মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্ভ্রমহানির ধৃষ্টতা ॥ লজ্জায় অবনত সারা দেশ

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫
  • রীনা আক্তার তুলি

বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী। নারী বলতে পৃথিবীর অন্যতম প্রাণী মানুষের স্ত্রী-বাচকতা নির্দেশক রূপটিকে বোঝানো হয়। নারী কখনও মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রী। আদিকাল থেকে পুরুষশাসিত এ সমাজে নারী প্রতিমূহূর্তে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। শুধু বৈষম্যের শিকারই নয়, রাস্তায় বের হলেই নারীরা প্রতিদিনই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বর্তমান পশ্চাদপদ সমাজগুলোতে পুরুষরা নারীদের সহযাত্রী বলে মেনে নেয় না। বরং নারীর প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন। তাই নারীদের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা এখন প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধ। পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের ওপর হামলার ঘটনা আবারও সে কথাই প্রমাণ করেছে। এ ঘটনায় সম্ভ্রামহানির সম্মুখীন হয়েছেন তিন নারী। তোলপাড় সারাদেশ, লজ্জায় অবনত বাংলাদেশ।

বাঙালী জাতিসত্তার মহাসম্মিলন বাংলা নববর্ষ। এখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে এসে সামিল হয়, আনন্দ ভাগাভাগি করে। বাঙালী জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে, পালন করে। বাঙালীর মাঝে বাঙালী হারিয়ে যায়, আড্ডায় মশগুল আর বাড়িতে বাড়িতে বৈশাখের গন্ধের আমেজ বাতাসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। যে চেতনা লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে পারে, বাঙালী সেই চেতনাকেই উজ্জীবিত করে নববর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে।

এবারের ১৪২২ বাংলা বর্ষবরণ ছিল একটু অন্য রকম। ৯২ দিনের রাজনৈতিক হিংসা-প্রতিহিংসার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঙালী জাতি একটু প্রশান্তির স্পর্শ অনুভব করেছে। প্রাণ খুলে আনন্দ-উৎসব উদ্যাপন করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু সেটাকেও মলিন করে দিয়েছে একটি কুচক্রি মহল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে নারীর শ্লীনতাহানির চেষ্টা বর্বর পশুকেও হার মানিয়েছে। আবার অন্যদিকে জগন্নাথ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গাতেও নারীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে কতিপয় পশুপ্রবৃত্তির লোক।

দেশের সচেতন মানুষের মতে, মানবাধিকার রক্ষায় তরুণ ও যুব সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পহেলা বৈশাখে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা সভ্যসমাজ কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সারাদেশে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। এমন কি প্রত্যক্ষদর্শীরা দু’জনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে দিয়েছিল। পুলিশ তাদেরও ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বেশকিছু ষড়যন্ত্রকারী বলাবলি শুরু করেছে যে, মেয়েদের পোশাক উত্তেজক ছিল উগ্র ছিল। তাই তারা আক্রমণের শিকার হয়েছে।

সচেতন মহল বলেছে, দক্ষিণ ভারতের মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ পরে, কিন্তু কোন ধরনের ওড়না পড়ে না। কিন্তু তারা তো আক্রান্ত হচ্ছে না। ইউরোপ, আমেরিকা, পূর্ব এবং উত্তর এশিয়ার সব দেশেই মেয়েদের পোশাক-আশাক ছেলেদের চেয়ে ছোটখাটো। কই সেখানে তো কোন সমস্যা হচ্ছে না!

গ্রামীণ সমাজের দিকে দৃষ্টি দেয়া যায়, বাংলাদেশের গ্রামের সাধারণ নারীরা এখনও ব্লাউজ পরে না। সবার সামনে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে, এটা তো কারও কাছে অশ্লীল মনে হয় না। তারা পুরুষের সঙ্গে একই পুকুরে গোসল করে, পুকুরপাড়ে কাপড় পরিবর্তন করে। কই কোথাও তো কেউ তাদের পোশাক নিয়ে, চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তাহলে ঢাকা শহরের মতো জায়গায় মেয়েদের ওপর এত পাশবিকতা হলো কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, পুলিশকে বলা হয়েছে জড়িতদের খুঁজে বের করতে। এ ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে বলা হয়েছিল, বিকেল ৪টার মধ্যে উদ্যানের গেট বন্ধ করে দিতে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্বে অবহেলা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে দু:খজনক হলো, ঘটনা তদন্তে আদৌ কোন অগ্রগতি নেই।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: