আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন প্রজাতির বর্ণিল বামন ড্রাগন

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫
  • এনামুল হক

দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ পেরু ও ইকুয়েডরে বামন ড্রাগনের তিনটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সরীসৃপটির সাধারণ নাম কাঠ-গিরগিটি। নব আবিষ্কৃত তিন প্রজাতি হলো অলটোট্যাম্বো উড লিজার্ড (ইনিয়ালিওইডেস অলটোট্যাম্বো), রাফ-স্কেলড্ উড লিজার্ড (ই, এনিসোলেপিস) এবং রথচাইল্ডস্ উড লিজার্ড (ই, সোফিয়ারথ চাইল্ডে)।

পৌরাণিক কাহিনীতে আমরা যে ড্রাগনের উল্লেখ দেখতে পাই, কাঠ-গিরগিটি দেখতে তারই ক্ষুদে সংস্করণ। দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যে সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে রঙ্গিন যেসব গিরগিটি দেখতে পাওয়া যায়, এগুলো তার অন্যতম। ইকুয়েডরে রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে এই সরীসৃপগুলোকে শনাক্ত করতে প্রায় এক দশক সময় লেগে গিয়েছিল। এই আবিষ্কারের ফলে কাঠ-গিরগিটির মোট প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়াল ১৫। ২০০৬ সালে যতগুলো প্রজাতির অস্তিত্ব জানা ছিল, এখন তার সংখ্যা দাঁড়াল প্রায় দ্বিগুণ।

বিজ্ঞানীরা নতুন প্রজাতি ই, অলটোট্যম্বোর প্রথম সন্ধান পান ২০০৫ সালের নবেম্বরে উত্তর ইকুয়েডরের এলিটোট্যাম্বো গ্রামে। এদের শরীর প্রায় পাঁচ ইঞ্চি লম্বা, উজ্জ্বল সবুজ ও কালো রঙের এই শরীরের বেশিরভাগ অংশজুড়ে মসৃণ আঁকা আছে। এদের এক নিকটাত্মীয় প্রজাতির ই, অসহফনেসি ১৮৮১ সাল থেকে পরিচিত। এদের সঙ্গে নতুন প্রজাতিটির চেহারাগত যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে।

কিন্তু বিজ্ঞানী দল অলটোট্যাম্বোকে ল্যাবে নিয়ে আসার পর একটা বড় ধরনের পার্থক্য দেখতে পান। সেটি হলো এই নতুন গিরগিটির চোখজোড়া বাদামি রঙের। তবে মণির চারপাশে সোনালি রঙের বলয় আছে। অন্যদিকে ই, অসহফনেসির চোখজোড়া উজ্জ্বল লাল। তারা আরও লক্ষ্য করেন যে, অলটোট্যাম্বোর আঁশগুলো ই, অসহফনেসির আঁশের তুলনায় মৃসণ।

একটি নমুনা এই আবিষ্কারকে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বিজ্ঞানীরা আরেকটি নমুনা খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাঁচ বছর কেটে যায়। কারণ এই গিরগিটিগুলো ইকুয়েডরের এমন এক অঞ্চলের যেখানে ফিল্ড রিসার্চ চালানো নিরাপদ নয়। ২০১৪ সালে ফিল্ড রিসার্চরা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্ত এলাকায় কাজ করার সময় কাঠ-গিরগিটির বিরাট একটি দলের সন্ধান পেয়ে যান, যাদের গলার দিকটা সুস্পষ্ট রকমের সাদা এদের আঁশগুলো কাটাযুক্ত এবং সারা শরীরে কালো ফোটা ফোটা দাগ। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রজাতি থেকে এরা স্পষ্টতই আলাদা। এদের এক শ্রেণীর নাম ই, এ্যানিসোলেপিস এবং অন্য একটি শ্রেণীর নাম ই, সোফিয়ারথশিলডেই।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: