আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধ: জামালপুরের ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ০৫:৫৪ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে আগামী ৬ মের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

একটি মামলার ওই আট আসামি হলেন- আশরাফ হোসেন (৬৪), অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন (৭১), মো. আবদুল মান্নান (৬৬), মো. আবদুল বারী (৬২), মো. হারুন (৫৮), মো. আবুল হাশেম (৬৫), শামসুল হক ওরফে বদর ভাই (৭৫) ও এস এম ইউসুফ আলী (৮৩)। তাদের মধ্যে দু’জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও পলাতক রয়েছেন বাকি ছয়জন।

আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা দু’জন মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পলাতক বাকি ছয়জন ছিলেন আলবদর বাহিনীর। গ্রেফতারকৃত অ্যাডভোকেট শামসুল আলম জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এবং এস এম ইউসুফ আলী সাবেক জামায়াত নেতা ও সিংহজানি স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক।

জামালপুরে আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২১ এপ্রিল শুনানি শেষে তা আমলে নেওয়া হবে কি-না সে বিষয়ে বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানি করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল।

গত ১৯ এপ্রিল দুপুরের দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বলের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম ১০৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন।

আট আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(১), ৪(১) ও ৪(২) ধারা অনুসারে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও লাশ গুমেরপাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৎকালীন জামালপুর মহকুমায় তারাঅপরাধগুলো সংঘটিত করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জামালপুরে রাজাকার-আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটি গঠন, স্থানীয় সাধনা ঔষধালয় দখল করে আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটির কার্যালয়স্থাপন এবং সিংহজানি হাইস্কুলে আলবদরদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এছাড়া পিটিআই হোস্টেল ও আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রি হোস্টেল দখল করে নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে সেগুলোতে১০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা-গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার ৩৪ জন ও জব্দ তালিকার ৬ জনসহ মোট ৪০ জন সাক্ষী ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ০৫:৫৪ পি. এম.

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: