মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে ‘সীমান্ত ব্যাংক’ হচ্ছে বিজিবির

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • লভ্যাংশ ব্যয় হবে কর্মীদের পেছনে

রহিম শেখ ॥ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে ‘সীমান্ত ব্যাংক’ নামে নতুন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ব্যাংকটির পুরো লভাংশ ব্যয় হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পেছনে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে এ ব্যাংকটির ঘোষণা আসবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সীমান্ত ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বিজিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি সপ্তাহ অনুষ্ঠানে এ ধরনের একটি ব্যাংক গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর থেকে এ ধরনের ব্যাংক গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নীতিগত অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সূত্র ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যাংক নামে একটি তফসিলি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ অনুযায়ী ওই ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় চারশ’ কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন হবে। এর একশ’ কোটি টাকা বিজিবির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। অবশিষ্ট ৩০০ কোটি টাকা সহজ শর্তে সরকারী ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের ব্যাপারে অনুমতি দিলে এরপর এটি যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আইনে লাইসেন্স ও অনুমতি দেয়ার পর এর কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় পরিশোধিত মূলধনের ব্যাপারে অনুমতি দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সীমান্ত ব্যাংকের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ ব্যাংক গঠনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। পাশাপাশি বিজিবির কাছে কল্যাণ ফান্ডের ১০০ কোটি টাকা আছে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা তাদের জোগাড় করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগ প্রতিষ্ঠানের সচিব ড. এস আসলাম আলম জনকণ্ঠকে বলেন, সীমান্ত ব্যাংক গঠনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এসেছে। এ ব্যাংকের মূলধন হবে ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে একশ’ কোটি টাকা বিজিবির কল্যাণ ফান্ড থেকে দেয়া হবে।

অবশিষ্ট ৩০০ কোটি টাকা সহজ শর্তে সরকারী ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে এ ব্যাংকটির ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি জানান। জানা গেছে, সীমান্ত ব্যাংকের লভাংশের পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের নানামুখী কল্যাণে। এ ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হবে। এছাড়া থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশী ও বৈদেশিক চিকিৎসা সহায়তা। এছাড়া বিবাহঋণ, কৃষিঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ঋণ কার্যক্রমেও সহায়তা দেয়া হবে। এ ব্যাংক শুধু বাণিজ্যিক লভাংশের জন্য পরিচালিত না হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ কল্যাণমুখী একটি আধুনিক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: