কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আপন মহিমায় উজ্জ্বল ইমরুল

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
আপন মহিমায় উজ্জ্বল ইমরুল
  • মাহমুদা সুবর্ণা

সৌভাগ্যই বলতে হবে ইমরুল কায়েসের। কেননা এনামুল হক বিজয়ের ইনজুরির কারণেই বিশ্বকাপে ডাক পান তিনি। কিন্তু দারুণ সেই সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হলেন ইমরুল। বিশ্বকাপের পর নিজেদের মাটিতে যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ডাক পান ইমরুল। তখন সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। আর সেই সমালোচনার জবাবটা ব্যাটেই দিয়ে দিলেন এই ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক শত রানের ইনিংস উপহার দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন ইমরুল এখনও হারিয়ে যাননি।

তবে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজের সবশেষ ম্যাচেও দুর্দান্ত এক শ’ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও জ্বলে উঠলেন ইমরুল কায়েস। পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে নিজেকে আবারও মেলে ধরলেন বাংলাদেশের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও চতুর্থ দিনেই শতক করে ফেলেছিলেন ইমরুল কায়েস। সেদিন ১৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। যা তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক। সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শত রানের রেকর্ড। আগের ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে ১৩০ রান করেছিলেন তিনি। সেটিই ছিল খুলনা টেস্টের আগে ইমরুলের ক্যারিয়ার সেরা। আর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন সেই রানকেও অতিক্রম করে ফেলেন ইমরুল। পঞ্চমদিনে আরও ১৮ রান যোগ করে আউট হন তিনি।

খুলনা টেস্টে বাংলাদেশ দল যে পাকিস্তানকে বেশ ভালই ভুগিয়েছে সেটা অনেকেরই জানা। তামিমের সঙ্গে ইমরুল আবার যে কোন উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটিও গড়েন। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইমরুল কায়েসের টেস্ট অভিষেক হয়। সেই থেকে দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন ইমরুল। ২০১২ ও ২০১৩ সালে তো ইমরুলের কোন টেস্ট খেলাই হয়নি! ২০০৮-২০১১ পর্যন্ত ১৬ টেস্ট খেলে ১৭.১৫ গড়ে যে ৫৪৯ রান করেছিলেন ইমরুল। কোন শতরানের ইনিংস ছিল না তার। সেখানেই দল থেকে দীর্ঘদিন ছিটকে পড়ার কারণ মিলে যায়। কিন্তু যেই ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন, ইমরুলও যেন বদলে গেলেন। চার টেস্টেই ২০ টেস্ট খেলা ইমরুল এমনই পারফর্মেন্স উপহার দিলেন এখন যেন ইমরুল ছাড়া তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে আর কোন বিকল্পই ভাবতে হচ্ছে না। ২০১৪ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্ট পর্যন্ত খেললেন চার টেস্ট, তিনটিতেই শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন তিনি। যেখানে আগের ১৬ টেস্টে রান করেছিলেন ৫৪৯, সেখানে চার টেস্টেই তার রান ৫২০! তাও আবার তিন শতকও এ সময়েই করেছেন। ২০১৪ সালে আবার জাতীয় দলে ফিরেই প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমরুল। মাঝখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্টে ব্যর্থ হন। এরপর আবার যেই চট্টগ্রামে নবেম্বরে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান, প্রথম ইনিংসেই ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন। এবার ওয়ানডেতে যতটাই ইমরুলের ব্যাটিং ব্যর্থতা চোখে পড়েছে, টেস্টে দুর্বার ইমরুলকেই দেখেছে ভক্ত-অনুরাগীরা। খুলনা টেস্টে ১৫০ রানের ইনিংস খেলে এক হাজারি ক্লাবেও ঢুকে যান তিনি। যেখানে আগেই বাংলাদেশের ১২ ব্যাটসম্যান ছিলেন। খুলনা টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে কোন প্রতিপক্ষের উদ্বোধনী জুটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০ রানের বেশি করতে পারেনি। সেখানে ৩১২ রান করেছে বাংলাদেশ। তামিম-ইমরুলের সৌজন্যেই তা সম্ভব হয়েছে। এ জুটি আরও বড় হতে পারত, কিন্তু ইমরুল আউট হতেই উদ্বোধনী জুটির অবসান ঘটে। তবে আউট হওয়ার আগে যে অসাধারণ এক ইনিংস খেললেন তাতেই নিজের জাত চেনালেন ইমরুল কায়েস।

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ইমরুলের দলে জায়গা পাওয়ার গল্পটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। কেননা অধিনায়ক ও দলের উইকেটকিপার মুশফিকুর রহীম হাতে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে। অধিনায়কত্ব না হয় তামিম করবেন। কিন্তু উইকেটের পেছনে দাঁড়াবেন কে? ঘরোয়া ক্রিকেটে ২/১ ওভার দলের প্রয়োজনে কিপিং করেছেন। তাই বলে আন্তর্জাতিক ম্যাচে! কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সাহসই দেখালেন ইমরুল। দেড় দিন টানা কিপিং করে ব্যাট হাতে নেমে সেঞ্চুরি। নিজেকে কি তাহলে সাঙ্গাকারার সঙ্গে তুলনা করবেন নাকি অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের জায়গাতে! ইমরুল সংবাদ সম্মেলনে দারুণ লজ্জা পেয়েই উড়িয়ে দিলেন তা। এ বিষয়ে তার অভিমত ছিল, ‘আমি তো সাঙ্গাকারার আশপাশেও নেই।’ তবে কিপিংটা যে উপভোগ করেছেন তা বলতে দ্বিধা করলেন না, ‘মুশফিক ইনজুরিতে পড়ার পর কথা হচ্ছিল, কে কিপিং করবে? আমিই বলছিলাম, আমি পারব। কিপিং উপভোগ করছিলাম।’

পাকিস্তান সিরিজের আগে বিশ্বকাপে বাজে পারফর্মেন্স করে ভীষণভাবে সমালোচিত ছিলেন দলের এই ওপেনার। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ব্যাটে রান ছিল না। তবে কোচে ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস ছিল তিনি হয়ত পারবেন। কিন্তু ইমরুলের বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তাকে রাখা হবে টেস্টের দলে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টেস্ট দলে থাকব কিনা জানতাম না। আমি বিশ্বকাপে রান না পাওয়ায় অনেক কথা হয়েছে। বিসিএলেও রান পাইনি। আমি শুধু কঠিন পরিশ্রম করে গেছি। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছে।’ কিপিং করার পর সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চতুর্থ দিন মাঠ ছেড়েছিলেন ইমরুল। কিন্তু পঞ্চম দিন তামিম ইকবালের মতো তিনিও জাগিয়ে ছিলেন সেঞ্চুরি সম্ভাবনা। কিন্তু এত লম্বা সময় কিপিং আর ব্যাটিং করে মাঝের রাতটি তিনি এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারেনি। পার্টনার তামিম ইকবালকে সেই যন্ত্রণার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। নিজের সেই নির্ঘুম রাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমি রাতে ৫ মিনিটও ঘুমাতে পারিনি। হয়ত বেশি ক্লান্ত ছিলাম।’ শেষ চার ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি। এর পরও তিনি ঢাকা পড়ে যান তামিম-মুশফিক-সাকিবদের পারফর্মেন্সের আড়ালে। দর্শকরা অনেকটা মনেও রাখেন না তাকে। এই বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের মানুষের মনে থাকে না।’

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: