মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে ২৫ মে হাজিরার নির্দেশ

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫
  • অন্যথায় ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে
  • ৫ এপ্রিল তিনি হাজিরার শর্তেই জামিন পেলেও গতকাল ছিলেন গরহাজির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ২৫ মে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ৫ এপ্রিল প্রতি ধার্য তারিখে হাজির হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে জামিন নিলেও মঙ্গলবার প্রথম ধার্য তারিখেই গরহাজির থাকায় এ আদেশ দেন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। অন্যথায় তাঁর জামিন বাতিল বা পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে বলেও খালেদার আইনজীবীদের জানান বিচারক।

মঙ্গলবার আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর পরই দুই মামলায় খালেদার পক্ষে চারটি আবেদন দাখিল করেন তাঁর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। একটি মঙ্গলবারের হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং অন্যটি সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি। পরে এ আবেদনগুলোর ওপর শুনানি শুরু হয় আদালতে। প্রথমে খালেদার আইনজীবী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। এছাড়া আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা বার কাউন্সিল নির্বাচনের প্রচার কাজে ব্যস্ত। তাই সাক্ষীকে জেরা করতে আমাদের সময় প্রয়োজন। জবাবে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, আসামি উপস্থিত না থাকলে মামলা চালানো যাবে না, এমন কোন বিধান নেই। এ মামলার অন্য আসামিরাও তো উপস্থিত আছেন। তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) না আসলে যদি শুনানি না হয়, তাহলে কোনদিনও এ মামলার বিচার শেষ হবে না। আমরা শুধু আসব আর যাব। তাই শুনানি শুরু করা প্রয়োজন।

এ পর্যায়ে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যাঁরা জেরা করবেন, সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতে নেই। এ জন্য আমরা জেরা মুলতবি এবং সময় আবেদন করেছি। সময় আবেদন মঞ্জুর করলে আগামী ধার্য তারিখে উনি (খালেদা জিয়া) আদালতে উপস্থিত থাকবেন বলে ওয়াদা করছি।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, গত তারিখে (৫ এপ্রিল) আমি জামিন দিয়েছি, পরবর্তী তারিখগুলোতে হাজির হবেন, এই নিশ্চয়তা নিয়ে। তবে প্রথম তারিখেই তো শর্ত ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।

পরে আদালত ওই আবেদনগুলোর বিষয়ে কোন আদেশ না দিয়ে খালেদার অনুপস্থিতিতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের জেরা শুরুর নির্দেশ দেন। পরে এ মামলায় অপর দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে জেরা শেষ করেন আইনজীবীরা। জেরার পর বিচারক মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে দিয়ে ওইদিন খালেদাকে ‘অবশ্যই’ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ সময় পরবর্তী ধার্য তারিখগুলোতে খালেদা জিয়াকে হাজির করার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী ২৫ মে তাঁর অবশিষ্ট জেরার পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন কারা অধিদফতর প্যারেড মাঠে এই দুই দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে। কয়েকটি ধার্য দিনে আদালতে না আসায় খালেদার বিরুদ্ধে এ দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। টানা তিন মাস অবরোধ-হরতাল ডেকে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে অবস্থান করার পর গত ৫ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই আদালতে হাজির হয়ে তিনি দুই মামলায় জামিন নেন এবং বাড়ি ফিরে যান। এরপর মামলার প্রথম ধার্য দিন মঙ্গলবার তিনি নিজে হাজির না হয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে সময়ের আবেদন পাঠান।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ॥ ২০১১ সালের ৮ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। খালেদাসহ বাকি দুই আসামি জামিনে রয়েছেন।

অরফানেজ ট্রাস্ট ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন উর রশিদ ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। তারেক রহমান উচ্চ আদালতের জামিনে গত ছয় বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। রবিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও জামিন পান। বাকি দুজন পলাতক।

প্রকাশিত : ৬ মে ২০১৫

০৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: