মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আলো ছড়ালেন মোস্তাফিজুর

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫
  • অভিষেক
  • মাহমুদা সুবর্ণা

গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটের আলোচিত নাম বাংলাদেশ। কেননা শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে মাঝে মাঝে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয়া নিয়মিতই অভ্যাস তাদের। তবে টাইগারদের সেরা চমক একাদশতম ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথমবারের মতো স্বপ্নের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সাকিব-মাশরাফিরা। বিশ্বকাপের সেই দুর্দান্ত পারফর্মেন্স এখনও অব্যাহত টাইগারদের। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাওয়াশ করে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। এরপর একমাত্র টি২০ সিরিজেও দারুণ জয় পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে টি২০ জয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণদের ভূমিকাও ছিল প্রশংসনীয়। আর সেই তরুণদের একজন মোস্তাফিজুর রহমান।

গত বছর টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পেসার তাসকিনকে খেলানোর সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই বলছিলেন, ক্যারিয়ারটা সূচনাতেই শেষ করার জন্যই তরুণ এই ক্রিকেটারকে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে নামানো হচ্ছে। তাসকিন তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন ঠিকই। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের মূল্যবান এক উইকেট। যে উইকেটটি তিনি নিয়েছিলেন তিনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্লিন বোল্ড। সেই তাসকিন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন খুব অল্পসময়ে। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে চমকে দিলেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও।

পাকিস্তানের বিপক্ষে একদিনের সিরিজে সারাক্ষণ দলের সঙ্গে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি রনি তালুকদার। একমাত্র টি২০ তে রাখা হয় দুই নতুন ক্রিকেটার লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানকে। লিটন সুযোগ না পেলেও ১৯ বছর বয়সী মোস্তাফিজুরকে দলে ডাকেন চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে। অভিষেক হওয়া এই পেসারের বলে এতটা গতি না থাকলেও তার বোলিং প্রথম স্পেল মুগ্ধ করেছে সবাইকে। ঢাকায় এ সফরে জয় বুভুক্ষ পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনের সামনে বোলিং সূচনা করেন তিনিই। প্রথম দুই ওভারে ১০টি ডট, পাঁচ রান দিয়ে কোন উইকেট না পেলেও তার নিখুঁত বোলিং শুরুতে কিছুটা চাপ সৃষ্টিতে সহায়তা করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে।

তবে আশ্চার্য বিষয় হলো, মোস্তাফিজুর তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে সামান্য সময়ের জন্যও নার্ভাস হননি। মাশরাফির হাত থেকে বল নিয়ে চমৎকার সূচনা করেন সাতক্ষীরার এই ক্রিকেটার। প্রথম শ্রেণীতে মাত্র ৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যাতে ১৪ ইনিংসে উইকেট নেন ২৩টি। তার সেরা বোলিং ২৮ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট। এছাড়া লিস্ট ‘এ’ তে পাঁচ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১২ উইকেট লাভ করেন ১১২ রানের খরচে। অনূর্ধ্ব-১৯, জাতীয় ক্রিকেটে খুলনা বিভাগ, বিসিএলে সাউথ জোন ছাড়াও প্রিমিয়ার লীগে আবাহনীর হয়ে খেলে চমক দিয়েছেন তিনি। যদিও বা খুব বেশিদিন হয়নি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বছর তিনেকও হবে না, মিরপুর শেরেবাংলায় ফার্স্ট বোলিংয়ের ট্রায়াল ক্যাম্পে যোগ দিয়ে দৃষ্টি কেড়েছিলেন মোস্তাফিজুর। সেখান থেকেই তিনি যোগ দেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে। আর মোস্তাফিজুর যে নিজের সেরাটা দিতে পারবেন তাতে বিশ্বাস ছিল প্রধান নির্বাচক ফারুখ আহমেদের। এ বিষয়ে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেরা বোলার মোস্তাফিজুর। বাঁহাতি এ বোলারের বলে যথেষ্ট বৈচিত্র্যতা রয়েছে।’ আর সেই বিশ্বাস থেকেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ওপেনিংয়েই বল করেন মোস্তাফিজ। আহমেদ শেহজাদ ও মোকতার আহমেদ বেশ সমস্যায় পড়েন তার প্রথম স্পেলের বোলিংয়ে। টি২০ যেহেতু চার ছক্কার ম্যাচ। সেখানে একজন বোলার প্রথম দুই ওভারে যদি মাত্র পাঁচ রান দেন তাকে দুর্দান্ত সূচনাই বলতে হয়। এরপর ফেরেন ১১তম ওভারে। কিন্তু ওই ওভারেই আদায় করে নেন বুম বুম খ্যাত তারকা ব্যাটসম্যান শহিদ আফ্রিদির উইকেট। যদিও আউটটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু আম্পায়ারের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আদায় করাও সাফল্যের। যে কারণে তিন ওভার শেষে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং ৩-০-১৬-১। এরপর আবারও আসেন ১৮তম ওভারে। এই ওভারে আউট করেন ক্রিজে থাকা মোহাম্মদ হাফিজকে। ক্লি লেগবিফোর। ফলে তার চার ওভারে ২০ রান দিয়ে নিলেন প্রতিপক্ষের মূল্যবান দুই উইকেট। যে কারণেই মোস্তাফিজুরকে নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী বাংলাদেশের ক্রিকেট।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: