আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শ্রমিক কল্যাণে আসছে না সৈয়দপুর শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫
  • খরচ হচ্ছে লাখ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ সীমানা প্রাচীরঘেরা বিশাল ভবন। আছে সরকারের শ্রম দফতরের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সাইনবোর্ড। অথচ নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটির কোন কল্যাণের খবর জানে না শ্রমিকরা। এখানে শ্রমিকদের জন্য কি কি সেবা প্রদান করা হয় তারও কোন প্রচার নেই। ফলে শ্রমিক অধ্যুষিত নীলফামারী জেলার শ্রমিকরা অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে এই কেন্দ্রটি ঘিরে।

সূত্র মতে, শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য প্রতিমাসে এই প্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, যা প্রতিমাসে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় দেখানো হয়ে থাকে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে সরকারের এই বরাদ্দের অর্থ কোথায় যায়।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সূত্র মতে, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে শ্রমিকদের মধ্যে কোন প্রচার না থাকায় এ সম্পর্কে কিছুই জানে না তারা। স্বাধীনতার ৪২ বছর ধরে কেন্দ্রটি সচল থাকলেও এর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে নিয়োজিত কর্মকর্তা- কর্মচারীরা বসে বসে বেতন গুনছেন বছরের পর বছর। দায়িত্ব পালনে চরম অনিহার কারণে কেন্দ্রটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

সৈয়দপুর শ্রম কল্যাণের কার্যক্রমে অভিযোগ রয়েছে যে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সচল দেখাতে ভুয়া নাম ও ঠিকানা দিয়ে শ্রমিক উপস্থিতির দৈনিক রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় দফতরে। শ্রমিক শ্রমিকদের সন্তাদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলা, টিভি, পাঠাগার থাকলেও এসবের অবস্থা অত্যন্ত করুণ।

শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটির সংগঠক শাহিনূর ইসলাম বলেন, কেন্দ্রটি নানান সমস্যায় জর্জরিত। সমাধানে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরে শ্রমিকদের শ্রম আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তবে শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যা এবং এসবের সদস্য সংখ্যা কত এই প্রশ্নের সঠিক পরিসংখ্যান তিনি দিতে পারেননি। সৈয়দপুরের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কেন্দ্রের নাম শুনেছেন, তবে এরা কি কাজ করে সে বিষয়ে অবগত নন। কারণ কেন্দ্রের কোন কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কোনদিন যোগাযোগ করেনি। হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা জয়নুল বলেন, তিনি এই প্রথম কেন্দ্রের নাম শুনলেন। সৈয়দপুরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা বাবুল ও ফজলু জানান, শ্রমিকদের নিয়ে ১৫-২০ বছর ধরে কাজ করছেন, কিন্ত ওই নাম তারা কখনও শোনেনি। কল্যাণ কেন্দ্রটির পেছনে সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও শ্রমিকদের কল্যাণে আসছে না। ফলে সরকারের শ্রমবান্ধব নীতিমালা ভেস্তে যেতে বসেছে।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: