহা। বইপত্র বিভাগে রয়েছে অঞ্জলি দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে খুরশীদ আলম বাবুর আলোচনা। হামিদ রায়হানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘টোটেম ও জলতমা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন কাজী নাসির মামুন। হাসান মুস্তাফিজুর রহমানের উপন্যাস ‘যখন রাত্রি নামে’র ওপর আলোকপাত করেছেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ। বেশ সাজানো গোছানো ‘নন্দন’ আরও নান্দনিক হয়ে উঠুক এ কামানা। সম্পাদক নাজিব ওয়াদুদ ধন্যবাদ প্রত্যাশা করতেই পারেন।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: