রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কুক-এ্যান্ডারসনের সিরিজে উইন্ডিজও!

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

হতাশা কাটিয়ে ফর্মে ফিরেছেন অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক, দুরন্ত বোলিংয়ে সিরিজসেরা জেমস এ্যান্ডারসন- দু’জনই ইংলিশ তারকা, তবু অমীমাংসিত সিরিজটা উইন্ডিজের হয় কি করে? উত্তরটা সহজ। ক্রিস গেইলসহ সাত-আটজন তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়া স্বাগতিকরা এবার মোটেই ফেবারিট ছিল না। সেই তারাই প্রথম টেস্ট ড্র করার পর, দারুণভাবে শেষ ম্যাচ জিতে তিন টেস্টের সিরিজে হার ঠেকিয়ে দিয়েছে। ক্যারিবীয়দের জন্য উইজডেন ট্রফির ড্রর আনন্দটা তাই জয়ের সমান!

ব্রিজটাউনে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টেস্টে অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুকের সেঞ্চুরির (১০৫) ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে অলআউট ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৫৭ রান। জবাবে এ্যান্ডারসনের পেস-তা-বের (৬/৪২) মুখে ১৮৯ রানে শেষ উইন্ডিজ! ৬৮ রানের এগিয়ে থেকে শুরু করা ইংলিশদের হারানো সম্ভবÑ এমনটা হয়ত ক্যারিবীয়রাও আশা করেনি। স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৩ রানে অলআউট এ্যালিস্টার কুকের দল! তৃতীয় দিন ৬২.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯২ রান তুলে নেয় উইন্ডিজ (১৯৪/৫)। যার মধ্য দিয়ে সিরিজে সমতার পাশাপাশি দীর্ঘ ৬ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ব্রায়ান লারার উত্তরসূরিরা। জ্যামাইকায় ২০০৯ সালে সর্বশেষ জিতেছিল তারা।

২০০০ সালের পর ইংলিশদের বিপক্ষে ৩০ টেস্টে ক্যারিবীয়দের মাত্র তৃতীয় জয় এটি। তার ওপর ক্রিস গেইলসহ ৬-৭ জন তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই এবার শক্তিধর ইংল্যান্ডকে মোকাবিলা করে উইন্ডিজ। ব্রিজটাউনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের জয় তাই ক্যাবিবীয়দের জন্য বড় পাওয়া। প্রথম ইনিংসে ২শ’র নিচে অলআউট হওয়ার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০০৩ সালে, স্যাবাইনা পার্কে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ১২৩/১০Ñ২০১২ সালের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস এটি। ব্রিজটাউনে ভূতুড়ে দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়েছে ১৮টিÑ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে একদিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট পতনের রেকর্ড। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি উইকেট পড়েছিল একবারই। সেই ম্যাচটিও ছিল এই দু’দলের মধ্যে। ২০০০ সালে লর্ডসে দ্বিতীয় দিনে পড়েছিল ২১ উইকেট। কার্টলি এ্যামব্রোসকে ছাড়িয়ে পেসার হিসেবে ইতিহাস গড়তে আর মাত্র ৯টি উইকেট চাই তার জেমস এ্যান্ডারসনের। ড্র হওয়া প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান করা অধিনায়ক দিনেশ রামদিনকে সিøপে এ্যালিস্টার কুকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ইতিহাস গড়া ৩৮৪তম উইকেটটি নেন ইংলিশ সেনসেশন। সেটি ছিল তার ১০০ টেস্ট। ১০২ টেস্টে ৩৮৩ উইকেট নিয়ে ওপরে ছিলেন কিংবদন্তি স্যার ইয়ান বোথাম (১৯৭৭-১৯৯২)। এ্যান্ডারসন এন্টিগায় নেমেছিলেন ৩৮০ উইকেট সঙ্গী করে। প্রথম ইনিংসে ২, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও ২ উইকেট নিয়ে ‘ইংলিশ সিংহাসনে’ অধিষ্ঠিত হন তিনি। ইংল্যান্ড ইতিহাসের সর্বাধিক শিকারী বনে যাওয়া সিরিজসেরা এ্যান্ডারসনের মোট উইকেট এখন ৩৯৭। ‘জিমির জন্য গোটা ইংল্যান্ড জাতিই আজ গর্বিত। সে পরিপূর্ণ এক বোলার। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে আসছে। অনেক অনেক জয়ে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই সময়ে ওর বোলিং আমি উপভোগ করেছি। ‘নাম্বার-ওয়ান’ হওয়াটা তাঁকেই মানায়।’ বলেন বোথাম।

কুকের গল্পটা ভিন্ন। বুকের ওপর থেকে পাথর নেমে গিয়েছিল দ্বিতীয় টেস্টেই। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ফর্মে ফিরেছিলেন দারুণ দুটি হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে, দল পেয়েছিল ৯ উইকেটের বড় জয়। তৃতীয় টেস্টেও হাসে তার ব্যাট। কঠিন সময় পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানো কুক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৬ নম্বর সেঞ্চুরি, যদিও শেষ পর্যন্ত শেষ টেস্ট হেরে সিরিজে ড্রতেই শান্তি খুঁজতে হয়েছে তাঁকে! প্রথম ইনিংসের একেবারে শেষ বলে (৮৯.২ ওভার) আউট হওয়ার আগে ২৬৬ বলে ১২ চারের সাহায্যে ১০৫ রান করেন কুক। দুই বছর পর ক্যারিয়ারের ২৬তম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দেশের হয়ে রেকর্ড সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক (২৩ সেঞ্চুরি নিয়ে তাঁর পেছনে কেভিন পিটারসেন) লিডসে ২০১৩ সালের ২৪ মে পেয়েছিলেন আগের সেঞ্চুরি। মাঝে উত্থান-পতন কত কী! হারিয়েছেন ওয়ানডের নেতৃত্ব, এমনকি বিশ্বকাপ দলেও সুযোগ হয়নি আধুনিক ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের!

ও হ্যাঁ, প্রথম টেস্টে দারুণ ড্রর পথে জেসন হোল্ডারের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরির কথাও আলাদা করে বলতে হয়। ইংল্যান্ডের নিশ্চিত জয় কেড়ে নেন উইন্ডিজ ওয়ানডে অধিনায়ক! প্রবাদ আছে ‘রতনে রতন চেনে’। বিশ্বকাপের আগে আচমকাই জেসন হোল্ডারকে ওয়ানডে অধিনায়ক করেছিলেন প্রধান নির্বাচক ক্লাইভ লয়েড। অনেকেই তখন ভ্রƒকুঁচকেছেন। দুরন্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দারুণ পারফর্মেন্স, ‘আন্ডারডগ’ ক্যারিবীয়দের শেষ আটে তুলে নেন হোল্ডার। ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ বলতে যা বোঝায়। তাই বলে টেস্টেও এমন কীর্তি? এন্টিগা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আট নম্বরে নেমে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে (১০৩*) ইংল্যান্ডের নিশ্চিত জয় কেড়ে নেন ২৩ বছরের বার্বাডিয়ান! প্রথম ইনিংসে ৩৯৯ রানে অলআউট হওয়া সফরকারী ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ৩৩৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৯৫Ñএ গুটিয়ে যাওয়া ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৫০ রান করে ইংলিশদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়। আট নম্বরে নেমে ১৪৯ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ও বল হাতে ৪ উইকেট (২+২) নিয়ে ম্যাচসেরা হন হোল্ডার। শততম টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৮৪ উইকেট নিয়েও জয়হীন থাকতে হয় জেমস এ্যান্ডারসনকে।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: