মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সতর্কতা জরুরী

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

ভূমিকম্পজনিত আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে একটি সহযোগী দৈনিকে। রাজধানীর ৬৫ ভাগ এলাকা বহুতল ভবন নির্মাণের উপযুক্ত নয়।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজধানীর ৬৫ ভাগ নয়, প্রায় শতভাগ এলাকায় গড়ে উঠেছে এবং উঠছে বহুতল ভবন। অনেক ক্ষেত্রে মাটির উপযুক্ততা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। মানা হচ্ছে না এ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালাও। এ অবস্থায় আইন-নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি ক্রমান্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রাজধানীর আবাসন ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রা। যদি শনিবারের ভূমিকম্পের উৎস নেপাল না হয়ে রাজধানী বা এর আশপাশের এলাকায় হতো তাহলে অবস্থা কতটা ভয়ানক হতো তা কল্পনাও করা যায় না।

রাজধানীর যেখানে সেখানে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। এ কাজ যদি নিয়মমাফিক হতো তা হলে বলার কিছু ছিল না। রাজধানীর সব এলাকার মাটি এক রকম নয়। কোন কোন এলাকার মাটি এমন যে সেখানে বহুতল ভবন তো দূরের কথা সাধারণ ভবনই নির্মাণের উপযুক্ত নয়। সেসব এলাকায় ভবন নির্মিত হলে বা যেগুলো নির্মিত হয়েছে তা বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ধসে যাওয়াসহ নিচে দেবে যেতে পারে। এদিকে রয়েছে নিচু এলাকা, জলাশয়, ডোবা ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া। এখানে যতটা পাইলিং হওয়ার কথা তা না হওয়ায় হয়ে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ। মাটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও হচ্ছে অসাধুতা। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত।

রাজধানীর মধ্যে যে কোন নতুন ভবন বা এ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া সমাধা হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকের মাধ্যমে। যে অনিয়মগুলো ঘটে প্রকাশ্যেই। এই বাস্তবতায় রাজউক দায় এড়াতে পারে না; পারে না সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও।

বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যাপারে যে সমস্ত আইন-নিয়ম ও নীতিমালা রয়েছে তা সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করা জরুরী। যেসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে সেসব অনেক আগেই চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় যোগ হয়েছে আরও কিছু ভবন। এসব ভবনের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ যাঁরা আছেন তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসাটাও অতি জরুরী। ভবন মালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকেও সচেতন হতে হবে; নিতে হবে দায়িত্ব। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বিএনবিসি মেনে দুর্যোগ প্রতিরোধ বা ভূমিকম্প থেকে রক্ষাকারী সর্বোপরি পরিবেশবান্ধব ভবন নিশ্চিত করতে হবে সবার মঙ্গলের জন্যই। মনে রাখা দরকার, কোন দুর্যোগই আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে না। মানুষের কল্যাণে, দেশের মঙ্গলে ও সম্পদ রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভবন, আবাসন ও এ জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: