আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মর্যাদার টেস্ট মিশনে টাইগাররা

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫
  • অতশী আলম

ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সফরকারী পাকিস্তান দলকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে টাইগাররা। এরপর একমাত্র টি২০ ম্যাচেও পাকিদের ইজ্জত লুটে নিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। স্বল্পদৈর্ঘ্যরে দুই ঘরানায় অসাধারণ সাফল্যের পর এখন আভিজাত্যের টেস্ট লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মুশফিকুর রহীমের দল। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে গড়িয়েছে মঙ্গলবার থেকে। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নেমেছেন তামিম, সাকিব, মাহমুদুল্লাহরা।

একদিনের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্দান্ত সাফল্য পেলেও টেস্টে এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি টাইগারদের। একদিবসীয় ক্রিকেটে দারুণ নৈপুণ্যের কারণে বাংলাদেশকে এখন পরাশক্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাকিদের দুই ঘরানায় উড়িয়ে দেয়ার পর এবার টাইগারদের পালা পাঁচ দিনের ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরা। মিসবাহ-উল-হকের দলকে এবার কুপোকাত করতে পারলে সাফল্যের ষোলোকলা পূর্ণ হবে লাল-সবুজের এই দেশের।

ওয়ানডে ও টি২০ তে শতভাগ জয় তুলে নেয়ায় দারুণ আত্মবিশ্বাসী এখন টাইগার শিবির। তবে এর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ টেস্ট খেলে ন্যূনতম ড্রয়ের মুখও দেখেনি বাংলাদেশ দল। সবগুলো টেস্টেই হেরে গেছে পাকিদের কাছে। ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা থাকছেন না টেস্ট সিরিজে। কেননা এখনও লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেট খেলার মতো উপযোগী ফিটনেস নেই নড়াইল এক্সপ্রেসের। মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে খেলছে এবার বাংলাদেশ দল। তবে টেস্ট সিরিজের জন্য আশাবাদ জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি দাবি করেছেন পাকদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ড্র করলেই তা যথেষ্ট খুশির ব্যাপার হবে। চারটি করে টেস্ট ম্যাচ নিজেদের মাঠে ও পাকিস্তানে গিয়ে খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে ইনিংস পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের জন্য চারবার।

সর্বশেষ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দু’দলের মধ্যে টেস্ট খেলা হয়েছে। সেবারও বাংলাদেশ সফরে এসে অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের দল জিতে গেছে অবলীলায়। তবে গত সাড়ে তিন বছরে অনেকটাই বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে তেমন ভাল করার রেকর্ড না থাকলেও এ সময়ের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটেও বেশ উন্নতি করেছে টাইগাররা। পাকিস্তানের মোকাবেলা করার পর থেকে আরও ১৫ টেস্ট খেলেছে দল, যার মধ্যে ৭ টেস্ট হারের বিপরীতে বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়েছে চারটিতে এবং ড্র করেছে চারটি। গত বছরের শেষদিকে জিম্বাবুইয়েকে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার মধুর স্মৃতিও আছে। তারপর থেকে আর গত ৫ মাস কোন টেস্ট খেলেনি দল। দীর্ঘ এ বিরতিতে বিশ্বকাপ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বল্প পরিসরের ক্রিকেট নিয়েই বেশি ব্যস্ত থেকেছে দল। এত বড় বিরতি শেষে টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশের জন্য। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি মনে করি ধারাবাহিকতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে আমরা যেভাবে ওয়ানডেতে ম্যাচ জিতেছি তা ছিল অসাধারণ। আমরা ভাল খেলে ও প্রভাব খাটিয়ে জিতেছি। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানের সাফল্য। আশা করছি এই ধারাবাহিকতা টেস্টেও থাকবে।’

অনেকদিন বিরতির পর টেস্ট খেলতে নেমে ভাল করাটা সহজ হবে না টাইগারদের জন্য। যদিও এর মাঝে ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) খেলেছে। যদিও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবার এনসিএলে অংশ নিতে পারেননি। তবে খুলনায় প্রথম টেস্টের আগে আরেকটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) খেলার সুযোগ পেয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘শেষ ৬/৭ মাস কিন্তু আমরা সাদা বলেই অনুশীলন করে এসেছি। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতিটা খুব ভাল হওয়া দরকার। কারণ, এটা ভিন্ন ধরনের খেলা।’ তবে টেস্ট সিরিজেও খেলবেন এমন কিছু ক্রিকেটার রান পাওয়াটাকে বেশ ইতিবাচক দিক মনে করছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘খুব ভাল হয়েছে যে টেস্টের আগে সাকিব ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে। রুম্মান হয়ত বা টেস্ট ম্যাচে নেই। দলে মূল খেলোয়াড়দের ব্যাটিং করাটা প্রয়োজন ছিল। টি২০ তে যেটা সাকিব করেছে সেটা যদি টেস্টেও করতে পারে তাহলে ভাল হবে। শুধু টি২০ না টেস্ট কিংবা ওয়ানডেতেও বোলাররা ভাল করলে ম্যাচ জয় সহজ হয়ে যায়। সব সময় আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটটা বোলারদের খেলা।’

আগে খেলা টেস্টগুলোর মধ্যে একবারই পাকিস্তানকে বাগে পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারেনি। ২০০৩ সালে মুলতানে জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল সফরকারী টাইগাররা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ১ উইকেটে হেরে যায়। ১২ বছর কেটে গেছে। এখন বাংলাদেশ দারুণ ফর্মে আছে এবং পাক শিবিরকে ওয়ানডে সিরিজে বিধ্বস্ত করার পর টি২০ ম্যাচে উড়িয়ে দেয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ যদি আমরা ড্র করতে পারি তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ফলাফল হবে। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের অনেক উন্নতিও করতে হবে।’

টেস্ট সিরিজ শুরুর ছয় দিন আগে ঢাকায় পা রেখেছেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। কারণ আর কিছুই নয়, নিজেদের দ্রুত মানিয়ে নেয়া। ওয়ানডে সিরিজে বাজেভাবে হারলেও টেস্ট সিরিজে দারুণ কিছু করার প্রত্যাশা অধিনায়ক মিসবাহর। তিনি দেশের ক্রিকেটভক্তদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে আত্মবিশ্বাস জানিয়েছেন টেস্ট সিরিজে জয়ের। বিশ্বকাপের পরই ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন মিসবাহ। তাই নতুন অধিনায়ক আজহার আলীর নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে হয়েছে। ওয়ানডে দলে অভিজ্ঞতারও যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। অধিকাংশ ক্রিকেটারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিজ্ঞই বলা যেতে পারে। সেই দলটির চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে সেটাই স্বাভাবিক। সে জন্য দেশের ভক্ত-সমর্থকদের অপেক্ষার আহ্বান জানালেন মিসবাহ। আর এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বললেন, ‘আমরা যদি নতুন চেহারার ওয়ানডে দলের দিকে তাকাই তাহলে এই পরাজয়টাকে সহ্য করে নেয়াই ভাল হবে। যত পরিবর্তন আমরা দলে দেখেছি সেটার একটা প্রভাব অবশ্যই থাকবে। কারণ কিছু খেলোয়াড় অনেক দিন পর ফিরেছেন এবং কিছু নতুন খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন। বিশ্বকাপের পর অভিজ্ঞ শহীদ আফ্রিদিও অবসরে গেছেন। এছাড়া ইউনুস খান, উমর আকমল ও আহমেদ শেহজাদরা ছিটকে গেছেন বাজে পারফর্মেন্সের কারণে। সবমিলিয়ে ওয়ানডে দলটি সুংসহত হয়ে ওঠার জন্য সময় লাগবে। এ বিষয়ে মিসবাহ বলেন, ‘আমরা যদি ভবিষ্যতের জন্য ভাল একটি দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেই সেক্ষেত্রে এই নতুন খেলোয়াড়দের সমর্থন করতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস যোগাতে হবে। আমরা যদি এখন বেশি যন্ত্রণাকাতর না হই এবং এ দলটিকে বছর দুয়েক সময় দেই সেক্ষেত্রে অনেক ভাল দলে পরিণত হবে। সুতরাং আমাদের এখন পরাজয়ের দিকে তাকানো ঠিক হবে না বলেই মনে করি।’

বাংলাদেশ দলের অভূতপূর্ব উন্নতির দিকে তাকিয়ে শেখার আহ্বানও জানান মিসবাহ। কিছুদিন আগেও ‘ছোট দল’ ‘আন্ডারডগ’ তকমা থাকলেও সেটা বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় পার করে ঝেড়ে ফেলেছে বলে মনে করেন মিসবাহ, ‘এটাই সেই বাংলাদেশ দল যারা গত বছর এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে হেরে গিয়েছিল। সেটাও নিজেদের মাটিতে। কিন্তু খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখেছিল তারা। এখন বাংলাদেশ অনেক পরিণত খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি দল।’

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: