আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সৌদি তরুণ প্রিন্সদের উত্থান

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫
  • মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব করায়ত্ত করতে চায় রিয়াদ

সৌদি আরবের আঞ্চলিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টার মধ্যে রাজপরিবারের তরুণ সদস্যদের উত্থান ঘটছে। রাজতন্ত্রের পুরাতন নেতৃত্বের সংস্কারের ফলে দেশটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তরুণ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হচ্ছেন। যখন সৌদি রাজপরিবার মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার ব্যক্ত করা এবং পাশ্চাত্যের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন ঐসব পরিবর্তন ঘটছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ বাদশাহরাই সৌদি আরবে যুগের পর যুগ ধরে বড় রকমের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। সৌদি রাজপরিবারের তরুণ সদস্যদের ক্ষমতায়ন এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এ ক্ষমতায়ন এরই মধ্যে বিস্ময়করভাবেই সক্রিয় এমন এক পররাষ্ট্র নীতির রূপ নিয়েছে। এ নীতিতে শিয়াপ্রধান ইরানের মোকাবেলায় সুন্নী মুসলিম ব্লকের নেতৃত্ব দিতে সৌদি আরবের অধিকারই প্রকাশ পেয়েছে। যখন অপরিশোধিত তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরব অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তখন দেশটি আঞ্চলিক নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চাচ্ছে। বাদশাহ সালমান জানুয়ারিতে তার সৎ ভাইয়ের মৃত্যুর পর দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের প্রভাব বিস্তার করতে সচেষ্ট হয়েছেন। বুধবার ঘোষিত এক রাজকীয় নির্দেশে মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদল ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, নতুন বাদশাহ সালমান আরও আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতিই সমর্থন করছেন। এ নীতির ফলে সৌদি আরব সিরীয় যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং সুন্নী আরব রাষ্ট্রদের এক জোট গড়ে উঠেছে। এ জোট প্রতিবেশী ইয়েমেনে ইরান সম্পৃক্ত বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের অনেকাংশ দখল করেছে। গবেষক সালমান শেখ বলেন, সৌদিরা এমন এক সময় নেতৃত্ব দিচ্ছে, যখন অঞ্চলটি তাদের নেতৃত্ব মেনে চলতে ইচ্ছুক। তিনি কাতারস্থ গবেষণা সংস্থা ব্রুকিংস দোহা সেন্টারের পরিচালক। মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বাদশাহ তার কনিষ্ঠ সৎ ভাই প্রিন্স মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার ভাতিজা ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে তার নতুন উত্তরাধিকারী নিয়োগ করেছেন। বাদশাহ তার পুত্র প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স নিয়োগ করেছেন। প্রিন্স হবেন সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। ২৯ বছর বয়স্ক প্রিন্স ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চলাকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাদশাহ সালমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সৌদ আল ফয়সলকে বাদ দিয়েছেন। তার স্থলে যুক্তরাষ্ট্রস্থ রাষ্ট্রদূত আদেল আল সুবায়েরকে বেছে নেয়া হয়েছে। কোন কোন বিশ্লেষক বাদশাহ সালমানের ঐসব পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

কারণ, ওবামা প্রশাসন এশিয়া ও উদীয়মান চীনের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব বন্ধুদের সহায়তা ও শত্রুদের দুর্বল করতে এর অর্থবল ও সামরিক শক্তি ব্যবহারে সঙ্কোচবোধ করছে না। বাদশাহ সালমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সিরীয় বিদ্রোহীদের সহায়তা করার কাজটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি গত মাসে সৌদি রাজধানী রিয়াদে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের সঙ্গে দেখা করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, তারা সিরিয়ার সরকার বিরোধীদের প্রতি সমর্থন জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। বিশিষ্ট সৌদি সমাজতান্ত্রিক ও ভাষ্যকার বলেন, বাদশাহ আবদুল্লাহর আমলে আমাদের কোন পররাষ্ট্রনীতি ছিল না। আমরা আমাদের চোখের সামনেই ইয়েমেনের ঘটনাগুলোর দিকে কেবল তাকিয়েই ছিলাম। রিয়াদের নতুন প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ইচ্ছা প্রশাসনের রয়েছে। মন্ত্রিসভায় রদবদলের ফলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এমন অন্তত দুই বড় কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে এবং ওবামা প্রশাসন একে স্বাগত জানিয়েছে। এ রদবদলের সময় নতুন যুবরাজের নামও ঘোষণা করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সারি হার্ফ বলেন, অনেক আমেরিকার কর্মকর্তাই মোহাম্মদ বিন নায়েফের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫

০১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: