মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গ্রীষ্মের রসালো ফল

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫
  • মাহবুবা সুলতানা

বৈশাখ প্রায় শেষের দিকে। গ্রীষ্মের তাপদাহ এখনও কাঠ ফাটাতে না পারলেও ঠিকই ঘাড়ের ওপর দিয়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলে জানান দিচ্ছে তার আগমনের। আর এই গরমে নিজের তৃঞ্চা মেটাতেই পানীয়র সঙ্গে আজকাল অনেকেই বেছে নিচ্ছেন মৌসুমী ফলকে। মূলত পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে এই ফল। আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য ফল সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আর গ্রীষ্মকালই আমাদের দেশের একমাত্র সময় যেসময় বিভিন্ন ফল সহজলভ্য হয়ে ওঠে হাতের কাছেই। চিকিৎসকদের মতে একজন মানুষের দিনে কমপক্ষে ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। অনেক সময় বিভিন্ন ফলের শরবত ও শরীরের অনেক পুষ্টি মেটাতে সাহায্য করে। শরীরের ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন ইত্যাদির চাহিদা মেটাতে ফল বিশেষ ভূমিকা রাখে। ছোট বেলায় একটা জনপ্রিয় কবিতার লাইন আমরা সবাই পরেছি, ‘কাঁচা জামের মধুর রসে রঙ্গিন করি মুখ’- সব সময় কাঁচা জাম না হোক তবে পাকা ফলের রসে মুখ রঙ্গিন করার সময় এখন গ্রীষ্মকাল। বাজারে রসালো ফলের সমাহার। সামনে আসছে আরও ফলের মেলা। এ সময়ের ফলগুলো যে শুধু মুখরচক ও সুস্বাদু তাই নয় বরং এর উপকারিতাও কম কিছু নয়। আমাদের দেশের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, পেঁপে, আমলকি, জাম্বুরা, মালটা, আনারস, কামরাঙ্গা, ফুটি, স্ট্রবেরি অন্যতম। হাতের কাছে স্বাদের ফলগুলোর পুষ্টিগুণ ও নানাদিক এবার জেনে নেইÑ

আম : গ্রীষ্মকালের গরম সবাই যতই অপছন্দ করুক না কেন, এই মৌসুমের ফলমূলকে অপছন্দ করার ক্ষমতা কারও নেই। গ্রীষ্মে সকলের সব চাইতে প্রিয় এবং সহজলভ্য ফল হচ্ছেÑ আম। এখনই বাজারে উঠা শুরু করেছে কাঁচা আম। আমাদের অতি প্রিয় এই ফল আম, কাঁচা বা পাকা যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন তা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরও অনেক বেশি। ফলের এই মৌসুমে ফলের রাজা হিসেবে আম বেশ পরিচিত। ফজলি, লেংরা, গোপালভোগ, মোহনভোগ, হিমসাগর, বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যায়। সুস্বাদু এই ফলটিতে আছে পটাসিয়াম, ভিটামিন এসিড, সেই সঙ্গে এর এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমনÑ বিটাক্যারোটিন ক্যান্সার ও হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে, ব্লাডপ্রেসার স্বাভাবিক রাখে এবং সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে। কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে কাঁচা আম আমাদের চোখের নানা সমস্যা এবং ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করে। অনেকের খাওয়ার সময়ের হেরফের হলে, ভাজাপোড়া জাতীয় কিছু খেলে পরে এ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা আম এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এ্যাসিডিটি শুরু হলে খানিকটা কাঁচা আম খেলে এ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

লিচু : আমের পরের স্থানটি দখল করে আছে লিচু। লিচুতে প্রধানত থাকে কার্বোহাইড্রেট (চিনি), প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন বি ও সি, পটাসিয়াম, এবং আয়রন। লো ক্যালরির এই ফলটিতে কোন কলেস্টেরল নেই।

আনারস : প্রচ গরমে স্বস্তি দেয় আরেকটি ফল- আনারস। এই ফলে আছে ভিটামিন বি, সি১ ও ফাইবার। হজমশক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের এনার্জি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে এই ফল। তরকারি হিসেবেও এই সোনালি রঙ্গা ফলের কদর নেহায়েতই কম নয়।

কাঁঠাল : বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল এর অনন্য আকার, আকৃতি ও সুস্বাদু গন্ধের জন্য অনেক সুপরিচিত। কাঁঠাল একটি স্বীকৃত গ্রীষ্মম লীয় ফল। এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টি ফল। গ্রীষ্মম লীয় অন্যান্য ফলের মতো এর মাঝেও অনেক ফাইবার, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন রয়েছে।

তরমুজ : রসালো এই ফলটি প্রচ গরমে দেয় স্বস্তি। কালো, সবুজ বিভিন্ন রঙের এই ফলটির ৯২%-ই পানি। শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এই ফলে কন ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই বরং এতি ভিটামিন এ, বি ও সি এর এক চমৎকার উৎস। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে তরমুজ এই সময়ের জন্য উপযুক্ত ফল। তাই ডায়রিয়ার পরে, বমি করার পরে বা যাঁরা অতিরিক্ত রোদে থাকেন, তাঁদের জন্য তরমুজ জরুরী উপকরণ। এতে নিম্ন মাত্রার ক্যালরি, অতি উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে রসাল ফল হওয়ায় কিডনির জন্য বয়ে আনে সুফল। তরমুজ রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশনসহ যাবতীয় অসুখগুলো তুলনামূলক কম হয়। আর কিডনি ভালভাবে কাজ করার জন্য দেহের বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে বের হয়ে যায়। আর উপকারী ভিটামিন ‘সি’র বসতি এই ফলে। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিরোধ করে এ্যাজমা বা হাঁপানি, ঋতুজনিত সর্দি, টনসিল, গরম-ঠা-ার জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, অসটিওআর্থ্রাইটিস, অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে ব্যথা।

পেঁপে : পেঁপে এমন একটি সহজলভ্য ফল যেটাকে কাঁচা বা রান্না করে উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। গরমে এর উপকারিতাটাও একটু বেশি। মজার বিষয় হচ্ছেÑ কাঁচা বা রান্না করে যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন এর পুষ্টিগুণ থাকে একই। মিষ্টি এই ফলটি ফাইবার সমৃদ্ধ হলেও এতে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নেই। উপরন্ত আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি এবিং প্রচুর এনজাইম আছে এতে। প্রচলিত আছে এনজাইমই অতিরিক্ত ওজন কমাতে দ্রুত সাহায্য করে। হজমশক্তি ও হৃদরোগের জন্যও ভীষণ উপকারী এই ফলটি। ফলের এই সমাহারে পরিমিত ও পর্যাপ্ত ফলাহার আপনার রসনা মেটাক, সেইসঙ্গে আপনাকে রাখুক সুস্থ। তবে কারও কারও চিকিৎসকের বারণ থাকতে পারে কোন কোন ফলের ক্ষেত্রে, সেইক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলাই বাঞ্ছনীয়।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: