মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পড়াশোনা

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • অর্থনীতি ২য় পত্র

অধ্যায়-এক, শাখা মানবিক

* প্রশ্ন: জাতীয় আয় কী? জাতীয় আয় পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি আলোচনা কর।

উত্তর : কোন নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোন দেশে বিদ্যমান সম্পদকে ব্যবহার করে যে পরিমাণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয়, তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে জাতীয় আয় বলে।

মনে করি, কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের চূড়ান্ত উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার পরিমান হলো ঢ১,ঢ২,ঢ৩....ঢহ এবং তাদের বাজার মূল্য যথাক্রমে চ১,চ২,চ৩....চহ সেক্ষেত্রে জাতীয় আয় হবে

ণ = চ১ঢ১ + চ২ঢ২ + চ৩ঢ৩+..........চহঢহ

= ----চওঢও যেখানে র=১.২.৩....হ

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় আয়-

 অধ্যাপক মার্শালের মতে,“ কোন দেশের শ্রম ও মূলধন তার প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বার্ষিক যে পরিমাণ বস্তুগত ও অবস্তুগত দ্রব্য সামগ্রী ও সেবাকর্ম সৃষ্টি করে, তার সমষ্টিকে জাতীয় বলে।

 অধ্যাপক ফিসারের মতে,“ জাতীয় আয় হলো কোন নির্দিষ্ট সময়ের আয়ের যে অংশ অর্থ দ্বারা পরিমাপ করা যায় তাই জাতীয় আয়।

অতএব বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন দেশের উৎপাদনের উপকরণসমূহ দ্বারা প্রাপ্ত প্রাকৃতির সম্পদকে কাজে লাগিয়ে যে বস্তুগত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন হয় তার আর্থিক মূল্যই হচ্ছে জাতীয় আয়।

জাতীয় আয় পরিমাপের পদ্ধতিসমূহ: জাতীয় আয় পরিমাপের জন্য সাধারণত তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যথা

ক) উৎপাদন পদ্ধতি ( চৎড়ফঁপঃ সবঃযড়ফ)

খ) আয় পদ্ধতি (ওহপড়সব গবঃযড়ফ)

গ) ব্যয় পদ্ধতি (ঊীঢ়বহফবঃঁৎব গবঃযড়ফ)

নিম্নে এসব পদ্ধতির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ক) উৎপাদন পদ্ধতি: এই পদ্ধতি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের উৎপাদিত চূড়ান্ত বস্তুগত, অবস্তুগত দ্রব্য সামগ্রী ও সেবা কর্মের আর্থিক মূল্য যোগ করা হয়। এই পদ্ধতিতে কোন আর্থিক বছরের উৎপাদিত দব্য ও সেবা কমর্রে পরিমাণকে নিজ নিজ গড় দাম দ্বারা গুণ করে গুণফলের সমষ্টি নির্ণয় করা হয়।

ধরি, একটি দেশে ঢ১,ঢ২,ঢ৩....ঢহ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয়েছে যার গড় দাম যথাক্রমে চ১,চ২,চ৩....চহ ।এই অবস্থায় ঐ দেশের উৎপাদন পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হবে।

ঘও = চ১ঢ১ + চ২ঢ২ + চ৩ঢ৩+.........+চহঢহ

= ----চওঢও [ যেখানে র=১.২.৩....হ]

সতর্কতা: উৎপাদন পদ্ধতিতে জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে।

১। শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা ধরতে হবে।

২। যে সব দ্রব্য ও সেবা আর্থিকভাবে বিনিময় হয় না তা জাতীয় আয়ের হিসাবে ধরা হয় না।

৩। মোট জাতীয় আয় থেকে অবচয় ব্যয় বাদ দিতে হবে।

৪। এ পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হিসাবের সময় দ্রব্যের বাজার মূল্য হতে কর বাদ দিতে হবে।

৫। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ যোগ করতে হবে ও বিদেশীদের প্রাপ্তি বাদ দিতে হবে।

৬। মুদ্রাস্ফীতির ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে কিনা খেয়াল করতে হবে।

৭।পুরাতন মূলধন সম্পত্তির হিসাবে ধরা হয় না।

৮। জাতীয় আয় থেকে হস্তান্তর পাওনা বাদ দিতে হবে ও সরকারী ভর্তুকি যোগ করতে হবে।

খ) আয় পদ্ধতি (ওহপড়সব গবঃযড়ফ): এ পদ্ধতি অনুযায়ী জাতীয় আয় নির্ণয়ের আয় যোগ করা হয়। উপকরণসমূহের আয় বলতে শ্রমিকের পারিশ্রমিক হিসাবে মুজরি। জমির খাজনা, মজুরি, মূলধনের সুদ ও সংগঠনের মুনদফাকে বুঝোনো হয়।

সমীকরণ আকারে প্রকাশ করলে পাই-

ঘও =ঊি +ঊজ+ঊর+ঊঞ-ঞচ

সতর্কতা: এ পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হিসাবের সময় যে সব বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে-

১) হস্তান্তর পাওনা: হস্তান্তর পাওনা যেমন- বেকারভাতা। বিধবা ভাতা ইত্যাদি জাতীয় আয়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।

২। অবণ্টিতা মুনাফা: যৌথ মূলধনী কারবারের অবণ্টিত মুনাফা জাতীয় আয়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। সেবামূলক কাজ: যে সব কাজের বিনিময় মূল্য নেই তা জাতীয় আয়ের হিসেবের সময় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৪। অনুপাদনশীল সরকারী ঋণ: সরকারের অনুৎপাদনশীল খাতের সুদের ঋণ জাতীয় আয়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।

৫। উৎপাদনকারীর নিজস্ব উৎপাদন: উৎপাদন কাজে উৎপাদনকারীর ব্যবহৃত উপাদানের দাম বাদ দিতে হবে।

৬। দ্বৈত গণনা: জাতীয় আয় হিসাবের সময় যে দ্বৈত গণনা না হয় তা খেয়াল করতে হবে।

৭। বৈদেশিক বানিজ্য: বৈদেশিক বাণিজ্যের নীট পাওনা যোগ ও নীট দেনা বিয়োগ করতে হবে।

গ) ব্যয় পদ্ধতি (ঊীঢ়বহফপঃঁৎব গবঃযড়ফ): এ পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হলো কোন নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সকল প্রকার ব্যয়ের যোগফল। সমাজের মোট ব্যয় বলতে জনগণ ও সরকারের মোট ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়কে বোঝায়।

সমীকরণের সাহায্যে প্রকাশ করলে পাই

ণ= প(ঈঢ়+ঈঢ়হ) + ও(ওঢ়+ওঢ়হ)

ঈঢ়=সরকারী ভোগ

ঈঢ়হ=বেসরকারী ভোগ

ওঢ়=সরকারী বিনিয়োগ

ঊঢ়হ= (বেসরকারী বিনিয়োগ)

সতকর্তা: এ পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হিসেবের সময় যেসব বিষয় খেয়াল করতে হবে তা হলো

১.হস্তান্তর পাওনা: বেকার ভাতা, বিধবা ও বার্ধক -ভাতা ইত্যাদি জাতীয় আয়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।

২. সেবামূলক কাজ: যে সব কাজের আর্থিক বিনিময়মূল্য নেই তা জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৩. অনুপাদশীল সরকারী ঋণ: অনুপাদনশীল কাজের জন্য সরকার যে সুদ প্রদান করে তা জাতীয় আয়ের হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হবে না।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: