কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিন সিটি নির্বাচনেই ॥ আওয়ামী লীগ বিজয়ী

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫
তিন সিটি নির্বাচনেই ॥ আওয়ামী লীগ বিজয়ী
  • মাঝপথে বিএনপির ভোট বর্জন
  • অনিয়মের অভিযোগ এক শতাংশের কম কেন্দ্রে
  • বিএনপি বর্জনের পর ভোটার উপস্থিতি কিছু কমে যায়
  • মাঝপথে বিএনপির ভোট বর্জন
  • অনিয়মের অভিযোগ এক শতাংশের কম কেন্দ্রে
  • বিএনপি বর্জনের পর ভোটার উপস্থিতি কিছু কমে যায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে কার্যত বিজয়ের পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। রাত চার টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৮৫ কেন্দ্রে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক ১ লাখ ২৯ হাজার ২০০ ভোট বেশি পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৯৯ ভোট আর বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৯ ভোট। ঢাকা দক্ষিণের ৮৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮০৮ কেন্দ্রের ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন ২ লাখ ২৪ হাজার ২৭৭ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মির্জা আব্বাসের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সাঈদ খোকন পেয়েছেন ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২১৬ ভোট আর মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৯ ভোট। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৭১৯ কেন্দ্রের সব ক’টির ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৪ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আ জ ম নাছির পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট আর বিএনপির মনজুর আলম পেয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট।

মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে তিন সিটিতে টানা ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। নির্বাচনে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তিন সিটিতে শান্তিপূর্ণ

পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। পুরান ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মাত্র তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়নি। তবে বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণায় দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছু কমে যায়। এদিকে বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দু’-একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তিন সিটি নির্বাচনে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ঢাকার উত্তর, দক্ষিণের প্রায় ২ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিচ্ছিন্ন দু’-একটি ঘটনা বাদ দিলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই তিন সিটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দিতে পারেনি। অভিযোগে তাদের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে করতে দেয়া হয়নি বলা হলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এজেন্টরা নিজেরাই ভয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেনি। এ ছাড়া যেসব কেন্দ্রে গোলযেযাগের ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কোন সংঘর্ষেও খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকেই তিন সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভোটার উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৮টায় ধানম-ির সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করে বিএনপিকে গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ভোটের ফলাফল মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া এ নির্বাচনে সকাল থেকেই বিভিন্ন বিদেশী পর্যবেক্ষক ও রাষ্ট্রদূতরা সকাল থেকেই নির্বাচন পক্ষবেক্ষণ করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন সকালে বনানীর বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। তিনি এ নির্বাচনে বিএনপির ভোট বর্জনকে দুঃখজনক বলে আখ্যা দেন। এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটও বনানীর বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষজনক আখ্যা দিয়েছেন বলেন, অনেক লোক ভোট দিতে এসেছে এটা খুশির খবর। তবে নির্বাচনে সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি হতাশ প্রকাশ করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সিইসির ব্রিফ ॥ এদিকে প্রধান বির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য কমিশনার কমিশনে বসেই নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সকাল ১১টার দিকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজধানীর ধানম-ির কাকলী উচ্চ বিদ্যালয় ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোন অনিয়মের ঘটনা থাকলে আপনা দেখান। পরে নির্বাচন- পরবর্তী এক সংবদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সবার সঙ্গে কথ বলেছি। কিন্তু কেউ নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের অভিযো দেয়নি। নানা অনিয়মের কারণে মাত্র তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় পরে সেখানে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্টকে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে ফল মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যািহত রাখার আহ্বান জানান। বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আরও একদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন বয়কটের বিষয়ে বলেন, কোন প্রার্থী নির্বাচন বয়কটের জন্য কমিশনের কাছে দরখাস্ত দেননি। কোন প্রার্থীর নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা প্রার্থীর একান্ত নিজস্ব উল্লেখ করেন।

এদিকে নির্বাচন চলাকালে, ইসি মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জানান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর কোন প্রার্থীর আইনগতভাবে নির্বাচন বয়কটের কোন সুযোগ নেই। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনের বয়কটের ঘোষণা দিলেও তাদের অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি। তিন প্রার্থীর পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে তাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্ট ভোট কেন্দ্রে প্রবেশই করেনি। অপরদিকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে মনজুর আলম যখন নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন তখন প্রায় কেন্দ্রেই তার নির্বাচনী এজেন্ট ছিল। তিনি ভোট দিয়ে বলেন কিছু কেন্দ্রে তার নির্বাচনী এজেন্ট প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু বয়কটের সময় বলেন কোন কেন্দ্রে তার এজেন্ট ছিল না। এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণের দু’-একটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় ২ হাজার কেন্দ্রে কোন গোলযোগের খবরও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই নির্বাচনের পরিবেশ এই অজুহাতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোটগ্রহণের সাড়ে তিন ঘণ্টা পরেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম প্রথমে নির্বাচন থেকে সরে ঘোষণা দেন। এর এক ঘণ্টা পরেই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থী আফরোজ আব্বাস ও উত্তরের তাবিথ আউয়াল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। পল্টন দলীয় কার্যালয়ে দুই প্রার্থীর পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। অপরদিকে চট্টগ্রামে মেয়র প্রার্থী মনজুরের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তিন সিটি সকাল ৮টা থেকেই উৎসবমুখর ভোট গ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে প্রায় প্রত্যেক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে বলে ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে গুলশানে মানারাত ইন্টারন্যাশাল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ঢাকা উত্তরের তাবিথ আউয়াল বলেন, অনেক দিন পর গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছি। ভোটের আগের দিন সোমবার রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হচ্ছিল। ভোটের দিন আমাদের এজেন্টরা কেন্দ্রে গিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করে বলেন, আশা করি শেষ পর্যন্ত সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলবেন। তবে তাবিথ আউয়াল ভোট কেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেয়া অভিযোগ করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তার এজেন্টরা নিজ থেকেই কোন কেন্দ্রে প্রবেশ করেনি। সকালে তেজগাঁও কলেজে কেন্দ্রে পরিদর্শন করে তিনি প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুল আলিমের কাছে অভিযোগ করেন তার এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু প্রিসাইডিং অফিসার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাবিথ আউয়ালের কোন এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে প্রবেশই করেনি। আসলে তো প্রবেশ করতে দেব।

অপরদিকে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম সকালে কাট্টলী হাজী দাউদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তিনিই জিতবেন। এ সময় তিনি দাবি করেন কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে জানা গেছে মেয়র মনজুর যখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার সময়ও প্রায় কেন্দ্রে তার এজেন্ট পাওয়া গেছে। কিন্তু যেসব কারণ দেখিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন তার স্পষ্ট কিছুই উল্লেখ করেননি।

এদিকে বিএনপির নির্বাচন বয়কটের পর আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের ভোট বর্জনের বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত। বিএনপি পক্ষ থেকে ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও তারা সুনির্দিষ্টি কোন অভিযোগ দেখাতে পারেনি। একটি অনিয়মের তথ্যও তারা দিতে পারেনি। নির্বাচনে বিএনপি ইচ্ছা করেই পোলিং এজেন্ট দেয়নি বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যেসব কেন্দ্রে গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে তা বেশিরভাগ ঘটেছে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে। বিশেষ করে ঢাকা প্রায় সব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে কেন্দ্রের বাইরে এসব প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে গোলযোগের কারণে এবং কেন্দ্র দখলের অভিযোগে ৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া বদরুন্নেসা কলেজে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে নির্বাচন চলাকালে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বুলবুল লতিতকলা একাডেমি ভোটকেন্দ্রে হাজী সেলিম সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে, ঢাকা উত্তরের বড় মগবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে, মগবাজারে ইস্পাহানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ালীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খিলগাঁও তালতলা ঢাকা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

যাত্রাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং আব্দুল কুদ্দুস জানান, সকাল ১১ টা পর্যন্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই এ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। মনিজা রহমান গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হাসান আল কামাল বলেন, সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটা উপস্থিতি ছিল। দুপুর পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৫০ ভাগ ভোট কাস্ট হওয়র কথা জানান প্রিসাইডিং অফিসার শহিদুল ইসলাম খান।

তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার নির্বাচনী এলাকায় অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। ভোটার নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন। ভোটের নম্বর ও ভোট কেন্দ্রে জানতে ইসির পক্ষ থেকে আগেই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে সিøপের জন্য কোন ভোটারকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সব সময় সতর্ক ছিল। স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনী অনিয়ম দেখভালের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। নির্বাচন শেষে বেলা চারটার থেকেই ভোট গণনা শুরু হয়।

ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে মোট ১ হাজার ১৭৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশেনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছে ১৬ জন। কাউন্সিলর পদে মোট ২৮০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশেনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন, কাউন্সিলর পদে মোট ৩৮৭ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯৫ জন প্রার্থী নির্বচনে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন, কাউন্সিলর পদে ২১৩ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬১ জন প্রার্থী অংশ নেয়। গত ১৮ মার্চ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: