আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিটি নির্বাচনে জাপার ৮৪ প্রার্থীর একজন জিতেছেন

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫
  • ফল বিপর্যয়

রাজন ভট্টাচার্য ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জামানত বাজেয়াফত হয়েছে দল সমর্থিত তিন মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে ৮০ কাউন্সিলর প্রার্থীর। মেয়রসহ ৮৪ প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন এক কাউন্সিলর। এ নিয়ে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। একটি পক্ষ বলছে, কেন্দ্রীয় নেতারা প্রার্থীদের পক্ষে কাজ না করা ও নেতৃত্বে দ্বিধা বিভক্তির কারণে এমন ফল হয়েছে। আরেকটি পক্ষ বলছে, নির্বাচনের আগের দিন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলে কম ভোট পাওয়ার বদনাম হতো না। কেউ বলছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই ফল বিপর্যয়। কারও কারও মত বিএনপির মতো নির্বাচন বর্জনের কৌশল নেয়া হলেও সম্মান রক্ষা হতো। সিটি নির্বাচনে ভোট কম পাওয়ার কারণে দলের চেয়ারম্যান এরশাদও অনেক নেতার প্রতি নাখোশ। বার বার ফল বিপর্যয়ের কারণে দলটির জনসমর্থন যেমন কমছে তেমনি নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গেছে। এই প্রেক্ষাপটে নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে কম ভোট পাওয়ায় কারণ চিহ্নিত করতে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন এরশাদ।

দলের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ধারাবাহিকতায় জেলা, মহানগর, ওয়ার্ড, থানা, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটির সম্মেলন করে নতুন নতৃত্বে পথ চলতে হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দলের ভরাডুবি হয়েছে। একটি উপজেলায়ও নিজেদের প্রার্থী বিজয়ী হয়নি। জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরসহ গোটা উত্তরবঙ্গেও ভয়াবহ ফল বিপর্যয় হয়েছে। এরশাদ নিজেও এক প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করলেও তাকে জেতাতে পারেননি। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে আগে জাতীয় পার্টির সমর্থিত সাত উপজেলায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের রবিবার রংপুরে নিজ বাসায় সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির জনসমর্থন এখন প্রায় তলানিতে নেমেছে। বর্তমানে জাতীয় পার্টির কোন নিজস্ব রাজনীতি নেই। দলটিকে বিরোধী দল বলা হচ্ছে। রাজনীতি তো নয়ই, সরকারী দলের বাইরে আলাদা কোন রাজনৈতিক সত্তা বা বৈশিষ্ট্য দলটির আছে বলে মনে হয় না।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, উত্তরে বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল ও চট্টগ্রামে সোলায়মান আলম শেঠসহ তিন প্রার্থী মোট ১৩ হাজার ৬শ’ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ (বাবুল) ‘চরকা’ প্রতীকে ২ হাজার ৯৫০ ভোট পান। দলের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন উত্তরে যোগ্য প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। যাকে দেয়া হয়েছে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিচিত নন। দক্ষিণে সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের আগে একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করেছেন। কম ভোট পাওয়ার নজির দীর্ঘদিনের। এদিক বিবেচনায় উল্লেখ করার মতো কোন ভোট পাননি তিনি। সোফা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৫১৯ ভোট পান এই মেয়র প্রার্থী। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল চট্টগ্রামে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠকে। কিছুদিনের মধ্যেই তাকে আবার মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি ভাল চোখে দেখেননি ভোটাররা। সঙ্গত কারণেই ৬ হাজার ১৩১ ভোট পয়েছেন তিনি। তিন সিটিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড মিলিয়ে ৮১ কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল জাপা। জিততে পেরেছেন একজন। তিনি ঢাকা উত্তরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। কেউ কেউ বলছেন, শফিকুলই একমাত্র দলের অন্ধেরযষ্ঠী।

প্রকাশিত : ৫ মে ২০১৫

০৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: