মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্রিটেনে নির্বাচন ॥ ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • এনামুল হক

৭ মে ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। কোন দল জয়ী হবে সেই নির্বাচনে? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের রক্ষণশীল দল, নাকি বিরোধীদলীয় নেতা এডওয়ার্ড মিলিবান্ডের শ্রমিক দল? জনমত জরিপ যদি সঠিক হয় তাহলে বলতে হবে, নির্বাচনে এ দুটি দলের কোনটাই সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে উভয় দলের নেতাদের অন্ততপক্ষে একটি ছোট দলের সঙ্গে কোয়ালিশন বা অনানুষ্ঠানিক জোট গঠন করার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

ডেভিড ক্যামেরন যে এই নির্বাচনে জেতার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপরও অনেকে বলছেন তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এই ৪৮ বছর বয়সে শেষ হয়ে যেতে পারে। রক্ষণশীল দলে আধুনিকায়ন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৫ সালে তিনি দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। খুব একটা ভালভাবে না হলেও মোটামুটিভাবে তিনি কাজটা শুরুও করেছিলেন। কিন্তু তারপরই অর্থনৈতিক মন্দা আঘাত হানে। বাজেট ঘাটতি ডবল ডিজিটে পৌঁছায়। মানুষ ক্যামেরনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ক্যামেরন সরকার অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যদিও শোভন ধরনের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে এবং নতুন ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছিল, তথাপি ক্যামেরনের প্রতি মানুষ ভালবাসায় গদ গদ হয়ে ওঠেনি। কারণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেয়েছে।

সে জন্যই এই নির্বাচন নিয়ে টোরিদের সমস্যা আছে। বহির্জগতে তাদের অর্থনৈতিক রেকর্ড ভাল দেখালেও, বেশিরভাগ বাসী তা মনে করে না। তারা বরং নিজেদের অর্থনেতিক দুর্ভোগের জন্য ক্যামেরন সরকারের ব্যয় হ্রাসকে দায়ী করে। এদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা বসিয়ে তার সরকার কল্যাণ খাতে ব্যয় ১২শ’ কোটি পাউন্ড স্টার্লিং কমিয়ে দিয়েছে। এসব ব্যয়সঙ্কোচ ব্যবস্থায় ভোটাররা রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছে। সুতরাং ক্যামেরন অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার এবং জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য আনার যত প্রতিশ্রতিই দেন না কেন, ভোটাররা অত সহজে তার কথায় ভুলবে বলে মনে হয় না।

ওদিকে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিকদলীয় নেতা মিলিবান্ড যেসব কঠিন, কঠোর বক্তব্য রেখেছেন তাতে ব্যবসায়ীরা রীতিমতো প্রমোদ গুনেছেন। তারা দলে দলে টোরিদের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় শ্রমিক দলের অতীত রেকর্ড তেমন ভাল নয়। এ অবস্থায় ভোটররা কাকে নির্বাচিত করে, বলা মুশকিল।

সোজা কথায় এবারের নির্বাচনে কে জিতবে তা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা আছে। ব্রিটিশ নির্বাচনে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য পার্লামেন্টে ৩২৬টি আসন প্রয়োজন। তবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন রক্ষণশীল বা শ্রমিক দল কারো জন্যই সহজ হবে না, যদিও ভোটের ব্যাপারে টোরিরা শ্রমিক দলের তুলনায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।

সকল দলই নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অভিবাসন সমস্যার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বৈদেশিক বিষয় তেমন গুরুত্ব পায়নি, যদিও ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হুমকি বহুবার আলোচনায় এসেছে।

এসব ইস্যুকে সামনে রেখে ৭ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিটেনের নির্বাচন। আগেই বলা হয়েছে প্রধান দুটি দলের একক সরকার গঠনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ব্রিটেন কার্যত দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার দ্বারা শাসিত। কিন্তু এই দু’দলের প্রাধান্য ক্রমাগত কমছে। ১৯৫১ সালের নির্বাচনে এই দুটি দল মোট প্রদত্ত ভোটের ৯৪ শতাংশ টেনেছিল। ২০১০ এর নির্বাচনে তা নেমে আসে ৬৬ শতাংশে । অর্থাৎ বকি ৩৪ শতাংশ ভোট অবশিষ্ট দলগুলো টেনে নেয়। এবার স্কটিশ ও ইংলিশ জাতীয়তাবাদের জোয়ার যেভাবে প্রবল আকার ধারণ করেছে, তাতে এই দলগুলো বিশেষ করে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি), ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (ইউকে আইপি) এবং গ্রীন পার্টি বড় দুই দলের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট কেড়ে নেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে টোরি ও শ্রমিক দলের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় এবারে নির্বাচনের পরিণতিতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট ও অন্যান্য

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: