কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মা মানে এক আকাশ ভালবাসা

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫
  • মাহবুব রেজা

খুব ছোট এক শব্দ- মা। কিন্তু এর ব্যাপ্তি আকাশের চেয়েও বিশাল, ব্যাপক। মায়ের ভালবাসা নিয়ে, মমতা নিয়ে সৃষ্টির শুরু থেকে কত গল্প-গাথাই না প্রচলিত রয়েছে। সেসব গল্পে উঠে এসেছে মাতৃ-হৃদয়ের কত শত উপাখ্যান, তা বলে শেষ করা যাবে না। এ রকম একটি গল্পের উদাহরণ দেয়া যাক। উচ্ছন্নে যাওয়া একটি ছেলে তার বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে প্রতিজ্ঞা করল সে তার মায়ের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এনে তাদের দেখাবে। যেই কথা সে রকম কাজ। ছেলেটি ঘরে ঢুকে মায়ের মাথা কেটে তাড়াহুড়ো করল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার আড়কাঠের সঙ্গে পা বেঁধে মাটিতে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার সময় ছেলেটির হাত থেকে মাথাটাও গড়িয়ে যায়। এমন সময় গড়িয়ে যাওয়া মাথা থেকে উচ্চারিত হলো, ‘কি রে খোকা, তুই ব্যথা পেলি না তো?’

মা এমনই। মা মানেই অপার মমতা। মা মানেই অপার মায়ার আধার।

বিশ্বের সব দেশে সমান গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয় মা দিবস। বাংলাদেশও সেই ধারা থেকে পিছিয়ে নেই। তবে কেউ কেউ এই দিবসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, মা দিবস কী শুধু ওই একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলে? তারা নিজেদের যুক্তির সপক্ষে আরও ক্ষুরধার ব্যাখ্যা তোলেন, শুধু একটি দিকই নয়, জীবনের প্রতিটি দিনকেই মা দিবসের মতো গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উচিত।

মা দিবসের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। খ্রিস্টপূর্ব ছয় সাল থেকে রোমানরা প্রথম মা দিবস পালন করা শুরু করে। রোমানদের দেখাদেখি মা দিবসের রেশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের দেশো। প্রথমদিকে সাধারণত রোমানরা অধিক সন্তানের মায়েদেরই বিশেষ গুরুত্ব দিত। ইতিহাসবিদরা ধারণা করছেন, কয়েক সহস্রাব্দ বছর আগে বসন্ত উৎসবে দেবী মায়ের প্রতি ভক্তিশ্রদ্ধা জানিয়ে পূজা দেয়া হতো। গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী এই বসন্ত উৎসব উৎসর্গ করা হতো ক্রোনাসের স্ত্রী এবং দেবদেবীর মা বিয়াকে। তৎকালীন সময়ে রোম রাজ্যে আড়ম্বর উৎসব ছিল মা দিবস এবং তা ছিল মা সাইবেনাকে উপলক্ষ করে। ধারণা করা হয়, রোমের এই উৎসব যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে শুরু হয়েছিল। এসব উৎসব হিলারিয়া নামে ব্যাপক পরিচিত ছিল। ধর্মভিত্তিক এই উৎসব সাধারণত মার্চ মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখ মোট তিন দিন ধরে চলত।

ইংল্যান্ডে এক সময় ‘মায়ের জন্য রবিবার’ রীতি প্রচলিত ছিল। এদিন মায়েদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হতো। একে কেউ কেউ আবার মিডলেন্ট সানডে-ও বলে। খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের চল্লিশ দিনব্যাপী বার্ষিক উপবাস পালন লেন্ট হিসেবে পরিচিত। এই উপবাসের চতুর্থ রবিবারকে মিডলেন্ট সানডে হিসেবে ধরা হয়। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডের তরুণ-তরুণীরা মায়ের জন্য রবিবার বাড়িতে ফিরত উপহার বা মাদারিং কেক নিয়ে। এক সময় মিডলেন্ট সানডে নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়ে যায় মাদারিং সানডে। মাদারিং সানডের পরে আসে মাদার চার্চ। সময়ের বিবর্তনে মাদারিং সানডে আর মাদার চার্চ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। পশ্চিমারা এই দিনটিতে মায়ের প্রতি চার্চের মতো করে সম্মান জানাতে থাকে। এ সময় ১৮৭২ সালে প্রথমবারের মতো আমেরিকায় মাদার্স ডে পালনের প্রস্তাব করেন জুলিয়া ওয়ার্ড হোউই। হোউট তার ‘ব্যাটন হাইম অব দ্য রিপাবলিক’ বইটিতে এ প্রসঙ্গটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছিলেন। মূলত হোউই-এর হাত ধরে আমেরিকাতেই প্রথম ‘মাদার ফ্রেন্ডশিপ ডেজ’ পালনের প্রস্তাব ওঠে। তবে গবেষকরা আধুনিক মা দিবস পালনের পুরো কৃতিত্ব তুলে দিতে চান অ্যান মেরি জারভিসকে। ১৮৬৪ সালের ১ মে জারভিস ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ওয়েবস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। জারভিস নিজের মাকে অসম্ভব ভালবাসতেন। মায়ের কথা চিন্তা করে জারভিস বিয়ে করেননি। সব সময় মায়ের সেবা করতেনÑ থাকতেনও মায়ের সঙ্গে। জারভিস মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধুদের নিয়ে চিঠি চালাচালি করে মা দিবস প্রতিষ্ঠা করার প্রচারণা চালাতে থাকেন। চিঠি চালাচালি চলল মন্ত্রী, ব্যবসায়ী কংগ্রেস সদস্যসহ সমাজের সব শ্রেণীর কাছে। জারভিসের অক্লান্ত, পরিশ্রমের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল ১৯০৮ সালের ১০ মে। এদিন পশ্চিম ভার্জিনিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভেনিয়ায় প্রথমবারের মতো মা দিবসপালিত হয়। সেই থেকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা জানাতে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিভিন্ন দেশে মা দিবস পালিত হয়। ব্রিটেনে এখনো মা দিবস পালিত হয় মার্চ মাসে। তবে কোন কোন দেশে মে মাসের শেষ রবিবারেও এ দিবস পালিত হয়ে থাকে।

তথ্যপ্রযুক্তিরা চরম উৎকর্ষের এ সময়ে বিশ্বব্যাপী মা দিবস নিয়ে চলে অভিনব প্রচার-প্রচারণা। মা দিবস উপলক্ষে লাখ লাখ কার্ড, গিফটের আদান-প্রদান চলে। এছাড়া ম্যাসেজ, ই-মেইল, ফেসবুক, টুইটারে, জানানো হচ্ছে মায়ের প্রতি ভালবাসা। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা প্রকাশে সহায়ক হয়ে উঠছে এসব দ্রব্যসামগ্রী।

বিশ্ব মা দিবসে প্রার্থনা- মায়েদের প্রতি আমাদের ভালবাসা আর শ্রদ্ধা যেন আরও বেশি প্রগাঢ় হয় শক্ত হয়।

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫

০৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: