আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খানজাহান আলী বিমান বন্দরসহ ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর তৈরিসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব সফিকুল আজম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সফিকুল আজম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য হুমায়ুন খালিদ এবং আইএমইডির সদস্য সহিদ উল্লাহ খন্দকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ফলে বৃহত্তর খুলনায় ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। ২০১৮ সালের জুন নাগাদ এ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বাগেরহাটে এখন মংলা বন্দর, ইপিজেড, চিংড়ি শিল্প ও রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রকে ঘিরে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে। ফলে দরকার হয়ে পড়বে দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের। খানজাহান আলী বিমানবন্দর থেকে খুলনা শহর ও মংলা সমুদ্রবন্দর উভয়েরই দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। বিমানবন্দর হলে সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজারকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প প্রসারিত হবে। এছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত ত্রাণকার্যও এ বিমানবন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণের নতুন মেয়র সাঈদ খোকনের জন্য নতুন প্রকল্প আসছে। দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রকল্প নেয়া হবে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার একনেকে নতুন মেয়র আনিসুল হকের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হলো। এর মাধ্যমে গুলশান বনানী ও বারিধারা এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়ররা যাতে জনগণের জন্য ভালভাবে কাজ করতে পারেন সে জন্য আগামীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প নেয়া হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, গুলশান-বনানী ও বারিধারার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ১৫৮ কোটি টাকা। সোনাাগাজী-ওলামাবাজার চরদরবেশপুর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ষষ্ঠ কিলোমিটারে ছোট ফেনী নদীর উপর ৪৭৮ দমমিক ১৭ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ছয়টি জেলা পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ১৫ জেলা শিল্পকলা একাডেমির নবায়ন, সংস্কার ও মেরামত প্রকল্প। এর ব্যয় ৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : পার্বত্য চট্টগ্রাম ২য় পর্যায় প্রকল্প, এর ব্যয় ৩৮০ কোটি টাকা। ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প, এর ব্যয় ২৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। টিকা উৎপাদন প্রযুক্তি আধুনিকায়ন ও গবেষণাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প, এর ব্যয় ১৪৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, গুলশান-বনানী ও বারিধারার উন্নয়নের ফলে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা ও বনানী লেকের দূষণ কমবে এবং যানজট হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৯০টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ৩৬টি। এর আয়তন প্রায় ৮২ বর্গ কিলোমিটার। এই ওয়ার্ডগুলো ৫টি অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত। তারমধ্যে গুলশান, বনানী ও বারিধারার ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩ গঠিত। এর আয়তন প্রায় ১৮ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে কূটনৈতিক পল্লীসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা মিডিয়ান, ফুটওবার ব্রিজ, আন্ডারপাস, খেলার মাঠ, কবরস্থান, মার্কেট ইত্যাদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন জনসেবা প্রদানে নগরবাসীর চাহিদা পূরণে সচেষ্ট। অপরদিকে ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনের দায়িত্বে নিয়োজিত। কিন্তু গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিস্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতা ওই এলাকার নৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানজট, পথচারীদের হয়রানি এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার আউটলেট গুলশান বনানী লেকের সঙ্গে যুক্ত। এতে পরিবেশ ও লেকের পানি দূষিত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সড়ক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে।

অবশেষে তৈরি হচ্ছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর। ১৯৯৬ সালে রামপাল উপজেলায় এ বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এই দীর্ঘ সময়েও এর কোন বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তাগিদে এই বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে ৪৯০ কোটি ২৮ লাখ টাকা আর বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। যা চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: