কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জার্মান মেয়েরাও এবার বিশ্বকাপ জিততে চায় ॥ হেনিং

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গতবার মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। টানা দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক হিসেবে জার্মানির মহিলা ফুটবল দলই ছিল হটফেবারিট। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জিতে সেরা দল হিসেবেই পেরিয়ে গিয়েছিল প্রাথমিক রাউন্ডের গ-ি। কিন্তু সেই দলটাই কিনা জাপানের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিল। এবার আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে। কানাডায় আগামী জুনে সপ্তম মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর মাঠে গড়াবে। গত বছর পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ২৪ বছর পর আবার শিরোপা জয় করে দেশে ফিরেছিল জার্মানি। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আবারও মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার করতে চায় জার্মান মেয়েরা। দলের ডিফেন্ডার জোসেফিন হেনিং এমন প্রত্যয়ই জানালেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি তিনটি উয়েফা মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, চারটি বুন্দেসলীগা, একটি ডিএফবি-পোকাল এবং একটি মহিলা ইউরো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। শুধু বাকি আছে মর্যাদার বিশ্বকাপ জয় করা। সেটাও এ বছর করতে চান হেনিং। দোহায় অনুশীলন ক্যাম্প করছে বর্তমানে জার্মান মেয়েরা। এর ফাঁকেই হেনিং আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে এক সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন। সেটারই কিছু অংশ তুলে ধরা হলোÑ

প্রশ্ন ॥ এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনার অসাধারণ নৈপুণ্য দেখা গেছে। কিভাবে এ সাফল্যের শুরুটা হলো?

হেনিং ॥ আমার বাবা ফুটবল খেলতেন। তিনি ৩০-৩৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতেন। আমি সব সময়ই কাছাকাছি থাকতাম এবং মাঝে মাঝে তাঁদের সঙ্গে খেলতাম। ছোট্ট একটি মেয়ে হিসেবে ফুটবল খেলতে থাকার পরই এর প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। কিছুদিন পর বাবাই আমাকে বললেনÑ তোমার উচিত কোন একটি ক্লাবের হয়ে খেলা। সৌভাগ্যক্রমে আমরা যেখানে বাস করতাম সেখানে একটি মহিলা ফুটবল দল ছিল।

প্রশ্ন ॥ এখন আপনি প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে খেলছেন। এটা কি আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে?

হেনিং ॥ আমি সবসময়ই চাইতাম অন্য কোন দেশে গিয়ে থাকতে। আমি জানতাম না দেশের প্রতিবেশী ফ্রান্সেই সে সুযোগটা হবে। তবে মাঝে মাঝে সংস্কৃতি ও পরিবেশ বিবেচনায় জার্মানি থেকে অনেক দূরের কোন জায়গা মনে হয় প্যারিসকে। কিন্তু আমার মা যেখানে থাকেন সেখানে যেতে আমার মাত্র তিন ঘণ্টা সময় লাগে। আর আমার পুরনো ক্লাব পোটসড্যাম ও উলফসবার্গে পৌঁছতে লাগে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা। অবশ্যই প্যারিসে খেলাটা স্বপ্ন ছিল। অন্য দেশে গেলে সেখানকার রীতিনীতি, সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে একটি জ্ঞান হবে। সেই সঙ্গে নিজের সম্পর্কেও বোঝা যায় যা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ॥ এবার গ্রীষ্মে দারুণ কিছু করার সুযোগ আছে আপনার। পুরুষ দলের গত বছর ব্রাজিলে দুর্দান্ত অভিযানটা কি আপনাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে সে ব্যাপারে?

হেনিং ॥ এটা সত্যিই খুব ভাল অনুপ্রেরণা। আমরা এটা করতে চাই। সবাই সে জন্য সচেষ্ট এবং আমাদের দারুণ একটি সমন্বয় রয়েছে। পুরুষ ও মহিলা দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একই দেশের এটা সত্যিই দারুণ এক প্রাপ্তি হবে। অবশ্যই এটা তেমন সহজ হবে না। এবার দুই-তিনটি দল ফেবারিট সেটা কোনভাবেই বলা যাবে না। অনেক চমক থাকতে পারে। সবকিছুই ঘনিয়ে আসছে। এমনকি ট্রেনিংয়ের পদ্ধতিতে শারীরিকভাবে এবং কৌশলগতভাবে পরিবর্তন আসছে। তাতে করে আমাদের অনেক উন্নতিও হয়েছে।

প্রশ্ন ॥ ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের চার বছর পর কি সবকিছু একই রকম থাকবে? বিশেষ করে মানুষের আগ্রহ, সমর্থন আপনাদের দলের প্রতি?

হেনিং ॥ জার্মানিতে বিশ্বকাপ এবং মানুষের এক্ষেত্রে অপরিসীম আগ্রহ, সমর্থনটাই আমাদের মহিলা ফুটবলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক বড় পদক্ষেপ ছিল। এবার দেশ থেকে অনেক দূরেই আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাব। কিন্তু আশা করছি একই রকম সমর্থন ও আগ্রহ থাকবে জার্মানবাসীর। এমনকি কানাডায় বিশ্বকাপে আমাদের কভারেজ আরও বেশি হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

প্রশ্ন ॥ কানাডায় সফলতার চাবিকাঠি কি হতে পারে?

হেনিং ॥ আমাদের কোচ সার্বিক দিক থেকে বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, নানা পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তিনি। আমাদের দলও সেভাবেই তাঁর মাধ্যমে শিখছে এবং জানতে পারছে। আমাদের দলে এখন অভিজ্ঞ এবং তরুণ খেলোয়াড়ের দারুণ এক মিশ্রণ রয়েছে। সুতরাং এখন আমাদের এসব কাজে লাগাতে হবে। শিখতে হবে কোন্টা ভালভাবে কার্যকরী হবে এবং অতীতে যেসব ভুল হয়েছে সেগুলো শোধরানো যাবে। আমার মনে হয় আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। কানাডার পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে তা নিশ্চিত করে এ রকম কিছু মাঠে এমনকি আমরা দেশের বাইরে অনেক ম্যাচও খেলেছি। এ কারণে আশা করছি আমরাও বিশ্বকাপটা এবার জিততে পারব।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: