মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জীবনে রবীন্দ্রনাথ

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫
  • আবু সুফিয়ান কবির

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। বাঙালীর জীবনবোধকে উপজীব্য করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। আধুনিকতাকে ধারণ করে মানুষের জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতকে তিনি সাহিত্যের উপকরণ হিসেবে এতটাই মর্মস্পশী করে তুলেছেন, যা আমাদের সাহিত্য ভা-ারকেই সমৃদ্ধ করেনি, তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সার্থক সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও দার্শনিক। তিনি বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সঙ্গীতস্রষ্টা, নট ও নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। এক সময় ছবিও এঁকেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে জমিদারী দেখাশোনা করতে গিয়ে প্রজা, সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটেছে। দেশে ও ইউরোপে ভ্রমণ করতে গিয়ে আধুনিক জীবনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে তার সাহিত্যে। লিখেছেন অনেক ভ্রমণকাহিনী ও চিঠি। রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য তাঁর ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা, চিত্ররূপায়তা, আধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ^প্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। আর এই কারণেই তাঁর সাহিত্য দেখা যায় পরমতম জীবনবোধের উপজীব্য বিষয়গুলো। তিনি আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। এই গানে তিনি যে বাংলার রূপের কাব্যিক বর্ণনা দিয়েছেন তাতে আমাদের জীবনবোধের নানা চিত্র পরিলক্ষিত হয়। তাঁর ১৩টি উপন্যাসের মধ্যে সব কটিতেই নারী-পুরুষ, পারিবারিক সম্পর্কের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা শুধু তৎকালীন পেক্ষাপটে নয় বর্তমান যুগেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘চোখের বালি’ উপন্যাসে এক অকাল-বিধবার অবৈধ প্রণয়কে কেন্দ্র করে একাধিক চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব প্রাধান্য পেয়েছে। ‘নৌকাডুবি’ জটিল পারিবারিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে লেখা। ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সনাতন হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের সংঘাত, ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো। ‘ঘরেবাইরে’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের জটিলতা আরও সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে তাঁর ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে। ‘শেষের কবিতা’ প্রেমের উপন্যাস। স্ত্রীর অসুস্থতার সুযোগে স্বামীর অন্য স্ত্রীলোকের প্রতি আসক্তি- এই বিষয়টিকে উপজীব্য করে রবীন্দ্রনাথ ‘দুইবোন’ ও ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস দুটি লেখেন। রবীন্দ্রনাথের শেষ উপন্যাস ‘চার অধ্যায়’ সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস। প্রতিটি উপন্যাসে ফুটে উঠেছে সমাজ, রাজনীতি, প্রেমের নানা সংঘাত ও পরিণতির বিষয়গুলো।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রবীন্দ্রনাথের আবেদন এখনও অটুট। বিশেষ বিশেষ দিনে মেয়েরা যেন নিজেদের পোশাকে রবীন্দ্রনাথের কবিতার লাইন লেখা শাড়ি ও পোশাক পরে। অন্যকে সেই পোশাক উপহার দেয়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা পাঞ্জাবিতে যেমন রবীন্দ্রনাথের কোন গান বা কবিতার লাইন লেখা কোন পাঞ্জাবী পরে, অনেকে আবার টিশার্টে রবীন্দ্রনাথের অবয়ব স্ক্রিনপ্রিন্ট করে পরিধান করে। আগে যেমন রবীন্দ্রনাথের পোষ্টার ঘরের দেওয়ালে শোভা পেত এখন দেখা যায় সিরামিক বা কাঁচের মগে কবিগুরুর কবিতার লাইন সহ তাঁর পোট্রেট আঁকা পণ্য সামগ্রী। এছাড়া বিভিন্ন শোপিসে, মেয়েদের পার্শে বা ছেলেদের ঘাড়ে ঝুলানো চটের ব্যাগে রবীন্দ্রনাথের পোট্রেট ছবি স্থান পেয়েছে। ছেলে বা মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রটি রবীন্দ্রজন্ম বা মৃত্যু দিবসে বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু মগ, শোপিস বা ব্যাগে কোন বিশেষ দিবস নয়, সব সময় তা ব্যবহার হয়। তাই বর্তমান সময়ে এসেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের স্মৃতিপটে এবং জীননের নানান অনুষঙ্গে সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছেন। তাই রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনযাপনের একটি অংশও বটে।

ছবি : শুভ ও অর্নব

মডেল : মিজু, সন্ধ্যা, রুবেল ও তুলি

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: