কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কো-পাইলট তামান্না নিহতের ঘটনায় মামলার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ০৪:১৯ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কো-পাইলট তামান্ন রহমান হৃদির নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। আজ দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত তামান্নার বাবা ডা. আনিসুর রহমান একথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত তামান্না রহমানের মা রেহানা ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী ফ্লাইং একাডেমী এবং সিভিল এ্যভিয়েশনসহ যে কোন বিমানবন্দরের রানওয়েতে ২৪ ঘন্টা ফায়ার সার্ভিস টিম, রেসকিউ টিম ও এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার কথা, যাতে কোন দুর্ঘটনা ঘটনার দুই মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু রাজশাহী বিমানবন্দরে যখন দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সেখানে ব্যবস্থা নেয়ার কিছুই ছিলোনা। ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে আসলেও ২১ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এগিয়ে আসেন। ততক্ষনে কো-পাইলট তামান্না দগ্ধ হয়ে মারা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী তিন দশকেরও বেশি পুরানো এয়ারক্রাফট এবং প্রায় ভাঙ্গা প্লেন দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়। আর নষ্ট সিটবেল্ট, নষ্ট হুইল, পুরানো ক্ষয়ে যাওয়া ইঞ্জিনে দেয়া হয় প্রশিক্ষন । সেইসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান কোন ধরনের সার্টিফিকেট ছাড়াই এখানে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তামান্নার বাবা ডা. আনিসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমীর পাহাড় সমান দুর্ণীতি, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার জন্য আমার সম্ভাবনাময় একমাত্র মেয়েকে হারালাম। তাই বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমীর নানা অব্যস্থাপনার তথ্য ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে, খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব। এছাড়াও ঘটনার দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরেও তদন্ত রিপোর্ট না দেয়ার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ’র রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সভাপতি ডা. তবিবুর রহমান শেখ, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হেদায়েতুল্লাহ, বিএমএ রাজশাহীর সভাপতি ডা. দীপক কুমার মোহান্ত উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১ এপ্রিল রাজশাহীতে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী এন্ড সিভিল এ্যাভেয়েশনের স্যাসনা-১৫২ প্রশিক্ষন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তামান্না রহমান (২২) নামের এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় প্রশিক্ষক লে. কর্নেল (অব) সাঈদ কামাল গুরুতর আহত হয়েছে।

ওইদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে প্রশিক্ষক লে. কর্নেল (অব) সাঈদ কামাল বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী এন্ড সিভিল এ্যাভেয়েশনের স্যাসনা-১৫২ প্রশিক্ষন বিমান নিয়ে প্রশিক্ষার্থী পাইলট তামান্না রহমানকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। ১ টা ৫৮ মিনিটের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরনের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ওই আগুনে প্রশিক্ষনার্থী পাইলট তামান্না রহমান দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির রিপোর্ট এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ০৪:১৯ পি. এম.

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: