মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে আফ্রিকাকে

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

একদা অন্ধকার মহাদেশ রূপে পরিচিত আফ্রিকায় নতুন নতুন প্রযুক্তি চালু ও পরিব্যাপ্ত হচ্ছে। আফ্রিকানদের জীবনকে তা বদলে দিচ্ছে। এতদিন শুধু হামলার কাজে ড্রোনের ব্যবহার হয়ে আসছিল। আজ তা আফ্রিকার অত্যন্ত জটিল একটি সমস্যার সমাধানে ব্যবহার হতে যাচ্ছে। সেটা হলো, প্রত্যন্ত ও বন্ধুর এলাকায় জরুরী ওষুধ, রসদ ও ত্রাণসামগ্রী প্রেরণ। সস্তায় এমন ড্রোন তৈরির কাজে নিয়োজিত হয়েছে আমাজানের মতো বিদেশী কোম্পানিগুলো। প্রতিটি ড্রোন ১০ কেজি পর্যন্ত পণ্য ৭৫ মাইল পর্যন্ত দূরত্বে নিয়ে যেতে পারবে। ড্রোনের এমন ব্যবহারের জন্য আফ্রিকা একটা আদর্শ ক্ষেত্র। কারণ এর আকাশপথে বিমানের ভিড় নেই। তাছাড়া রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় সস্তায় বিমানে পণ্য পরিবহনের চাহিদা অনেক বেশি।

প্রযুক্তির এমন ব্যবহার বদলে দিচ্ছে আফ্রিকাকে । আফ্রিকায় প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও আজ মোবাইল ফোনের ব্যবহার মামুলি ঘটনা। এক হিসেবে জানা যায় ২০১৯ সাল নাগাদ আফ্রিকায় মোবাইল ফোনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৩ কোটি। অর্থাৎ প্রায় প্রতি আফ্রিকানের জন্য একটি ফোন। স্মার্টফোনের প্রসারের ফলে মহাদেশটিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার এক দশকের মধ্যে ৫০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।

পাশ্চাত্যের প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আফ্রিকানরা নিজেরাও এমন কিছু উদ্ভাবন করছে, যা ধনী দেশগুলোতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন মোবাইলে টাকা প্রেরণ ও পরিশোধের ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা কেনিয়ার মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে। এসব দেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা লাখ লাখ লোককে আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে।

আফ্রিকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জীবনবীমা পলিসি বিক্রি হয়। বীমার কিস্তি পরিশোধ করা হয়। অন্যান্য ধরনের অর্থ পরিশোধেও মোবাইলের ব্যবহার বাড়ছে। বাচ্চাদের লেখাপড়া, শিক্ষা ও অঙ্ক কষার কাজে স্মার্টফোন এবং আইপ্যাডের ব্যবহার আফ্রিকায় দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তর নিয়ে এসেছে। এ্যাপস ও ই-লার্নিংয়ের সাহায্য নেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন আফ্রিকায় কম নয়। কেনিয়ায় ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এ্যাকাডেমিসের পরিচালনাধীন স্কুলগুলোতে লক্ষাধিক নার্সারি ও প্রাইমারি ছাত্রছাত্রী এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। প্রযুক্তি আফ্রিকার মিডিয়াকেও বদলে দিচ্ছে। কেনিয়ার নাকুরু শহরের ৩ লাখ অধিবাসীর নিজস্ব সংবাদপত্র বলতে কিছু ছিল না। স্থানীয় খবরা-খবরের জন্য তারা মুখের কথার ওপর নির্ভর করত। সে অবস্থা এখন পাল্টেছে। চালু হয়েছে ‘হিভিসাসা’ নামে এক নতুন ওয়েবসাইট, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার ওপর দৈনিক ৩০টি রিপোর্ট পরিবেশিত হচ্ছে।

আফ্রিকার ব্যবসার পরিবেশ অনুকূল। দুর্বল প্রশাসনের কারণে আইনকানুন শিথিল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কম। এই পরিবেশ পাশ্চাত্যের ক্রমবর্ধমানসংখ্যক কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। মাইক্রোসফটের অর্থায়নে সেখানে একটি কোম্পানি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ওয়াইফাই ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। প্রচলিত মোবাইল ফোন ব্যবস্থার খরচের একশ’ ভাগেরও কম খরচে গোটা অঞ্চলকে ওয়াইফাইয়ের অধীনে আনা যাবে। প্রযুক্তি আফ্রিকায় নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। সেগুলোর আগে অস্তিত্ব ছিল না বা দীর্ঘদিন ধরে রুদ্ধ ছিল। ফেসবুক কোম্পানি ফোন অপারেটরদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট ডট অর্গ নামে পরিচিত এক উদ্যোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগকে বিনামূল্যে প্রাপ্তি সাধ্য করে তুলেছে। উদ্যোগটি আফ্রিকায় গত বছর চালু হয়। তারপর থেকে এটি অন্যান্য মহাদেশের গরিব দেশগুলোতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে পাশ্চাত্যের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আইবিএমই সম্ভবত আফ্রিকার ব্যাপারে সবচেয়ে আগ্রহী। আইবিএম প্রধান নিয়মিত এই মহাদেশ সফরে যাচ্ছেন এবং বলছেন এই মহাদেশ থেকে দারুণ সব প্রযুক্তি আসছে। আফ্রিকায় প্রযুক্তির এই বিপ্লব এখনও শৈশব অবস্থায় থাকলেও, অচিরেই তাতে জোর গতি সঞ্চারিত হবে এবং কালক্রমে সেই প্রযুক্তি অন্যান্য দেশেও প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: