রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সুদীপের পথচলা

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এফএম রেডিও স্টেশনগুলো। তারকা খ্যাতিতে পিছিয়ে নেই কথাবন্ধুরা। এবিসি রেডিওর জনপ্রিয় কথাবন্ধু সুদীপ দে। তার বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান দারুণভাবে শ্রোতাপ্রিয়। পাশাপাশি রেডিও সাংবাদিকতাও করছেন। সম্প্রতি দুদকের দুনীতিবিরোধী সৃজনশীল সেরা প্রতিবেদনের পুরস্কার পেয়েছেন সুদীপ। এই তরুণের কথাবন্ধু হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে লিখেছেন ইমরান হোসেন

এমনিতেই সাধারণ জীবন যাপন সুদীপের কিন্তু যখন হট সিটে বসে মাইক্রোফোন হাতে তুলে নেন আর অন এয়ারের লাল বাতি জ্বলে ওঠে তখন তিনি অন্য মানুষ। কথার তুবড়ি আর মজার মজার সব অভিজ্ঞতা দিয়ে শ্রোতাদের ভালই আনন্দ দেন তিনি। কথা প্রসঙ্গেই জানালেন, ‘মানুষকে আনন্দ দেয়াটা আসলে ভীষণ কঠিন একটা কাজ। যতদিন একজন মানুষেরও আমার অনুষ্ঠানটা শুনে মন ভাল হয়ে যায় সেটাই আমার বড় পাওয়া।’ মাঝে মাঝেই দূর-দূরান্ত থেকে সুদীপকে খুঁজতে অফিস অব্দি চলে আসে ভক্তরা। মাঝে মাঝে তারা নিয়ে আসে চমকপ্রদ সব উপহার। শুরুতে তিনি এবিসির সংবাদ বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এখন সংবাদে কাজের পাশাপাশি কয়েকটি অনুষ্ঠানে কথাবন্ধুর কাজ করছেন তিনি। দুদক এর সৃজনশীল দুর্নীতিবিরোধী সেরা প্রতিবেদন এর পুরস্কার প্রাপ্তিতে ভীষণ খুশি সুদীপ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেই ফেললেন, ‘স্বীকৃতি পেতে কার না ভাল লাগে। আর এটি আমার জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। আমার ভবিষ্যতের জন্য এটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছি।’ তবে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি এবিসি রেডিওর প্রাক্তন স্টেশন ম্যানেজার সানাউল্লাহ লাভলুর প্রতি। তিনিই প্রথম আমাকে অনুষ্ঠান করার অফার দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ও তো এমনিতেই অনেক মজা করে। ওর এই প্রতিভাকে কাজে লাগানো যাক’। প্রতিভাকে সুদীপ ভালই কাজে লাগিয়েছেন। বর্তমানে এবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে তার প্রোগ্রাম রয়েছে।

তবে শুধু পর্দার বাইরেই নয় পর্দার সামনেও আছেন তিনি। কলেজ লাইফ থেকেই মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ে কাজ করতেন তিনি। সেখানে অহম তমসা, ঘুম নেই এবং শিখ-ী কথা নামে তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০১৩ সালে বিটিভির পাঁচ পর্বের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। টিভি নাটকে অভিনয়ের কথা চলছে। একটি ধারাবাহিক এবং দুটি খ- নাটকের জন্য প্রতিশ্রুত হয়েছেন। কথাবন্ধু সুদীপকে সামনে অভিনেতা হিসেবে দেখলে তার শ্রোতার নিশ্চয়ই খুশীই হবেন।

বাংলা সিনেমার বিশাল ভক্ত সুদীপ। স্কুল থাকতে ম্যাট্রিকের ফরম ফিলাপের টাকা দিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের এমন কোন সিনেমা নেই যা তার দেখা নেই। সুদীপের ছেলের চেয়ে মেয়ে ভক্তদের সংখ্যাই বেশী। একবার বইমেলায় একটি অন্ধ কিশোর সুদীপকে ছুয়ে দেখতে চেয়েছিল। কারণ সে সুদীপের প্রোগাম শুনত নিয়মিত। অবসরে বই পড়তে ভালবাসেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাতেও কম যান না তিনি। বাসা পুরনো ঢাকাতে হওয়ার সুবাদে বুড়িগঙ্গার তীরে একটি সুন্দর জায়গা আছে, সেখানেই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে ভালবাসেন খুব।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কি? ‘মানুষের আরো কাছে যেতে চাই।

মাকে অনেক ভালবাসেন সুদীপ। নিজের এতদূর আসার পেছনে সব কৃতিত্বই দিতে চাইলেন মাকে। ‘মা না থাকলে আমার আজকের এই অবস্থায় আসা সম্ভব ছিল না। ’

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: