কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রোবটিক্স

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫
  • শাহ আকবর আহমেদ শুভ

রোবট (জড়নড়ঃ) শব্দটার উৎপত্তি ‘জড়নড়ঃধ’ মতান্তরে ‘জড়নড়ঃর’ শব্দ থেকে। শব্দটার প্রবক্তা ছিলেন ক্যারেল ক্যাপেক, যিনি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সায়েন্স ফিকশন লেখার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ‘জড়নড়ঃধ’ শব্দটার মানে হলো দাস বা কর্মী।

খুব সাধারণভাবে বললে, যে যন্ত্র কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম তাকে রোবট বলে। কাজটা মানুষের মতো হাঁটাহাঁটি বা সামগ্রিক মানুষের আদলে কাজকর্ম ছাড়াও খুব সামান্য কিছু হতে পারে। যেমন একটা অটোম্যাটিক ডোর, যা মানুষ বা কিছু সেন্স করে নিজে নিজে ওপেন হতে পারে, তাকেও বলা হলে খুব ভুল বলা হবে না।

রোবোটিক্স মূলত কন্ট্রোল ও ডিজাইন নিয়ে কাজ করে। এটাকে ইলেক্ট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার, মেকাট্রনিক্সের সংমিশ্রণ বলা যায়। রোবোটিক্স এ রিসার্চ ট্রেন্ডগুলো একেক জায়গায় একেক রকম। যেমন ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রোবোটে মূল ফোকাস দক্ষতা বাড়ানোর এবং খরচ কমানোর দিকে, তাই কন্ট্রোল/ট্র্যাকিংয়ে বেশি কাজ হচ্ছে। স্পেস ও হিউম্যানয়েড রোবটের ডিজাইন/ব্যালেন্সিং/মিনিমাম এনার্জি নিয়ে বেশি কাজ হয়। মেডিক্যাল ও বেশ এগিয়ে গেসে। দুর্ঘটনায় হারানো হাত-পা এখন প্রতিস্থাপিত হচ্ছে কৃত্রিম আর্ম বা লেগ দিয়ে। এখন সার্জারিও দিয়ে হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন কীটপতঙ্গের অনুকরণে রোবটের স্ট্রাকচারের সুবিধা/স্ট্যাবিলিটি এনালাইসিস হয়, পরবর্তীতে ক্ষেত্র অনুযায়ী আইডিয়াগুলো ব্যবহার করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সেন্সর ডেভেলপ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের নিজেদের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদান করার বিভিন্ন পদ্ধতি কন্ট্রোলে যুক্ত হচ্ছে। নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো নানাবিধ এলগরিদম প্রতিনিয়ত এতে যুক্ত হচ্ছে। রাগ-দুঃখের মতো মানবিক গুণাবলী ফুটিয়ে তোলারও চেষ্টা চলছে।

প্রথম রোবট বানানোর প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করে মানুষের শক্তির সীমাবদ্ধতা থেকেই। যেসব পরিবেশে মানুষ কাজ করতে অক্ষম সেসব পরিবেশে কিসের দ্বারা কাজ করা যায় সেই চিন্তা থেকেই রোবট বানানোর চিন্তা মানুষ প্রথম অনুভব করে।

প্রতিরক্ষা, উদ্ধার, মনুষ্যবিহীন গাড়ি ও আকাশযান, পানির নিচে কর্মোপযোগী যান, মহাশূন্য, কারখানা, দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ, মেডিক্যাল সার্জারি, এমনকি বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য, ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়।

উন্নত দেশগুলোতে অনেক কারখানা আছে যেগুলো একেবারে মনুষ্যবিহীন। আমরা নিজের অজান্তে এমন অনেক পণ্যই ব্যবহার করি, যেগুলো হয়ত মানুষের স্পর্শ ছাড়াই তৈরি হয়েছে। রোবট এতকিছু করতে পারলেও আবার অনেক কিছুই করতে পারে না। যে কাজ করার জন্য রোবটকে প্রোগ্রাম করা হয়, রোবট কেবল তাই-ই করতে পারে। রোবটকে হঠাৎ কোন কাজের নির্দেশনা দিলে সে করতে পারে না। আবার বেশকিছু কাজ আছে আগে থেকে রোবটে প্রোগ্রাম করে দেয়া হলেও রোবট কখনই করতে পারে না। যেমন : নেটওয়ার্ক টিভি প্রোগ্রামিং এক্সিকিউটিভ, রাজনৈতিক নেতা (বক্তা), কৌতুক বলা, কর্পোরেট বক্তা হওয়া এবং সাংবাদিকতার মতো কাজগুলো। কারণ দর্শক কোন ধরনের অনুষ্ঠান পছন্দ করবে, তা রোবটের পক্ষে কখনই বোঝা সম্ভব হবে না। রোবটের পক্ষে রাজনৈতিক নেতা হওয়াও সম্ভব নয়, কারণ জনগণের মন বুঝে কথা বলা রোবটের পক্ষে অসম্ভব। মানুষের মুড বুঝে চলতে অক্ষম রোবট কিভাবে একের পর এক কৌতুক বলবে। ফলে এ কাজেও অপারগ রোবট। চলন্ত ট্যাক্সিতে চালককে সহায়তা করা, কর্পোরেট বক্তা হওয়ার মতো কাজগুলোও রোবট কখনও করতে পারবে না। এমনকি রোবটের সাংবাদিক হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। কারণ একেকটি ঘটনার একেক ধরনের খবর বা শিরোনাম লিখতে অক্ষম রোবট।

রোবট নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। এই যন্ত্রের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্থাপনের কাজেও অনেকটা এগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পশ্চিমা বিশ্ব রোবট নিয়ে গবেষণায় এগিয়েছে অনেক। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে অবদান রাখার চেষ্টা করছে। বাংলা রোবট তৈরি করে ২০১৩ সালে সাড়া জাগান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এই রোবটকে বাংলায় ‘ডানে যেতে’ বললে সেটি ডানে যেতে পারে। বাংলা ভাষা বোঝা এই রোবট দেখতে ছোট হলেও এটির কাজের ক্ষেত্র হতে পারে অনেক। এমনকি হাজার হাজার মাইল দূর থেকেও এটিকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিছুদিন আগে সফলভাবে মনুষ্যবিহীন ড্রোন বানাতে সক্ষম হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) চার শিক্ষার্থী। শুধু আকাশ নয়, পানির নিচে চলাচল উপযোগী রোবট নিয়েও গবেষণা হচ্ছে বাংলাদেশে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) চার শিক্ষার্থীর তৈরি করেছিল রোবট সাবমেরিন। এই রোবট ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েও রোবট নিয়ে কাজ করছেন অনেক শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫

০৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: