মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘কালি-কলম’ বার করলাম

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫
  • শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়

আগে কল্লোল, তার পর কালি-কলম। সবে তখন বিয়ে করেছি। নতুন বৌ। শ্বশুরবাড়িটা ভাল। আমহার্স্ট স্ট্রীটের ওপর প্রকা- বাড়ি। মস্ত বড়লোক। একখানা মোটর, একটা জুড়িগাড়ি সব সময় দোরে দাঁড়িয়ে, যেটায় খুশী চরে বোসো, যেখানে খুশী চলে যাও, নতুন জামাই, কেউ কিছু বলবে না।

বাড়িতে বিস্তর লোক, ঢালাও ব্যবস্থা, যখন খুশী এসো, যখন খুশী যাও, বড় বড় বসবার ঘর, বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা মারো, চা জলখাবার, পান সিগারেটÑ হুকুম করেছো কি এসে হাজির। কারও কাছে কৈফিয়ত দেবার কিছু নেই।

কলকাতা থেকে পালিয়েছিলাম। চলে গিয়েছিলাম কুমারডুবি লোহার কারখানায়। কয়েকটা মাস সেখানে চাকরি করে আবার চলে এলাম কলকাতায়। সোজা এসে উঠেছি এই আমহার্স্ট স্ট্রীটের বাড়িতে।

নজরুল তখন কলেজ স্ট্রীটে মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার অফিসেÑ মজফফর আহমদ সাহেবের কাছে। সেইখানেই যাব বলে বেরিয়েছি, হঠাৎ পবিত্রর (পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে দেখা। পবিত্র গিয়েছিল নজরুলের কাছে, সেখান থেকে শুনেছে আমি এসেছি কলকাতায়। ঠিকানাটাও সেইখান থেকেই পেয়েছে। কিন্তু নজরুলের দেয়া ঠিকানা, একশ’ পনেরো বলতে বলেছে একশ’ পঁচিশ। বাড়ির নম্বর দেখতে দেখতে পবিত্র পথ হাঁটছিল, আমিই দেখতে পেয়ে তাকে ডাকলাম।

যাচ্ছিলাম প্রবাসী অফিসে। ভালই হলো, সঙ্গী জুটে গেল। প্রবাসীতে তখন আমার তিনটি গল্প ছাপা হয়েছে। চারুবাবুর একটি চিঠি পেয়েছিÑ এবারে যে গল্পটি আপনি পাঠিয়েছেন তার নাম আমি বদলে দিয়েছি। আপনার সম্মতি আছে কিনা দয়া করে জানাবেন। নাম দিয়েছি ‘বলিদান’। আপনার গল্পের প্রশংসা না করে পারছি না। এত ভাল গল্প অনেক দিন পড়িনি।

সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেই চারু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চিঠি! সেদিন সে চিঠিখানি ছিল আমার কাছে এক অমূল্য সম্পদ। কুমারডুবি থেকে সে চিঠিখানি আমার পকেটে পকেটে ফিরছে। যাকে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বেড়াচ্ছি। সেই দিনই সকালে এই চিঠির ব্যাপারে বেশ একটুখানি অপ্রস্তুত হয়ে গেছি, তাই ভেবেছিলাম চিঠিখানা আর কাউকে দেখাবো না। আমার শ্বশুরবাড়ি মানে সাত ভাইয়ের একান্নবর্তী পরিবার। আমার সমবয়সী কয়েকজন শালা এই আমহার্স্ট স্ট্রীটের বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ছে। চা খেতে খেতে কথায় কথায় বাংলা সাহিত্যের কথা উঠলো। আমি যে গল্প লিখি আর তা কাগজে ছাপা হয়Ñ এই কথাটা তাদের জানাতে চাইলাম। চারুবাবুর চিঠিখানি বের করে একজনের হাতে দিয়ে বললাম, পড়। ছোট চিঠি। পড়তে বেশিক্ষণ সময় লাগলো না। একজনের হাত থেকে নিলে আর একজন। তারপর তার হাত থেকে আর একজন। এমনি করে চার-পাঁচজন পড়ে ফেললে। একজন পোস্টাপিসের ছাপটা ভালো করে দেখলে। দেখেই বললে, তা বুদ্ধি মন্দ নয়। এইটে নিয়ে গিয়ে আর-একটা কাগজের আপিসে দেখালে কাজ হবে। নাম ছাপা এমনি একটা পোস্টকার্ড হাতাতে পারলেই হলো। একজন তো পোস্টকার্ডটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললে, ওরকম ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প লিখতে সবাই পারে! যাত্রার পালা একটা লিখে লাগাতে পারো তো জানি বাহাদুর। তাদের ভেতর একজন তখন বি-এ পাস করে আইন পড়ছে। কিন্তু আশ্চর্য, প্রবাসী নামে যে একটি মাসিকপত্র আছে, চারু বন্দ্যোপাধ্যায় যে একজন খ্যাতনামা লেখক সে খবরটি পর্যন্ত কেউ রাখে না।

এতদিন পরে একজন মানুষ পেলাম চিঠিখানি দেখাবার। চারুবাবুর চিঠিখানি পবিত্রর হাতে দিলাম। চিঠিখানি পড়ে সে আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠলো। বললে, চারুবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিস?

বললাম, না। সেইখানে যাব বলেই বেরিয়েছি। পবিত্র বললে, চল। পরিচয় করিয়ে দিই।

দোরে গাড়ি থাকলে চড়ে বসতাম। দেখলাম, গাড়ি নেই। হেঁটে হেঁটেই যাচ্ছি। পবিত্র ওদিকের ফুটপাথের ওপর কাকে যেন দেখে ডেকে উঠলো, গোকুল! গোকুল! ভদ্রলোক থামলেন। পবিত্র বললে, আয়, আয়- একজনের সঙ্গে পরিচয় করে দিই।

রাস্তা পেরিয়ে গেলাম দু’জনে। Ñগোকুল নাগ আর্টিস্ট। আমার আর পরিচয় কি? সামান্য দু’চারটে গল্প ছাপা হয়েছে মাত্র। বলতে হয় তাই পবিত্র বললে, ইনি নজরুল ইসলামের সহপাঠী বন্ধু।

পবিত্র কিন্তু চুপ করে থাকবার ছেলেই নয়। বললে, যাচ্ছি একবার প্রবাসী-আপিসে। দেখা না, চারুবাবুর চিঠিখানা বের কর।

চারুবাবুর চিঠিখানি বের করলাম পকেট থেকে।

চিঠিখানি পবিত্র গোকুলের হাতে দিয়ে বললে, চারুবাবু ওকে কি লিখেছে দ্যাখ।

চিঠিখানি পড়েই গোকুল পোস্টকার্ডখানি উল্টে আমার নামটা দেখে নিলে, তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, কয়লাকুঠি?

সবিনয়ে বললাম, আজ্ঞে হ্যাঁ।

গোকুল দু’হাত বাড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলে।

মুহূর্তের মধ্যে অন্তরঙ্গ হয়ে গেলাম। গোকুল বললে, প্রবাসী-আপিস পরে হবে। আগে আসুন আমাদের আস্তানায়।

প্রবাসী-আপিস যাওয়া হলো না। হাঁটতে হাঁটতে সোজা একবারে দশ-নম্বর পটুয়াটোলা। এইটুকু সময়ের ভেতরেই ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ হয়ে গেছি।

রাস্তার ধারেই ছোট্ট ঘরখানি। একা বসে আছে দীনেশ। দীনেশরঞ্জন দাশ।

দীনেশ আমার লেখা তখনও পড়েনি। তার মাথায় তখন ‘কল্লোল’-এর পরিকল্পনা। এক মাসের ভেতর কাগজ বের করতে হবে। মাসিক সাহিত্যপত্র-কল্লোল। পয়সাকড়ি কিছু নেই। দশটি মাত্র টাকা ছিল পুঁজি। তাই দিয়ে হ্যান্ডবিল ছেপে দীনেশ আর গোকুল- দুই বন্ধুতে রাস্তায় রাস্তায় বিলি করে এসেছে। হ্যান্ডবিলটা দেখলাম।

দীনেশ বললে, আমাদের ছিল ‘ফোর আর্টস ক্লাব’।

আমি, গোকুল, মণীন্দ্রলাল বসুÑ

মণীন্দ্রলাল বসুর নাম শুনে চেয়ারের ওপর (কল্লোলের প্রসিদ্ধ তক্তপোশ তখনও পড়েনি) টান টান হয়ে বসলাম সেই ‘অরুণ’ ‘সোনার হরিণ’ ‘রমলা’র মণীন্দ্রলাল?

গোকুল বললে, হ্যাঁ। ব্যারিস্টার হয়ে ফিরেছে বিলেত থেকে।

জিজ্ঞাসা করলাম, দেখতে পাবো?

দীনেশ বললে, নিশ্চয়ই পাবে।

দেখেছিলাম। ওই কল্লোল-অফিসেই মণীন্দ্রলালের দেখা পেয়েছিলাম। দিব্যকান্তি সৌম্যদর্শন যুবক মণীন্দ্রলাল। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আমি আমার অন্তরের অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। তাঁকে- শরতোত্তর যুগের এই একক এবং অপরূপ রসস্রষ্টা শিল্পীকে। নরনারীর প্রণয়লীলার সুনিপুণ ভাষ্যকার মণীন্দ্রলাল যুবজনচিত্ত জয় করেছিলেন তখনকার দিনে। তাঁর রচিত সাহিত্যে ছিল ভিন্ন আস্বাদ, ভিন্ন পরিম-ল। তিনি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা বিরহী-বিরহিনীর কানের কাছে আনন্দের বার্তা বহন করে আনেননি, তিনি তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির মূল সুরটিকে সত্যের গৌরবে আবিষ্কার করে কলাসৌন্দর্যে ম-িত করে তুলেছিলেন। তাঁর রচিত সাহিত্যে ছিল সুন্দর ধ্বনি, সুন্দর গন্ধ, সুন্দর দৃশ্য, সুন্দর সুর, সুন্দর বর্ণ! চিরসুন্দরের পূজারী তিনি তার অন্তরের আনন্দকে অন্যের অন্তরে সঞ্চারিত করতে চেয়েছিলেন।

আমাদের তখন ছিল যৌবনকাল। বিহারের শুষ্ক রুক্ষ প্রস্তরাকীর্ণ প্রান্তরের এক প্রান্তে বসে পড়েছিলাম তাঁর বহুবিচিত্র প্রেমের কাহিনী। তাঁর রচিত সাহিত্যের যাদুমন্ত্র প্রত্যক্ষ করেছিলাম বৈশাখের দুপুরে ব্লাস্ট ফারনেসের সুমুখে বসে। শক্ত লোহা আর ইস্পাতের রাজত্বে নেমেছিল সুরের মূর্ছনা। পদতলে ধূলি থেকে আকাশের নক্ষত্র পর্যন্তÑ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দের অমৃতরূপ।

দীনেশ, গোকুল, মণীন্দ্রলাল- সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হতে দেরি হলো না। ‘কল্লোল’ বেরুবে। গল্প চাই! প্রবাসীর জন্য একটি গল্প লিখেছিলাম। চারুবাবুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গল্পটি দিয়ে আসবো ভেবেছিলাম। দেখা করতে গেলাম, দেখাও হলো, কিন্তু গল্প দিতে পারলাম না। সে গল্প তখন চলে গেছে কল্লোলে।

কল্লোলের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলো। প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যার প্রথম গল্প ছাপা হয়েছে দেখলাম আমার ‘মা’।

সাহিত্যের নেশা তখন পেয়ে বসেছে আমাদের। দেশ-বিদেশের সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হবার প্রবল আকাক্সক্ষা জেগেছে। ইংরেজী বই কিনতে গেছি ‘বুক কোম্পানির দোকানে। সেখানে দেখি ইংরেজী বইয়ের অরণ্যের ভেতর দাঁড়িয়ে কে একজন ক্রমাগত বইয়ের পর বইয়ের পাতা উল্টে চলেছে। উুঁচ উঁচু কাঠের র‌্যাকের ওপর থাকে থাকে বই সাজানো। মাঝে শুধু একটা মানুষের চলবার পথ। সেই পথের ওপর দাঁড়িয়ে ছেলেটি বই পড়ছে। চোখে মুখে একাগ্র তন্ময়তা। গৌরবর্ণ প্রিয়দর্শন পাতলা ছিপছিপে ছেলেটিকে দেখে মনে হলো কলেজের ছাত্র।

আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে বই দেখছি। ছেলেটির সেদিকে ভ্রƒক্ষেপ নেই। আমার হাতের কাছে সব দর্শনের বই। নাটক, নভেল, গল্পের বই দেখতে হলে, তাকে পেরিয়ে যেতে হবে। অথচ তার ধ্যান ভঙ্গ করতে ইচ্ছে করছে না। বই দেখতে এসে তারই দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মন্দ লাগছে না।

হঠাৎ একসময় সে আমার দিকে তাকালো। বুদ্ধিদীপ্ত দুটি টানা-টানা চোখ, অযতœবিন্যস্ত মাথায় বড় বড় চুল কপালে এসে পড়েছে। মুখখানি সুন্দর। জিজ্ঞাসা করলে, বই দেখবেন?

বললাম, আজ্ঞে হ্যাঁ, গল্পের বই।

Ñএখানে নয়। আসুন এই দিকে।

ছেলেটি দেখলাম, দোকানে কোথায় কি বই আছে সব জানে।

আমাকে নিয়ে গেল সে কন্টিনেন্টের বইয়ের রাজত্বে। ঠিক যেখানে যেতে চেয়েছিলাম সেইখানে। লেখকের নাম, বইয়ের নাম, সব তার কণ্ঠস্থ।

Ñএইটে রাশিয়া। টলস্টয় গোর্কি, গোগোল, দস্তয়েভস্কি, শেখভ, তুর্গনিভ- কি চাই বলুন।

চাই তো সব। ক’খানা বই-ই বা পড়েছি।

এটা দেখছি, ওটা দেখছি, তন্ময় হয়ে গেছি বই দেখতে-দেখতে, মনে হচ্ছে সবই কিনি। কিন্ত অত টাকা কোথায়? ছেলেটি হঠাৎ বলে উঠল, পেয়েছি।

বলেই সে মোটা মোটা চারখানা বই নামিয়ে বললে, এই বইটে নিন আপনি। ইনি বোধহয় এবার নোবলে প্রাইজ পাবেন। পোলেন্ডের লেখক। এল রেমন্ট

সেই ভাল। কত দাম?

ভাবলাম একখানা বইয়ের আর কতদাম হবে? বলুন। কিন্তু দাম শুনে চক্ষু স্থির! তিরিশ টাকা।

একখানা বই কিন্তু চার ভলুমে লেখা। সামাব, অটাম, স্প্রিং আর উইন্টার বললাম, আজ অত টাকা নেই আমার কাছে। দুটো নেয়া যাক, পরে দুটো নিয়ে যাব।

সেদিন দুখানাই নিলাম। পরে আর দুখানা নিয়েছিলাম। কিন্ত আশ্চর্য ছেলেটি দূরদৃষ্টি সে-বছর এল রেমন্ট নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন।

ছেলেটি আমার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এলো দোকান থেকে। ঘণ্টাখানেক কাটিয়েছি একসঙ্গে। মন্দ লাগছে না ছেলেটিকে।

দুজনে চায়ের দোকানে এসে বসলাম। চা খেতে খেতে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার নাম?

ছেলেটি বললে, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়।

আমার নাম শুনে নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ বললে, আপনার কয়লাকুঠি পড়েছি। সেদিন নতুন একটা কাগজ বেরিয়েছেÑ কল্লোল, তাতেও পড়লাম আপনার একটি গল্প।

গল্প-দুটো কেমন লেগেছে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করছিল। সে নিজেই বললে, মন্দ নয়। কিন্তু আরও ভাল গল্প লিখতে হবে। আরও অনেক অনেক ভাল।

বলতে বলতে সে তার স্বপ্নমদির চোখ দুটি বন্ধ করে কি যেন ভাবলে, তারপর চোখ খুলে বললে, কন্টিনেন্টের গল্পগুলো পড়ে ফেলুন। পথ খুঁজে পাবেন।

নৃপেন্দ্রকৃষ্ণকে নিয়ে এলাম কল্লোল-আপিসে। কল্লোলের দলে আর একজন বাড়লো।

আমাহার্স্ট স্ট্রীটের বাড়িতে পরমানন্দে থাকা চলে, কিন্তু ওই হট্টগোলের মাঝখানে বসে লেখা চলে না।

তার ওপর হলো আর এক বিপদ। আমার শ্বশুর মশাইয়ের দাদা সারাদিন কাজকর্ম সেরে বিকেলে এসে বসেন তাঁর নিচের তলার একখানি ঘরে। চাকর তামাক দিয়ে যায়। পরমানন্দে বসে বসে গড়গড়ায় তামাক টানেন আর সুমুখ দিয়ে কেউ পার হয়ে গেলেই বলেন, কে যায়?

চোখে তিনি একটু কম দেখেন।

সেদিন দেখলাম, আমার এক শালা তাঁর ঘরের সুমুখ দিয়ে পেরিয়ে গেল, তিনি ডাকলেন, তবু সে সাড়াও দিল না, থামলোও না।

এ-বাড়ির ছেলেগুলো এমনি বে-আদবই বটে। গুরুজন মানুষ, ডাকলে অন্তত সাড়া দেওয়া উচিত। এমন অগ্রাহ্য করে চলে যাওয়াটা ভাল দেখায় না।

বাড়ির বাইরে যেতে হ’লে ওই পথ দিয়ে যেতেই হবে। বোধহয় তার পরের দিন। কল্লোল-আপিসে যাব বলে বেরিয়েছি। পেছনে ডাক শুনে ফিরে দাঁড়ালাম

চ্যাটার্জি সাহেব বললেন, শোনো। ভেতরে এসো। ঘরের ভেতরে যেতেই বললেন, বোসো। ঘর-জোড়া নিচু তক্তপোশ পাতা। তার ওপর ঢালা বিছানা। বললেন ভাল করে চেপে বসো।

বসতেই একখানা মোটা বই আমার হাতের কাছে এগিয়ে দিয়ে বললেন, নাও, দেখি কেমন পড়তে পারো। বের কর তৃতীয় সর্গ।

বইখানা খুলেই দেখলামÑ যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণ। (চলবে)

সূত্র : মাসিক বসুধারা, শারদীয় সংখ্যা ১৯৫০

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫

০১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: