মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জাবিতে ভবন বরাদ্দের দ্বন্দ্বে ২৫ শিক্ষকের পদত্যাগ

প্রকাশিত : ২ মে ২০১৫, ০৫:৪৯ পি. এম.

নিজস্ব সংবাদদাতা,জাবি।। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন বিভাগের মধ্যে চলমান ভবন বরাদ্দের দ্বন্দ্ব নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২৫ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। আজ দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বরাবর সিএসই বিভাগের শিক্ষকরা পদত্যাগ পত্র জমা দেন। রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিএসই বিভাগের ১৫ জন শিক্ষকের পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি। তবে অফিসের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা রোববার পদত্যাগপত্র জমা দিবেন বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি।

নবনির্মিত ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনের তৃতীয় তলা পরিবেশ বিজ্ঞানকে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা স্ব স্ব বিভাগীয় সভায় গণপদত্যাগ করার সিদ্ধান্তে একমত হন।

এদিকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভবন বরাদ্দ দেয়ার প্রতিবাদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ভ’তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে। সিদ্ধান্ত রিভিউ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছে দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ হানিফ আলী, বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. যুগল কৃষ্ণ দাস, অধ্যাপক ড. মো.এমদাদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, অধ্যাপক লিটন জুড রোজারিও, অধ্যাপক মো. গোলাম মোয়াজ্জাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির, সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক সনজিৎ কুমার সাহা, স্বর্ণালী বসাক, তানজিলা রহমান ও তাহসিনা হাশেম।

এদিকে ভূতাত্ত্বিক বিভাগের পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. এ টি এম শাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. জুল্লে জালালুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন খান, সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হক, সহযোগী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান ইমাম, মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রভাষক মাহমুদা খাতুন।

গণ পদত্যাগের বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, বিভাগের সব শিক্ষকই পদত্যাগ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শিক্ষকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা আমাদের পদত্যাগপত্র রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দিয়েছি।

এ বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাজেদা ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জরুরী বিভাগীয় সভায় উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ গণপদত্যাগ করেছেন এবং সকল শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অফিসের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারিনি। আগামী কর্মদিবসে আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিব।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনের তৃতীয় তলা পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ভ’তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভবনে উঠতে বাধা দিলে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ভবন বরাদ্দ নিয়ে এই তিন বিভাগের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় পাঁচ সদস্যদের ভবন বরাদ্দ কমিটি গঠন করা হয়। ৩০ এপ্রিল রাতে সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ভবনের (৪র্থ তলা পর্যন্ত যতটুকু নির্মান হয়েছে) ৩য় তলা পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং ১ম,২য় ও ৪র্থ তলা (যতটুকু হয়েছে) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে করে ভবনের প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিট পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানকে প্রায় ৩১ হাজার স্কয়ার ফিট (১ম, ২য়, ৪র্থ অংশ) এবং সিএসই বিভাগকে প্রায় ৩২ হাজার স্কয়ার ফিট (প্রথম, ২য়, ৪র্থ তলা অংশ) বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দুই বিভাগের শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রকাশিত : ২ মে ২০১৫, ০৫:৪৯ পি. এম.

০২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: