মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫

মাদকাসক্ত : কারণ, প্রতিকার ও পুনর্বাসন

সাধারণত যেসব দ্রব্য পান বা ব্যবহার করলে নেশা তৈরি হয়, আবার অভ্যাসে পরিণত হয় তাকে মাদকাসক্ত বলে। আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- ড্রাগ হলো এমন বস্তু যা জীবন্ত জীব গ্রহণ করলে, তার এক বা একাধিক কার্যকলাপের ঈষৎ পরির্বতন ঘটায়। মাদক দ্রব্যের ফলে একটি মানুষ তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যায়।

তার প্রধান কারণ বিষণœতা, টেনশন রোগ, অধিক হতাশা, প্রেমের ব্যর্থতা, বেকারত্ব, আর্থিক দৈন্য, নীতি ও আদর্শহীনতা, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, বড়দের প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধাহীনতা, বিভ্রান্ত কুসঙ্গ, অধিক কৌতূহল প্রবণতা, বৈবাহিক ও পারিবারিক কলহ, মাদকের সহজ প্রাপ্তি, ব্যবসায় অধিক লাভের বাসনায়, অত্যাধিক অর্থশালী হওয়া, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, জীবনের প্রতি আস্থাহীনতা, আইনি দুর্বলতা, অবৈধ অর্থ উপার্জনের আধিক্য, ধর্মীয় অনুভূতির অভাব, অপরাধপ্রবণ, মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত সামাজিক পরিবেশ, যৌবনের বিদ্রোহী মনোভাব, পারিবারিক অনুশাসন না থাকা, সন্তানকে অতিরিক্ত শাসন করা ইত্যাদি।

ধর্মীয় মানবিকতাবোধ জাগরণ, প্রচার মাধ্যমে আন্দোলন, দ্রারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মস্থান, ইচ্ছা শক্তি, মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা, পারিবারিক শান্তি, মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ, পুনর্বাসন ব্যবস্থা, মাদক সেবনকারীর শাস্তি বাস্তবায়ন, চোরাচালান বন্ধ, চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর, দক্ষ ও প্রশিক্ষণ করে তুলতে হবে, সামাজিক-আন্দোলন, চিকিৎসদের পরামর্শ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধে বা প্রতিকারে মাদকের কুফল সম্পর্কে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রসার ঘটানো, এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ইত্যাদি।

শামীম মিয়া

সাঘাটা, গাইবান্ধা।

নদীবন্দরে নৌ-টার্মিনাল অত্যাবশ্যক

দেশে নানা স্থানে অসংখ্য নৌ-বাণিজ্যবন্দর রয়েছে যেসব বন্দরে কোন টার্মিনাল বা কোন পন্টুন নেই। অসংখ্য বন্দরে নৌযান নোঙর করার জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে জনসাধারণ তথা যাত্রীদের অবর্ণনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এবং ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী লোড-আনলোডে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বহু উত্তরে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রাচীন জেলা শহর গাইবান্ধা অবস্থিত গাইবান্ধায় একাধিক নদীবন্দর থাকলেও এসব নৌ-বাণিজ্যবন্দরে কোন স্থায়ী অথবা অস্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় ও যাত্রী সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানি হচ্ছেন। যমুনায় ফুলছড়ি ঘাট, ব্রহ্মপুত্রে বালাসী ঘাট, তিস্তায় সুন্দরগঞ্জের বেলকা নৌবন্দর এবং তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে যমুনার সংযোগ বা মিলন স্থলে কামারজিনি নৌ-বাণিজ্যবন্দর অবস্থিত। খানিকটা উত্তরে ব্রহ্মপুত্রের তীরে ঐতিহাসিক বাণিজ্য নৌবন্দর কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী নৌবন্দর অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে কুড়িগ্রাম জেলা অবস্থিত হলেও নদের পূর্ব তীরে কুড়িগ্রামের বিচ্ছিন্ন উপজেলা রৌমারি অবস্থিত। সাতকন্যার প্রদেশ ভারতের মেঘালয় রাজ্যর পাহাড়ের পাদদেশে একখ- অতি চিকন বাংলাদেশের ভূখ- রৌমারি নদীবন্দরটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় রযেছে। যমুনার পূর্ব তীরে ঢাকা বিভাগের জামালপুর ও শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ, বকশিগঞ্জ, ইসলামপুর উপজেলার প্রসিদ্ধ নৌবন্দর বাহাদুরাবাদ ও জগন্নাথগঞ্জ ঘাট অক্ষত অবস্থায় থাকলেও ব্রিটিশ আমলে প্রাচীন গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর নৌযান নোঙর করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পূর্বে এ দুটি বন্দরের মাধ্যমে সমগ্র উত্তরবঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু ছিল ফেরি সার্ভিস সচল থাকার মাধ্যমে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার উভয় তীরের লাখ লাখ মানুষ দৈনন্দিন এবং অফিসিয়াল কাজ করার জন্য ট্রলার ও লঞ্চে নদী পারাপার হয়ে থাকে। নদীর তীরে এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দরে কোন নৌ-টার্মিনাল ও পন্টুন নেই। ঢাকা থেকে প্রতদিন তেলবাহী নৌযান ও নৌ-ট্যাঙ্কার গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে নোঙর করে থাকে। এই বন্দরের মাধ্যমে সমগ্র উত্তরবঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তেলবাহী নৌ-ট্যাঙ্কারগুলো নদীর তীরে মাটিতে নোঙর করে অতি কষ্টে তেল সরবরাহ করে থাকে। বালাসী ঘাট উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যবন্দর। ঢাকা থেকে অসংখ্য জাহাজ, লঞ্চ ও ট্রলার যমুনায় গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে নোঙর করে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে মালামাল খালাস করে থাকে। বালাসী ঘাটে ১শ’ গজের মধ্যে স্থাপিত রেলগাড়ির মাধ্যমে দ্রব্যাদি গাইবান্ধাসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে সাপ্লাই করা হয়। তাছাড়া যমুনার পূর্ব তীরের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ট্রলারযোগে নদীর পশ্চিমপাড়ে যাতায়াত করে থাকে। এসব ট্রলার নৌ-টার্মিনাল ও পন্টুন না থাকার কারণে নদীর তীরে কাদা মাটিতে নোঙর করতে বাধ্য হয়। লক্ষ্য করা গেছে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৩৫টি ট্রলার উভয়পথে চলাচল করছে।

এসব নৌযান বন্দরে নোঙর করতে নানা সমস্যায় পড়েন ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরা। প্রতিটি বন্দরে পন্টুন থাকলে অতি সহজে নৌযান নোঙর করে মালামাল খালাস করতে পারে। সরকার পেতে পারে বিপুল অর্থের রাজস্ব। উপকৃত হতে পারে ব্যবসায়ীগণ। প্রতিটি নৌবন্দর সচল রাখতে মাঝে মাঝে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করে দিতে হবে। সারাদেশে প্রতিটি নৌবন্দর সচল রেখে নৌ-টার্মিনাল ও পন্টুন এবং ফেরি সার্ভিস চালু রাখলে নৌপথে জলযান চলাচল ও দ্রব্যাদি আনানেয়ার সুযোগ থাকলে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীগণ উপকৃত হবেন। অর্থনীতির চাকা চাঙ্গা হবে।

মোঃ মেছের আলী

মুন্সীগঞ্জ।

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫

০৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: