মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নারীহীন উত্তরপ্রদেশ!

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক নারী পাচারের শিকার হন। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র ভারত থেকেই বছরে অর্ধ লক্ষাধিক নারী পাচার করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাচারের একাংশ সংগঠিত হয় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যেই। ভারতের বেশকিছু সংস্থা নারী পাচার বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর পর দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশ হলো এই পাচার হয়ে যাওয়া নারীদের শেষ আশ্রয়স্থল। কেন? উত্তর কারও অজানা নয়। জানা যায়, ভারতের অন্যান্য প্রদেশের চেয়ে মেয়েশিশু হত্যার হার উত্তর প্রদেশেই বেশি। এ চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। আসুন জেনে নেই এ বিষয়ে বিস্তারিত।

এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশে বিবাহযোগ্য পুরুষ আছেন মোট ৫৯ লাখ। এরা নারীর অভাবে বিয়ে করতে পারছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে নারীহীনতার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালানো হয় বেশ কয়েকবার। এই অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে মেয়েশিশু হত্যার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক আদমশুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশে কুড়ি বছর বয়সসীমার তরুণ যখন ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার, তখন একই বয়সসীমার তরুণী মাত্র ২৯ লাখ ২৬ হাজার। এ ধারাবাহিকতা ত্রিশ বছর বয়সসীমার নারী পুরুষের ক্ষেত্রেও। ত্রিশের কোটার পুরুষ যখন নয় লাখ ১৩ হাজার, একই বয়সী নারী তখনএক লাখ ৯৫ হাজার। চল্লিশের কোটার পুরুষসংখ্যা তিন লাখ তিন হাজার, চল্লিশের কোঠার নারীসংখ্যা মাত্র ৫৯ হাজার ৩৯৯।

উল্লেখ্য, ভারতের আলোচিত গোবলয় অঞ্চলে কয়েক শত বছর ধরেই মেয়েশিশুদের বিভিন্ন কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলের উচ্চবর্ণের ঠাকুর থেকে শুরু করে নিচু জাতের মানুষ মেয়েশিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ামাত্রই তার মুখে লবণ ঠেসে দিত। নবজাতকের শরীরে লবণের বিষক্রিয়ায় জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যেত শিশুটি। এরপর সেই আঁতুড়ঘরেই মাটিচাপা দেয়া হতো মৃত নবজাতককে। বিখ্যাত লেখক উইলিয়াম সøীম্যানের রচিত অ ঔড়ঁৎহবু ঃযৎড়ঁময ঃযব করহমফড়স ড়ভ ঙঁফব, ঠড়ষঁসবং ও ্ ওও বইয়ে উত্তরপ্রদেশের মেয়েশিশুদের ওপর বর্বরতার বিস্তারিত আখ্যান পাওয়া যায়। লেখক উইলিয়াম ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বইটি রচনা করেছিলেন।

২০১১ সালে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের কিছু অঞ্চলে একজন নারীকে একের অধিক পুরুষ মিলে বিয়ে করছেন। শুধু তাই নয়, ওই রিপোর্টে ভিন্ন রাজ্য থেকে নারী অপহরণ করে এনে জোরপূর্বক বিয়ে করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছিল। এ দুটি তথ্য আমাদের উত্তরপ্রদেশের সামগ্রিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে। এছাড়া চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় সরকারের নারী এবং শিশু উন্নয়নমন্ত্রী মেনকা গান্ধী এক বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে হরিয়ানার ৭০টি গ্রামে কোন মেয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করেনি।

অপর এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, হরিয়ানা রাজ্যে প্রতি এক হাজার গর্ভধারিণী নারীর মধ্যে ১৫০-২২৫জন নারীর গর্ভের মেয়েশিশু হত্যা করা হয় গর্ভেই। শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও ভারতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন মেয়েশিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। কোথাও গর্ভে থাকাকালীন, কোথাও প্রসবের পর লবণ খাইয়ে কিংবা গলা টিপে মারা হয়।

উত্তরপ্রদেশের নারীদের এই দুরবস্থা ঠেকাতে বেশকিছু বেসরকারী সংস্থা এগিয়ে এসেছে। এরকম কয়েকটি এনজিও মারফত জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের অনেক নারীই অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য ভিন্ন ধর্মের পুরুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। পাশাপাশি অনেকে ভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরাজিতা ডেস্ক

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: