কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনিয়মের লিখিত অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩৯ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিণের অভিযোগগুলো রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও উত্তরের অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন অভিযোগকারিরা। দক্ষিণে অন্তত ৩০ এবং উত্তরে ১৪ অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারী প্রার্থীদের বেশিরভাগই বিএনপি সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগে পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোটারদের ভোট দিতে বাধা প্রদান এবং সরকারী দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ আনা হয়েছে। দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীরা আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে পুলিশের হাতে দিচ্ছে। আব্বাসের স্ত্রী লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, আওয়ামী ক্যাডাররা ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে তাদের প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরেছে। দক্ষিণের ৩৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ামুল হক কার্জন লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোটের বাক্স ভরেছে দু’ ঘণ্টায়। ৩৯নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মইনুল হোসেনের লোকজন ব্যালেট বাক্স দখলে নিয়ে দু’ ঘণ্টায় সিল মেরে ভরে ফেলেছেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত এ সব অভিযোগ জানিয়েছি। ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোশাররফ হোসেন চঞ্চল চারটি, ৫৬নং ওয়ার্ডের কামরুল ইসলাম চারটি অভিযোগ দায়ের করেন। একটি করে অভিযোগ দায়ের করেন ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান, ৪১নং ওয়ার্ডের সৈয়দ রেফাত আহম্মদ, ৪৮নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জনি, ৫নং ওয়ার্ডের দিলারা বেগম, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাইমুল সুইট, ৪৭নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মাহবুব মাওলা হিমেলসহ আরও কয়েক প্রার্থী। লিখিতভাবে তারা তাদের পোলিং এজেন্টকে মারধর, ভোটারদের ভোট দিতে বাধা প্রদান, জোরপূর্বক ভোট কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছেন। প্রার্থীদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে কিছু বলা যাবে না। কোন প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে আমাদের অভিযোগ সেলে অভিযোগ দায়ের করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরাই ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে, উত্তরের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। বাকি অভিযোগকারিরা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গেছেন এবং সেখানেই জমা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১৪ অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও জোনায়েদ সাকীর অভিযোগও আছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে এ আশা ও বিশ্বাসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সরকারী দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর কর্মীরা এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আমার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। পুলিশ আমার এজেন্টদের বিনা কারণে আটক করে। এক হাজার ৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দু’একটি কেন্দ্রে কৌশলে তার এজেন্ট রাখতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তাবিথ। তবে তাদেরকেও এক সময় বের করে দেয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে আবেদন জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি দাবি করে তাবিথ বলেন, এমনকি যাতে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া না যায় সেজন্য রিটার্নিং অফিসারের ফ্যাক্স মেশিনও বিকল করে রাখা হয়।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩৯ এ. এম.

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: