কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ড্রতেই জয় দেখছেন আতহার

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

মোঃ মামুন রশীদ ॥ দুর্দান্ত পারফর্মেন্স। দারুণ নৈপুণ্য দেখাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সফরকারী পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নাস্তানাবুদ করে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে পুরো জাতিকে গর্বিত করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। এমনকি টি২০ ম্যাচেও পাকদের দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয়নি টাইগাররা। এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা টেস্ট সিরিজে। আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ টেস্ট খেলেও না জেতার আক্ষেপ এবার ঘুচবে এমন প্রত্যাশাই করছে সবাই। একই প্রত্যাশা সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় নির্বাচক এবং জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানেরও। তবে বাস্তববাদী চিন্তা করলে ড্রয়ের লক্ষ্যেই খেলা উচিত বাংলাদেশের এবং সিরিজ ড্র করলেই বাংলাদেশের জয় হবে বলে মনে করেন আতহার। দৈনিক জনকণ্ঠের সঙ্গে আলোচনায় তিনি পাকিস্তান-বাংলাদেশ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে কথা বলেছেন আরওÑ

প্রশ্ন ॥ টেস্ট সিরিজ নিয়ে কী প্রত্যাশা করছেন?

আতহার ॥ টাইগাররা প্রত্যাশা তো বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের এত সহজ হবে না, ওয়ানডে সিরিজে আমরা যত সহজভাবে জিতেছি। আশা করব, তাঁরা যেভাবে খেলে আসছেন সেভাবেই খেলবেন। তবে খেলাটা লঙ্গার ভার্সন তো মানিয়ে ওঠা এবং খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা ব্যাপার আছে। আমি মনে করি, কঠিন পরীক্ষা বাংলাদেশ দলের জন্য। আমাদের মনে রাখতে হবে, টেস্ট ম্যাচ আসল পরীক্ষা। আমরা একদিনের খেলায় নিজেদের প্রমাণ করেছি। ২০০৭ সালেই প্রমাণ করেছি। এবার কিন্তু আমরা অতিরিক্ত ভাল করেছি। আমি বলব যে, যতদিন ধরে আমরা খেলছি ইতিহাসে আমরা এত ভাল খেলিনি। এটার যদি কিছুটা ঝলক, অল্প ঝলকও আমরা দেখাতে পারি তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটও ভাল খেলবে।

প্রশ্ন ॥ সর্বশেষ টেস্ট দল থেকে অনেকগুলো পরিবর্তন আছে, এই পরিবর্তনগুলোর পর দল নিয়ে আপনার কী বিশ্লেষণ?

আতহার ॥ জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে আমরা যাদের নিয়ে খেলেছি তাঁদের বেশ কয়েকজন বিভিন্ন কারণে নেই। তবে আমি শুধু বলব সমন্বয়টা দারুণ। শুধু নাসির হোসেনকে আমি দলে দেখতে চেয়েছিলাম। তাঁর অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগত। শুভাগত হোমকে আমি দলে দেখছি। নির্বাচকরা বলেছেন, অফস্পিনার কাম ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করছেন তাঁরা। আমি মনে করি, নাসিরের কাছ থেকেও এই আশাটা আমরা করতে পারতাম। জুবায়ের হোসেন কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না। তাঁর জন্য এটা বড় পরীক্ষা হবে। দলগতভাবে বাংলাদেশ কিন্তু ভাল করছে। কেউ একজন না পারলে আরেকজন কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে কিছু করে যাচ্ছেন। এটা খুবই ভাল লক্ষণ।

প্রশ্ন ॥ টেস্টে আমাদের কী লক্ষ্য থাকা উচিত?

আতহার ॥ এটাতো পাঁচদিনের খেলা। সেশন ভেদে ব্যাটিংয়ে ভাল করতে হবে এবং বোলিং করে প্রতিপক্ষের ২০টা উইকেট নিতে হবে। যেহেতু আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছি, আশপাশে দাঁড়াতেই দেইনি। সেজন্য আমরা যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আমরা টেস্ট ম্যাচ হারব না। আমি চাইব আমাদের ছেলেরা চিন্তা করবে ড্র করার। আর ড্র করতে পারব ভাবলেই কিন্তু আমরা জিততে পারব। আমরা ড্র করতে পারলেই কিন্তু মনে করব যে, আমাদের জয় হবে।

প্রশ্ন ॥ আগে আমরা দুই পেসার নিয়ে খেলতাম। এখন নিয়মিত তিন পেসার নিয়ে খেলছি। এই পরিবর্তনটা কি বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের কারণেই সম্ভব হয়েছে?

আতহার ॥ আমি এত তাড়াতাড়ি কোচিং স্টাফদের বিশ্লেষণ করতে চাচ্ছি না। কিন্তু তাঁরা আমাদের বাধ্য করছেন ধন্যবাদ জানানোর জন্য। কারণ হিথ স্ট্রিকের অধীনে বাংলাদেশের বোলিং কিন্তু ভাল শৃঙ্খলা দেখাচ্ছে। তবে তাঁদের জন্য পরীক্ষা হবে এই টেস্ট ম্যাচে। তাঁদের সবার পরীক্ষা হবে এর পরে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভাল করতে পারলেই কিন্তু আমরা বলতে পারব যে, আমরা ভাল করছি।

প্রশ্ন ॥ শক্তিমত্তায় কে এগিয়ে বর্তমান পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দলের মধ্যে?

আতহার ॥ আমি কোন তুলনা করব না। সর্বশেষ ৯ টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ কী করেছে? বাংলাদেশ তিনটা জিতেছে, তিনটা হেরেছে এবং তিনটা ড্র করেছে। আমরা যে টেস্ট ম্যাচ ড্র করছি সেটা কিন্তু ভাল একটা লক্ষণ। সবাই টেস্ট ম্যাচ জিততে চায়, আমরাও চাই। কিন্তু সেজন্য আমাদের একটু বাস্তববাদী কিছু চিন্তা করতে হবে। আমরা যদি টেস্ট জিততে চাই তাহলে এখন থেকে সিরিজ ড্র করতে হবে। আর এতেই প্রতিপক্ষরা চাপে পড়বে। আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দারুণ সুযোগ পেয়েছি। কারণ আমাদের নায়কেরা দারুণ ক্রিকেট খেলছেন। এখন আমাদের পরীক্ষা হচ্ছে এতদিন ওয়ানডে খেলেছি, এবার টেস্ট কেমন খেলব আমরা।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: