মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিপন্ন নদী ও পানি সঙ্কট

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫

নদীবহুল বাংলাদেশের অসংখ্য নদী দূষণের শিকার হয়ে বিপন্ন বিপর্যস্ত; মানুষের অপরিণামদর্শিতার কারণে বহু নদী ধুঁকে ধুঁকে মরছে। বিশ্বের আর কোথাও এ দেশের মতো এমন নদী হত্যার নজির নেই। বহির্বিশ্বে প্রকৃতির উপহার সংরক্ষণের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়া হয়। নদীকে প্রাণবন্ত, দূষণমুক্ত রাখা এবং তার প্রবাহ অবাধ রাখার জন্য রীতিমতো আইন প্রণয়ন হয়। আমাদের দেশেই ভিন্ন চিত্র। প্রতিদিনের ব্যবহারোপযোগী পানির জন্য নদীর ওপরেই অনেকখানি নির্ভর করতে হয়। ভূপৃষ্ঠের নদীসহ বিপুল জলের আধার বা জলাশয় কমে গেলে বর্ষাকালে বর্ষণের পরিমাণও কমে যাবে। ফলে সুপেয় পানিসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে পানির প্রাপ্তিও বিঘিœত হবে। সুপেয় পানির সঙ্কট বিশ্বব্যাপী এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বলা হচ্ছে, আগামীতে যদি বিশ্বযুদ্ধ বাধে, তাহলে তা পানির জন্যই বাধবে। অথচ পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই পানি। তবে এর বেশিরভাগই পানের অনুপযুক্ত লোনা পানি! বাংলাদেশের মতো জলাভূমি ভরপুর বহুল বৃষ্টিপাতের দেশটিতে প্রাকৃতিকভাবে সুপেয় পানির সঙ্কট থাকার কথা নয়। সমস্যা হয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে। সেচ ব্যবস্থায় পাম্প প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে তলদেশের পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়েই সুপেয় পানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবত রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের কথা বলা হচ্ছে। দিনে দিনে সেই দূষণ এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নদীটির পানি সংশোধনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বহুকাল ধরে হাজারীবাগের ট্যানারি থেকে সরাসরি বর্জ্য ফেলা হয়েছে বুড়িগঙ্গায়। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নদীটির বিপর্যস্ততার নানা চিত্র। ঢাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ২২০ থেকে ২৩০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে অনেক সময় থাকে মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও ময়লা। দীর্ঘ সময় ধরে ফোটানো হলেও কিছু এলাকার ওয়াসার পানি থেকে দুর্গন্ধ যাচ্ছে না, তা পানযোগ্যও করা যাচ্ছে না। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার পানি এতটাই দূষিত যে তা শোধন করেও পানযোগ্য করা যাচ্ছে না। তাছাড়া পানিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানোয় দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গার ৯টি স্থানের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ লিটারে এক মিলিগ্রামের নিচে, শুষ্ক মৌসুমে যা নেমে আসে শূন্যের কাছাকাছি। অথচ এক লিটার পানিতে ছয় মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকলে তা শোধনের অযোগ্য বিবেচিত হয়।

এ কথা আমাদের বার বার উচ্চারণ করতে হবে যে, নদীকে বইতে দিতে হবে তার নিজস্ব ছন্দে। প্রকৃতির ওপর অত্যাচার চালানো হলে এক পর্যায়ে প্রকৃতি প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হয়Ñ এমন উদাহরণ যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও মানুষের স্বেচ্ছাচারী ব্যবসায়িক কর্মকা- থেমে নেই। আমরা মনে করি, সুপেয় পানি পাওয়ার জন্য দেশের মৃতপ্রায় নদ-নদীকে বাঁচাতে আশু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট একটি নদী নয়, দেশের মরণাপন্ন সব নদীর অস্তিত্বের স্বার্থে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। কালবিলম্ব না করে নদী খনন করা দরকার। নদীকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। নদীকে কষ্ট দিয়ে যারা প্রকারান্তরে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ও প্রকৃতির ক্ষতি করছে, সেইসব মুনাফালোভী শুভবোধহীন লোকজনকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, নদী বাঁচলেই পানিসঙ্কট থাকবে না, বাঁচবে দেশের মানুষ।

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫

০৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: