মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ডালমিয়ার কণ্ঠে বাংলাদেশের প্রশংসা

প্রকাশিত : ৭ মে ২০১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরনো বন্ধু জগমোহল ডালমিয়া। সেই ডালমিয়া এখন বিসিসিআইয়ের (দ্য বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) সভাপতি। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে যখন আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসনকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হলো, তখন মনে করা হয়েছিল জুনে বাংলাদেশ সফরে আসবে না ভারত। কিন্তু জগমোহন ডালমিয়া যেহেতু বিসিসিআইয়ের শীর্ষ পদে আছেন, তখন আশাও ছিল। শেষ পর্যন্ত জুনে বাংলাদেশ সফরে আসা নিশ্চিত হয়ে গেছে ভারতের। যখন ভারত আর একমাস পর বাংলাদেশ সফরে আসবে, এর আগে ডালমিয়ার কণ্ঠে বাংলাদেশের প্রশংসা ঝড়েছে। সেই প্রশংসা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দুর্দান্ত খেলাতেই মিলেছে।

ডালমিয়া কলকাতার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি তো সব সময় চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে দাঁড়াতে। ওরা যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পেল, তখন আমি আইসিসির প্রেসিডেন্ট, আর আমি ‘গ্লোবালাইজেশন অব দ্য গেমে’ বিশ্বাসী সব সময়। বাংলাদেশ নিজের মাটিতে তো ইদানীং বেশ ভাল খেলছে। এই তো পাকিস্তানকে ৩-০ হারিয়ে দিল ওয়ানডেতে।’

আইসিসিতে তার ‘শাসনামলেই’ বাংলাদেশ পেয়েছিল টেস্ট স্ট্যাটাস। সেই সময় থেকে এখন অবধি অনেক পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের যা পারফর্মেন্স তাতে ক্রিকেট বিশ্বেই দেশটিকে বড় শক্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৭ জুন এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশে আসছে ভারত। সফরসূচী এরইমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১০ জুন ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্ট শুরু হবে। এরপর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৮, ২১ ও ২৪ জুন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে খেলা হবে।

এ সিরিজটির দিকে তাকিয়ে আছেন ডালমিয়া। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্তভাবে সিরিজ জয় করে নেয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি উপভোগ্য হবে বলেই মনে করছেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ বেশ উপভোগ্য হবে, আমার আশা। আমি তো অপেক্ষা করছি আগ্রহ নিয়ে।’

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনও তরতাজা। ম্যাচে ভারত দলের সঙ্গে যেন আম্পায়াররাও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলেন। তাই বোঝা গেছে। অন্তত রুবেলের ফুলটস বলে ‘নো’ ডেকে রোহিত শর্মাকে যে আউট থেকে বাঁচিয়ে দেন আম্পায়াররা, এরপর জায়ান্ট স্ক্রিনে ‘জিতেগা ভাই জিতেগা, ইন্ডিয়া জিতেগা’ ভেসে উঠে; এসব কিছুতেই ষড়যন্ত্রের গন্ধই মিলে।

ম্যাচ যখন শেষ হয় তখন আইসিসি সভাপতি থেকে পদত্যাগ করা বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আইসিসির বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন। আইসিসির চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনকে তো ‘যা-তা’ বলেছেন। ‘নোংরা লোক শ্রীনিবাসন’ বলতেও ছাড়েননি কামাল। তখন মনে করা হয়েছিল শ্রীনিবাসন না আবার ভারতের বাংলাদেশে আসা থামিয়ে দেন। কিন্তু বিসিসিআইয়ে যে এখন আর শ্রীনি’র দাপট নেই, তা বোঝা যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত তাই হলো। ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট প্রাপ্তিতে যেমন ‘বন্ধুত্বে’র হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ডালমিয়া, ঠিক তেমনি ১৫ বছর পর আবারও বুঝিয়ে দিলেন, বন্ধুত্বের বন্ধন নষ্ট হয়নি। বরং দৃঢ় হয়েছে আরও। সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশংসাও করলেন ডালমিয়া।

প্রকাশিত : ৭ মে ২০১৫

০৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: