রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সিটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করাই ছিল বিএনপির উদ্দেশ্য ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ১২:২০ এ. এম.
  • চট্টগ্রাম মেয়রের সাক্ষাত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিদেশীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমার এমন কোন দুর্বলতা নেই যে কেউ এসে বলবে আর মাথানত করে চলে যাব- শেখ হাসিনা অন্তত সেটা করবে না। এ দুর্বলতা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার রয়েছে। ক্ষমতার জন্য ২০০১ সালে উনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম উনি গ্যাস বিক্রি করতে পারবেন না। মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে গ্যাস বিক্রি করতে উনি পারেননি। কারণ চোরের হাতে আল্লাহ কোন সম্পদ দেয় না।

রবিবার রাতে গণভবনে চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাত করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। তিন সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই ছিল বিএনপির মূল উদ্দেশ্যে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯২ দিনের আন্দোলনে রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকা দিতেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আসলে নির্বাচনে আসাটাই ছিল তাদের একটা নাটক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯২ দিন ধরে আন্দোলন-অবরোধের নামে নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেও বিএনপি নেত্রী কিছুই অর্জন করতে পারেননি। আন্দোলন ও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন। ওই ব্যর্থতার গ্লানি মুছতেই উনি নির্বাচনে অংশ নিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝপথে নির্বাচন বর্জন করে এখন বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) আন্তর্জাতিক চাপ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে চান! কিন্তু আমি কোন অন্যায় করিনি, দুর্বলতাও নেই যে মাথানত করব।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনের দিন ১১/১২টা না বাজতেই এমন কী ঘটনা ঘটল যে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করল? তারা যেসব অভিযোগ তুলেছে তার একটা অভিযোগেরও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিএনপির উদ্দেশ্যেই ছিল নির্বাচনের দিন মানুষের লাশ ফেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক ছিল বলেই তাদের সেই উদ্দেশ্যে ভেস্তে গেছে।

বিএনপি-জামায়াতের ৯২ দিনের ভয়াল সহিংস ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অবরোধ-হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলো, নির্বিচারে বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দিল- সেই বিএনপি নেত্রীই নির্বাচনের মাঠে নেমে বাস মার্কায় ভোট চাইলেন। আর সেই বাস মার্কায় ৩ লাখ ভোট কীভাবে দিল?

নাশকতাকারী ও মানুষ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যাপারে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলনের নামে নাশকতা-সহিংসতা ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের বিচার হতেই হবে। যিনি হুকুম দিয়ে মানুষ হত্যা করিয়েছেন, বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দিয়েছেন- তাদেরও বিচার এখন জনগণের দাবি। তাদের বিচার না হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। তাই এদের বিচার হতেই হবে এবং হবে।

তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ও তার পুত্র আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধ করে যাচ্ছেন। বিএনপি নেত্রীর দুর্নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রমাণ হয়েছে। এমনকি জয়কে (পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়) অপহরণ ও ক্ষতি করার জন্য তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিল। সেই অপরাধে বিএনপির নেতার পুত্রের কারাদ- হয়েছে। এছাড়া সাত মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল এবং ভারতের বিজেপি সভাপতির সঙ্গে মিথ্যা ফোনালাপের কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন এই খালেদা জিয়া। ফলে আমি নই, খালেদা জিয়া ও তার পুত্র দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও অপরাধ করে যাচ্ছেন।

তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির কারচুপির অভিযোগ আবারও প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, নিজে চোর বলেই উনি (খালেদা জিয়া) সবাইকে চোর ভাবেন। বিএনপি নেত্রী কী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা ভুলে গেছেন। উনি এই নির্বাচন কীভাবে করেছিলেন? ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাগুরা, মিরপুর ও ফালুকে জেতাতে তেজগাঁও উপনির্বাচনে উনি কীভাবে ভোট ডাকাতি করেছিলেন, সেটাও কী ভুলে গেছেন? তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ভুলে গেলেও দেশের মানুষ তা কোনদিনই ভুলবে না। তিনি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বীর চট্টলার নেতাদের।

প্রধানমন্ত্রী বিজয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, হত্যা-সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রই বিএনপির নীতি। ৯২ দিন ধরে অবরোধ-হরতালের নামে নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেও বিএনপি নেত্রীর ডাকে সেই অবরোধ-হরতালে বিএনপির নেতাকর্মীরা নামেনি। তার ডাকে কেউ-ই সাড়া দেয়নি। বিএনপি নেত্রীর হাত থেকে নিরীহ প্রাণী গরুও রেহাই পায়নি। কিন্তু এত কিছু করেও তাঁকে ব্যর্থ হয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে। আর এ ব্যর্থতা ঢাকতেই উনি নির্বাচনে এসে নাটক করলেন।

রাত সোয়া আটটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। আ জ ম নাছিরও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান, এবি তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, আলাউদ্দিন চৌধুরী নাছিম, নুরুল ইসলাম বিএসসি, এম আবদুল লতিফ এমপি, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, আবদুচ সালাম, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি, একরামুল হক এমপি, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, আবদুস সাত্তার এমপি, দিলারা ইউসুফ, এস এম কামাল হোসেন, এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন, শাহজাদা মহিউদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন স্ত্রী শিরিন আখতার, মেয়ে নৌশিন ও ছেলে তানজিদকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনের অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের অভিনন্দন জানান। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সিনিয়র নেতাদের সালাম প্রদানের মাধ্যমে আ জ ম নাছির সবার দোয়া কামনা করেন।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫, ১২:২০ এ. এম.

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: