কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খালেদার যে কাজেই মওদুদ হাত দেন, সবই তছনছ হয়

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ০১:০৬ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সে পথে কিছুটা সাফল্য এসেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই শহীদ জননীর চেতনা এখনও আমাদের মধ্যে প্রবাহিত। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছি বহুপূর্ব থেকেই। আইন বা ট্রাইবুন্যালের কথা বলে তা বিলম্বিত করা হচ্ছে। জামায়াত-শিবির একাত্তরে বাংলাদেশেকে মেনে নেয়নি। পাকিস্তান কায়েম করতে এখনও ওরা কাজ করে যাচ্ছে। এটি কোন গোপন বিষয় নয়, প্রকাশ্য রুপ লাভ করেছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াত, বিষয়টিকে শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

রবিবার ধানম-ির ডব্লুভিএ মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত শহীদ জননী জাহানার ইমামের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নববর্ষে নারী নির্যাতন ও সিটি নির্বাচন : বাংলাদেশ কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে বাংলাদেশ শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করেছিল সে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠক বলেন, তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সে পথ ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বঙ্গবন্ধু কন্যা না হলে অন্য কারও দ্বারা হতো না। জাতিসংঘের মহাসচিব, সেক্রেটারি ফোন করেছিলেন, শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণআন্দোলন করে সরকার পতন ঘটানো যায়। মনে রাখা উচিত সন্ত্রাসী কর্মকা- করে সরকার পতন ঘটানো যায় না। নিরহ নিরপরাধ মানুষকে খালেদা হত্যা করেছে। এদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার অধিকার নেই। নিশ্চয় সময় আসবে, বাংলাদেশে কোন জামায়াত-শিবির থাকবে না।

সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তোফায়েল বলেন, সিটি নির্বাচন থেকে বিএনপির সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি পূর্বপরিকল্পিত। তাবিত আউয়াল তো প্রত্যাহার করতে চাইনি। মঞ্জুর আলম তো রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ালেন। বিএনপির এ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি মওদুদের। খালেদার যে সব কাজে মওদুদ হাত দিয়েছে সব তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালেই নির্বাচন হবে, সেই পর্যন্ত বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে।

সূচনা বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, শহীদ জননী যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সে পথে কিছুটা সাফল্য এসেছে। বারবার বলে আসছি জামায়াতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। জামায়াত ’৭১ এ বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, এখনও সেই চেতনায় কাজ করছে। এটি তাদের কোন গোপন এজেন্ডা নয়, প্রকাশ্য রুপ পেয়েছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াত, এ বিষয়টিকে শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ ধর্মীয় বৃত্ত অতিক্রম করে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সামাজিক-সাংস্কৃতির এ উৎসবকে কলঙ্কিত করতেই ওই হামলা। শফি বলছে বাংলা নববর্ষের নামে মেয়েদের বেপর্দা করা হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের নারী নির্যাতনের ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার চলমান আইনেই সম্ভব। শধু ব্যক্তি নয়, সংগঠন হিসেবেও তাদের বিচার করতে হবে।

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ভেতর যেভাবে শিবির প্রবেশ করেছে তেমনি আওয়ামী লীগের ভেতর জামায়াত প্রবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন এক রকম, তার কর্মী ও প্রশাসন করছে অন্য রকম। সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েট ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বহিষ্কারের ঘটনা উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, আল বদররা যদি আমাদের ছাত্রদেরকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব নেয় সেই প্রতিষ্ঠান আমাদের দরকার নেই।

লেখক সাংবাদিক মুনতাসীর মামুন বলেন, নববর্ষের ঘটনাটি আমাদের সমাজের পরিপন্থী। পুলিশের কাছ থেকে এখনও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি, এটা খুবই দুঃখজনক। নারী সংগঠনগুলো নারী কেন্দ্রিক সমস্যায় তেমনভাবে সোচ্চার হয় না। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক কোন ঘটনা ঘটলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উল্লাসিত হয়। আওয়ামী লীগ সব সময় শত্রু চিনতে ভুল করে। ক্ষমতায় আসার পর তারা শত্রু-মিত্র মিলিয়ে ফেলে। শফি আহমেদ ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা- করে যাচ্ছে, অথচ তাকেই তোষামোদ করা হচ্ছে।

শ্যামলি নাসরিনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর ও মানবাধিকার নেত্রী অরমা দত্ত প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ০১:০৬ এ. এম.

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: