কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘আমাদের দেশে ভাল মিউজিশিয়ানের অভাব’ -ওয়ারফেজ

প্রকাশিত : ৭ মে ২০১৫

১৯৮৪ সালের ৬ জুন। ৮৯ লেকসার্কাস কলাবাগান ঠিকানায় যাত্রা শুরু করে দলটি। আরও চার বছর পরে প্রথমবারের মতো কনসার্টে অংশ নেয়। ১৯৯১ সালের ২২ জুন, স্বনামে বাজারে আসে প্রথম এ্যালবাম। হার্ড রক এবং হেভি মেটাল ধাঁচের এই বাংলা গানগুলো কিছু শ্রোতা লুফে নেন শুরুতেই। তবে, আরও ভালভাবে জনপ্রিয়তা পেতে অপেক্ষা করতে হয় কিছুটা সময়। আস্তে আস্তে এ কান ও কান করে গোটা দেশ জেনে যায় নতুন একটি গানের দলের নামÑ ‘ওয়ারফেজ’।

আনন্দকণ্ঠকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ওয়ারফেজের টিপু।

সঙ্গে ছিলেন মাহবুবুর রহমান সজীব

বয়স ত্রিশের কোটা পেরিয়েছে, আর কতটা পথ পেরোতে চায় ওয়ারফেজ?

ইচ্ছে তো আছে অনেকদিন যেন আমরা কন্টিনিউ করতে পারি; অন্তত যতদিন সুস্থ আছি, বেঁচে আছি।

বাংলা গানের সেই রমরমা পরিবেশ এখনও কি আছে?

হ্যাঁ, এখনও যে কোন ধরনের অনুষ্ঠান দর্শক-শ্রোতা ভালই তো দেখি। তাদের উচ্ছ্বাসও বেশ থাকে। আধুনিক গান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, রক গান বা জারি গানÑ যাই হোক না কেন, সব যায়গায়ই কিন্তু লোকজন আসে এবং আনন্দিতও হয়।

ত্রিশ বছর, খুব দীর্ঘ একটা সময়। এই সময়ের তুলনায় আপনাদের এ্যালবাম সংখ্যা কম হয়ে গেছে বলে মনে হয় না?

বছরে বছরে যে এ্যালবাম করতেই হবে, এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা একটা এ্যালবাম অনেক চিন্তা করে করি। তবে হ্যাঁ, এ্যালবামের সংখ্যাটা আরেকটু বাড়তে পারত। অন্তত আরও দুটি। আমাদের লাইনআপ পরিবর্তন, সদস্যদের দেশের বাইরে থাকাÑ এসব বিভিন্ন কারণে সব মিলিয়ে সংখ্যাটা একটু কম হয়ে গেছে।

বেশ ক’বারই তো বদলেছে ওয়ারফেজের লাইনআপ। এর মধ্যে কোনটি সেরা আপনাদের চোখে?

এটা আসলে বলা মুশকিল। এভাবে বলাটা ঠিকও না। আমি যদি শ্রোতাদের কথা বলি, তারা কেউ কেউ বলে, আমাদের প্রথম-দ্বিতীয় এ্যালবামের লাইনআপ তাদের কাছে প্রিয়, আবার অনেকে বলে ‘আলো’ এ্যালবামের লাইনআপটা প্রিয়, কেউ বলে ‘পথচলা’ এ্যালবামের লাইনআপটা প্রিয়। আমরা আসলে যাকেই নিয়েছি, সবকিছু খুব চিন্তা করেই নিয়েছি।

এখন তো প্রচুর পরিমাণে সফটওয়্যার শিল্পীদের আনাগোনা। তাদের কারও কারও গান নিচ্ছেও কিন্তু শ্রোতারা। শ্রোতাদের এই যে পরিবর্তন, এর জন্য দায়ী কারা?

এটা তো অনেকভাবেই বলা যায়। যেহেতু টেকনোলজির যুগটা এসেছে, আমরা এই আবিষ্কারটাকেও দায়ী করতে পারি। হা হা হা ... শিল্পীদের মন মানসিকতার ওপরও দায়টা বর্তায় অনেকাংশেই। আমি যদি মনে করি, আমি তো একা মানুষ, আমার কাছে ভাল মিউজিশিয়ান নেই, এছাড়াও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে; তো সফটওয়্যারের মাধ্যমে যা যা পারি, সেভাবেই করে ফেলি। কী আর করা! আসলেই এখন আমাদের দেশে ভাল মিউজিশিয়ানের অনেক অভাব। এই অভাবটা না থাকলে কিন্তু সফটওয়্যারের ওপর ঝোঁকটা কম হতো। আরও কিছু জিনিস ... যেমন, স্টুডিও কস্ট, রেকর্ডিং ফেসিলিটিজ ইত্যাদি অনেক বিষয় আছে। সফটওয়্যারে করলে অনেক সময় বেঁচে যায়। সাউন্ড কোয়ালিটিটাও একটু অন্যরকম হয়। এটা হয়ত কিছু কিছু গানের ক্ষেত্রে ভাল লাগে মাঝেমাঝে, সবসময় না। তবে, এটাকে আমরা খুব একটা সমর্থন করি না।

এখন যারা গান করছে, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গানের কথাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। ভিডিওটাই যেন সব। গানটা যাচ্ছে তাই হোক, ভিডিওটা বাণিজ্যিক হলেই হলো। এই বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন?

এখন অডিওর যুগ না, ভিজ্যুয়ালের যুগ। লোকজন এখন শুধু শোনার চেয়ে দেখা-শোনা দুটিই একসঙ্গে পছন্দ করে। শিল্পীরাও তাই ঝুঁকছে সেদিকেই।তবে,যেভাবে গড়পড়তাভাবে হচ্ছে ভিডিওগুলো, এটা ঠিক না। একটু সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ভাল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো সবকিছুই বদলাচ্ছে। গানও ...

এই বদলে যাওয়াটা আমরা কেউই ঠেকিয়ে রাখতে পারব না। আমাদেরও তাই সময়টা চিন্তা করেই কাজ করতে হয়। তবে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিভাবে একজন শিল্পী তার নিজস্বতাকে উপস্থাপন করবে, এটা তার ওপরই নির্ভর করে।

নতুন এ্যালবামের কোন খবর আছে কি?

চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ বছরই দু-একটা নতুন গান শ্রোতারা পাবে, পুরো এ্যালবাম না মনে হয়। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের অনেক নতুন গান করা আছে।

এ্যালবাম করতে না চাওয়ার কারণটা...

এখন মিউজিক ইন্ডাস্ট্র্রির যে অবস্থা, এই অবস্থায় একটা এ্যালবাম করতে চাইলে অনেক এফোর্ট দিতে হয়; কিন্তু রিটার্নটা ঠিকভাবে পায় না শিল্পীরা। এই জিনিসটা গোছানো হচ্ছে। দেখা যাক কী হয়। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে সিনিয়র-জুনিয়ররা অনেক আগ্রহী হবে এ্যালবাম করার জন্য।

গওই-এর আয়োজিত গানমেলা কতটুকু উপকারী হবে আমাদের সঙ্গীতশিল্পের জন্য?

তাদের সঙ্গে বেসিকালি আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তবে উদ্যোগটা ভাল।

গওই নাকি গানমেলার জন্য ব্যান্ডদলগুলোকে আমন্ত্রণই করেনি!

এটা আমি ঠিক বলতে পারব না। আমরা কোন আমন্ত্রণপত্র পাইনি, এটা সত্যি। তারা নাকি কয়েকটা ব্যান্ডকে গান গাইতে বলেছিল, সেটা আমি শুনেছি। কিন্তু কথাটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা, জানি না।

ব্যান্ড সঙ্গীতকে আলাদা করে কিছু করতে চাইলে তো শ্রোতারা আলাদা হয়ে যাবে। বিভাজন সৃষ্টি হবে শিল্পীদের মধ্যে। এটা তো সঙ্গীতশিল্পের জন্য ভাল হচ্ছে না!

অবশ্যই এটা ভাল হচ্ছে না। তারা যদি নিজেরাই বিভাজন সৃষ্টি করে, সেটাতে আমরা কী করতে পারি? আমাদের যে অধিকার, সেটা আমাদের কাছেই থাকবে; এটাই আমাদের প্রধান বিষয়। আর কিছু না ...

স্টেজে গাইতে গিয়ে ঘটেছে, এমন একটি মজার ঘটনা ...

হা হা হা ... এই প্রশ্নটা করলেই আটকে যাই। অনেক কিছুই ঘটে তো, হুট করে আর মনে পড়ে না। আসলে শো করাটাই আমাদের জন্য অনেক মজার।

ওয়ারফেজের স্বকীয়তা...

আমরা কখনও একটি বা দুটি গানকে সুপারহিট করার চিন্তা করে এ্যালবাম করিনি। আমাদের লক্ষ্য থাকে, একটা এ্যালবামে যদি দশটা গান করি, ওই দশটা গানের মধ্যে ন্যূনতম আটটা গান শ্রোতারা খুব ভালভাবে নেবে ...

এখন কে কে আছেন?

আমি, কমল, শামস্, রজার, মিজান এবং সামির।

প্রকাশিত : ৭ মে ২০১৫

০৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: