মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মহিবুর ও মুজিবুরের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ ১৭ মে

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত হবিগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে ১৭ মের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। আদালতে সময় আবেদন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা এই দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। বুধবার এ দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। বড় মিয়া ও আঙ্গুর মিয়া উভয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, আটক, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়। এ দুই আসামির বিরুদ্ধে ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এলাকায় রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে বড় ভাই ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও ছোট ভাই ছিলেন রাজাকার কমান্ডার। অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালের ১১ নবেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মরহুম মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে পাক বাহিনীর সহযোগিতায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়াসহ ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই তারিখে বানিয়াচং উপজেলাধীন খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় তাদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আহলাদ মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করে। পরে আহলাদ মিয়ার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করে।

এছাড়া একাত্তর সালের বাংলা ভাদ্র মাসের কোন এক সময় আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনে তিনি পঙ্গু হয়ে যান। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জের কুখ্যাত রাজাকার ও জেলার বানিয়াচং উপজেলাধীন খাগাউড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার ভাই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই দিনই দুপুরে ট্রাইব্যুনালে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতারের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর তাদের গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। পরে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নেয়ায় ট্রাইব্যুনাল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে গত ১১ মার্চ রাজাকার কমান্ডার মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়াকে সেফ হোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা। ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কগনিজেন্স-৪ এর বিচারক রাজীব কুমার বিশ্বাসের আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে বানিয়াচং থানা পুলিশকে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি বিজ্ঞ আদালত থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫

০১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: