আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছুঁয়ে দিলে মন ॥ দর্শক প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

১০ এপ্রিল, ২০১৫ তে মনফড়িং ও ধ্বনিচিত্রের যৌথ প্রযোজনায় এবং শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ মুক্তি পায়। নামেই বোঝা যায় এটি প্রেমের কাহিনীনির্ভর চলচ্চিত্র। আমাদের গ্রামবাংলার সমাজে একটা ছেলে-মেয়ের মেলামেশা অনেকেই ভাল চোখে দেখে না। তেমনটাই দেখা যায় এখানে। নীলা (মম) ও আবীর (শুভ) ছোট বেলার বন্ধু। এলাকার এক বড় ভাই আর বোনকে প্রেমে সাহায্য করে তারা। সেটা এলাকাবাসী দেখে ফেলে। ফলশ্রুতিতে ছেলেটাকে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়। এলাকাবাসী নীলা ও আবীর কেউ ধরে আনে। নীলার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী। আর আবীরের বাবা, নীলার বাবার কারখানার ইঞ্জিনিয়ার। নীলার বাবা এলাকায় সালিশ ডাকে। এতে নীলা ভয়ে বলে আবীর তাকে বিরক্ত করত। এটা শুনে আবীরের পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু তারা যায় না। আর এদিকে নীলার বাবা, চাচা আবীরের পরিবারের ওপর অত্যাচার শুরু করে। এক সময় তারা বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ে। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই কাহিনী শুরু“হয়। এক কথায় দৃষ্টিনন্দন একটি ছবি। পরিচালককে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। এর লোকেশন, কস্টিউম, সংলাপ, প্রযোজনা ভাল ছিল। নায়ক-নায়িকার মূল কাহিনী প্রবেশে বাড়াবাড়ি ছিল না। বিশেষ করে আবীরকে অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে নায়ক আবীরের অভিনয় অনেক সাবলীল। শুভর অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে অনেকেই বলত তিনি বেশি ন্যাকামি করে কিন্তু এই চলচ্চিত্রে তা একদমই অনুপস্থিত ছিল। মম-এর অভিনয়ও সাবলীল। তবে যখন তাদের দেখা হয় সেখানে নীলা আবীরকে ১২ বছর পর চিনেই জড়িয়ে ধরে। ছোটবেলার পরিচয়ে এতবড় হয়ে এত সহজেই মেশা যায় কি? আমার মনে হয় না। যেটা চোখে লেগেছে। তবে বাংলা সিনেমার চিরাচরিত ২০ বছর না হয়ে ১২ বছর পর দেখা, ব্যাপারটা ভাল লাগছে। এই জুটির নাচ, গানগুলো অনেক দৃষ্টিনন্দন এবং সাবলীল ছিল। ক্যামেরার কাজ, গ্রাফিক্সের কাজ সবই অনেক ভাল ছিল। একসময় বলা হতো হুমায়ুন ফরিদী, আহমেদ শরীফ, রাজীব এদের অনুপস্থিতিতে বাংলা চলচ্চিত্রে ভিলেন সঙ্কট হবে। ড্যানি (ইরেশ জাকের) এর অভিনয় দেখে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়। অনেক সময়ই দেখা যায় ভিলেনের মেয়েদের প্রতি মনোভাব খারাপ থাকে। কিন্তু এখানে ড্যানি অনেক বিনয়ী ছিল। এটা ভাল লেগেছে যে, নারীকে দুর্বল দেখানো হয়নি। ড্যানির সঙ্গে নীলার বিয়ের সময় নীলার পালিয়ে আসাটাই সিনেমার ক্লাইম্যাক্স শুরু। আবীর নীলাকে ধোঁকা দিয়ে বাবার কাছে ফেরার পর, তার বাবা এটা মেনে নেইনি, এটা পজিটিভ সাইট ছিল। আদর্শ অভিভাবকের উদাহরণ। তবে এখানে আবীরকে তার মা মারা যাওয়ার ঘটনাটা কেমন গোঁজামিল লাগে। আবীরের ধারণা তার মা হৃদয়পুরের শোকে মারা যায় কিন্তু তার বাবা বলে তার মা হার্ট এর রোগে মারা যায়। সন্তান তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জানে না, বিষয়টা চোখে লাগার মতো। তবে বর্তমানের সিনেমাগুলো শুধু নায়ক-নায়িকা কেন্দ্রিক হলেও, এই সিনেমায় পরিবারের ভূমিকা ছিল, এটা ভাল ছিল। সিনেমাতে যখন দেখানো হয়েছে আবীর ভুল বুঝেছে। সেখানে আমার মনে হয়েছে যতখানি না নীলার প্রতি ভুল করেছে, তার থেকে বেশি মনে হয়েছে তার বাবা কথা বলছে না সেটার জন্য সে নীলার কাছে ফিরে যায়। ভাল লেগেছে চিরাচরিত সেই এক গানে নায়িকার রাগ না ভাঙ্গায়। তবে পরেরবার আবীরের হৃদয়পুর ফেরার সময় ব্যাগ গোছানোটাকে ফোকাস করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবীর যখন দৌড়ায় তখন তার হাতে শুধু গিটারই থাকে। এটা চোখে লাগার মতো ছিল। আলিরাজের দেয়া শর্তানুযায়ী, খান সাহেবের মূর্তি ওঠানোর বুদ্ধিটা ভাল লেগেছে। তবে আবীরের, শহীদুল বন্ধুর চরিত্রটিকে কিছু সময় দিলে ভাল হতো। একদমই সময় দেয়া হয়নি! কেমন যেন তাড়াতাড়ি শেষ করার গন্ধ! নীলা-আবীরের পানিতে পরে আত্মহত্যার চেষ্টায় সিনেমার মোড় অন্যদিকে যেতে চাইছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে তাদের পানির দৃশ্যের গ্রাফিক্সের কাজটা ভাল লাগেনি। অভিজ্ঞ হিসেবে বরাবরের মতোই আলিরাজ ও মিশা সওদাগর অনবদ্য ছিল। ভিলেন চরিত্রের বাইরে মিশাকে দর্শক অনেক ভালভাবে নিয়েছে। আর কমেডি ক্যারেক্টার হিসেবে আনন্দ খালেক যথেষ্ট সাবলীলতা দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এই বন্ধুর ‘মানকি স্টাইল টাইগার পাঞ্চ’ নীলা ও আবীরের মিলনে সাহায্য করে। যেটা দেখতে আপনাকে হলে যেতে হবে। নিরাশ হবেন না। বাংলা সিনেমায় পরিবর্তন এসে গেছে, এটা বলা যায়। আশা করছি ভবিষ্যত এ অনেক ভাল সিনেমা আমরা উপহার পাব।

দেবরাজ দেব

সম্মান, ২য় সেমিস্টার

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: