রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চাই প্রথম দুটি ম্যাচেই জয়

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • রুমেল খান

উঠন্তি মুলা পত্তনেই যায় চেনা- এই প্রবাদ প্রবচনটিই এখন বড় সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য। সাফল্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে, সেই সাফল্যকে যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করে নেয়াটাই হচ্ছে আসল ব্যাপার। সামনের মাসেই সাফল্যের পথে উত্তীর্ণ হতে অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে লোডভিক ডি ক্রুইফের শিষ্যদের। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের গ্রুপপর্বের আট ম্যাচের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে স্বাগতিক হিসেবে। ফিফার সাম্প্রতিক সময়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘বি’ তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, জর্দান ও অস্ট্রেলিয়া। হোম ও এ্যাওয়ে মিলিয়ে বাংলাদেশ খেলবে আট ম্যাচে। প্রথম দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। আগামী ১১ জুন কিরগিজস্তান এবং ১৬ জুন তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। আর এই দুটি ম্যাচেই জিততে চায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই দুটি ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ না হোক, অন্তত ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জনের পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ফলে হোম ম্যাচ দুটিকে ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই হেড (ডাচ্) কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ ও গোলরক্ষক (জার্মান) কোচ ক্রিস্টিয়ান শোয়েচলার ঢাকায় এসে কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা নতুন ও মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজছেন। কয়েকজন নতুন বা আগে জাতীয় দলে খেলেছেন, এমন ফুটবলার এবার জাতীয় দলে খেলবেÑ এমন আভাসই দিয়েছেন ক্রুইফ।

বাছাইপর্বের এই দুই হোম ম্যাচ খেলার আগে বাংলাদেশ দল অন্তত দুটি প্রীতিম্যাচ নিজেদের মাটিতে খেলতে চায়। আগামী ৪ জুন প্রথম প্রীতিম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ‘বেঙ্গল টাইগার’রা। আর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রীতিম্যাচটি হবে ১৪ মে। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ১৪ মে ম্যাচটি আয়োজন করলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ বন্ধ রাখতে হবে কয়েক দিন। সেক্ষেত্রে অচিরেই লীগ কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে।

তবে এর আগে সিরিয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে দুটি প্রীতিম্যাচ খেলার কথা শোনা গেলেও দুই দলই তাদের দেশে গিয়ে খেলতে হবে বলে বাফুফেকে শর্ত দিয়েছে। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ না খাওয়ার ফলে বাংলাদেশ যাচ্ছে না ওই দেশ দুটিতে খেলতে।

চলমান লীগে নতুন অনেকের খেলা দেখেই পছন্দ হয়েছে ক্রুইফের। সংখ্যাটা ৪০-৫০ জন। লীগের প্রথম পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পর পরই ক্যাম্প শুরু করতে চান তিনি। কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচ দুটি শুরু হবে বাফুফের পছন্দমতো। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ৩টায়। পছন্দমতো সময় বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে কিরগিজস্তান-তাজিকিস্তান শীতপ্রধান অঞ্চলের দুই দেশ। তারা গরমে খেলে অভ্যস্ত নয়। আর এই সুবিধাটাই কাজে লাগাতে চায় বাফুফে।

জগতে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। যেমন কোন আইন বা নিয়মই কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। সময়ের পরিক্রমায়, কালের আবর্তনে অনেক কিছুই বদলে যায়। এই যেমন বদলে গেছে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ ফুটবলের বাছাইপর্বের ফরম্যাট। আর এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবলে না হোক, অন্তত এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ঠাঁই করে নেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, যার জন্য বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন।

কয়েক মাস আগে ফিফার ঘোষিত র‌্যাংকিং বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য সুখবর বয়ে আনে। দেখা যায়, র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১৬৫ নম্বরে (এশিয়ান র‌্যাংকিং ৩৪)। গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত র‌্যাংকিং থেকে এক ধাপ পিছিয়ে গেলেই নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে খেলতে হতো এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ। কিন্তু ১৬৫তম (৩৪) অবস্থান ধরে রাখায় বাংলাদেশ দল সুযোগ পায় সরাসরি গ্রুপপর্বে খেলার। গত ৮ জানুয়ারি ঘোষিত ফিফা র‌্যাংকিংকে ভিত্তি ধরেই এএফসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সঙ্গে বদলে যায় এএফসির টুর্নামেন্টগুলোর ধরনও। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী ২০১৯ এশিয়ান কাপ ১৬ দলের পরিবর্তে ২৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যাংকিংয়ের প্রথম ২৪ দেশ পাবে এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলার সুযোগ। ২৫ থেকে ৩২তম স্থানে থাকা দেশগুলো খেলবে এএফসি কাপে। ৩৩ থেকে ৪৭তম স্থানে থাকা দেশগুলো লড়বে এএফসি কাপের জন্য বাছাইপর্বে। চ্যালেঞ্জ কাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে আরও বড় পরিসরে।

এখন থেকে এশিয়ান কাপ এবং বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলাগুলো একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। বাছাইপর্বে সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সেরা ৩৪ দেশের মধ্যে স্থান করে নেয়াতেই বাংলাদেশের জন্য খুলে যায় এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। এশিয়ার ৪৭ দেশ এএফসির সদস্য। এরমধ্যে র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা ১২ দেশকে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হবে। এশিয়ার শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের ঠিক পেছনে (৩৫) হওয়ায় ভারতসহ ১২ দেশ পড়ে যায় প্লে-অফ ম্যাচ খেলার তালিকায়। প্লে-অফ ম্যাচে জয়ী ছয়টি দেশ শীর্ষ ৩৪ দলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই ৪০ দেশ এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলবে। ৪০ দেশকে ৮ গ্রুপে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় রাউন্ড। প্লে-অফ খেলতে হবে না বলে বাংলাদেশ কমপক্ষে ৮ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ২০১৯ সালে আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের আসরে খেলবে বাংলাদেশ- এই স্বপ্ন বাংলাদেশী সব ফুটবলপ্রেমীর। সেটা সত্য হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: