রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আঙ্গুলের ছাপ স্বতন্ত্র নয়!

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি একটি আধুনিক ও অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর পদ্ধতি। যদিও অপরাধীদের কৌশলের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিও অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কেননা অপরাধীরা অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করে

প্রথমে কোন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়। তারপর ইতোমধ্যে ডাটাবেজে সংরক্ষণকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত অজানা ফিঙ্গারপ্রিন্টের তুলনা বা ম্যাচ করা হয়। ডাটাবেজে সংরক্ষিত কারও ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে যদি ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ করে, তাহলে তাকে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিংবা ম্যাচিংয়ের ওপর নির্ভর করে আরও কিছু তথ্য-প্রমাণ দেখা হয়। তবে ডাটাবেজের মধ্যে অপরাধী শনাক্ত করা না গেলে, আরও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এজন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেই মূলত ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং মূলত তিনভাবে করা হয়। খালি চোখে দেখে ম্যাচিং, যেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি; ম্যাগনিফাইয়িং গ্লাস দিয়ে দেখে ম্যাচিং; কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাচিং। আঙ্গুলের ছাপের রেখা বিশ্লেষন করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজে লাগানো হয়।তবে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্রে ডান হাতের চেয়ে বাম হাত ব্যবহার করা উচিৎ।

কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইমেজকে স্ক্যান করে ডাটাবেজে সংরক্ষিত অনেক ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয় কোন প্রকার ম্যাচ আছে কিনা। ইমেজ ম্যাচিং প্রক্রিয়াকে কোরিলেশন (ঈড়ৎৎবষধঃরড়হ) বলা হয়। গধঃপযবফ ভরষঃবৎ ব্যবহার করে দুটি ইমেজের মধ্যে কোরিলেশন বের করা যায়, যেটি ম্যাটল্যাবে (গঅঞখঅই হচ্ছে সিগনাল প্রসেসিং ফিল্ডে সর্বাধিক ব্যবহৃত টুল) সহজেই করা যায়।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট-এর ওপর গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছেন। যেহেতু এখন পর্যন্ত মানুষের স্বতন্ত্র ডিএনএ প্রোফাইল পরিবর্তনের কোন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়নি। ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট হচ্ছে, দুটি জীবের ডিএনএ ধারাকে তুলনা বা ম্যাচ করার একটি পদ্ধতি। দেহের যে কোন নমুনা থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করা হয়। সন্তানের পিতা-মাতা শনাক্তকরণ, ধর্ষক ও খুনী চিহ্নিতকরণ, জন্মগত রোগ নির্ণয়, ইমিগ্রেশনে সত্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে ডিএনএ’র কিছু ইউনিক প্যাটার্ন রয়েছে বলেই ব্যাপারটি সম্ভব হচ্ছে। অপরাধীর দেহের যে কোন কোষ, রক্ত, থুতু, বীর্য, শুক্র, চামড়া, চুল ইত্যাদির ডিএনএ টেস্ট করে শনাক্ত করা যায়। মৃতদেহ বা কঙ্কাল থেকে ডিএনএ নিয়েও এসব করা যায়। অপরাধী ধরতে এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প ছিল না এতকাল। ঘটনার স্থান থেকে আঙ্গুলের ছাপ পেলেই অপরাধ শনাক্তের ঝক্কি কমে আসে। এতদিন ধারণা করা হতো, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। অথচ এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধারণাটি নাকি মোটেই শতভাগ কার্যকরী নয়। তাদের দাবি, আঙ্গুলের ছাপ মোটেও স্বতন্ত্র নয়। এটি বদলাতে পারে, কোন কোন ক্ষেত্রে একই ছাপ কয়েকজনেরও হতে পারে!

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এক্সপার্ট মাইক সিলভারম্যান বিষয়টি প্রথম বিশেষজ্ঞদের নজরে এনেছেন। বেশ কয়েকবছর ধরে আঙ্গুলের ছাপের কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করার পর সিলভারম্যান এ তথ্য জানান। সিলভারম্যানের ভাষ্য, নানা কারণে আঙ্গুলের ছাপ বদলে যেতে পারে। বয়সের কারণ, পরিস্থিতি, আঙ্গুলের অবস্থান ইত্যাদি নানা কারণে ছাপ ভিন্ন হতে পারে। এমনকি একই ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিরও মিল থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের পুলিশ বিভাগের জন্য নির্মিত প্রথম স্বয়ংক্রিয় আঙ্গুলের ছাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের এ উদ্ভাবক। সিলভারম্যান জানান, আজ পর্যন্ত কোন পরীক্ষাতেই আঙ্গুলের ছাপ যে শতভাগ স্বতন্ত্র, তা প্রমাণিত হয়নি।

অবশ্য গত কয়েকবছর ধরেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট-সংক্রান্ত তীব্র জটিলতায় পড়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। সাধারণত, ৯৫ শতাংশ মিল পেলেই ছাপ দুটো ‘ম্যাচিং’ করেছে বলে ধরে নেয়া হয়। এই মিল দু-তিনজন ব্যক্তির ছাপেও হতে পারে। কারও ক্ষেত্রেই পরপর দুটো পরীক্ষায় আঙ্গুলের ছাপে শতভাগ মিল থাকে না। এছাড়া বয়স বাড়লে শরীরের চামড়া ঝুলে যায়। তখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট একইরকম থাকে না। যুক্তরাজ্যের পুলিশ বিভাগ এজন্য আঙ্গুলের ছাপ নির্ণয়ের প্রযুক্তি বাদ দিয়ে অন্য দিকে ঝুঁকছে।

সূত্র : টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: