কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নগরীজুড়ে নিরাপত্তা বলয়

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৭১৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্নের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ৪১টি ওয়ার্ডে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির টহল টিম ছাড়াও প্রতিটি স্ট্রাইকিং ফোর্স একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল দেবে। ১৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচন কাজে নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৪ জন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। যে সকল কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে ২৪ জনের ও যেসব কেন্দ্র সাধারণ সেখানে ২২ জনের টিম কাজ করবে। ৭১৯টি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবে। ৩০ প্লাটুন বিজিবি ও ১ ব্যাটালিয়ন সেনাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে চসিক নির্বাচনে আজ।

সিএমপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, চসিক নির্বাচনে ৭১৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৯৫টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। বাকি ১২২টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫৯৫টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯১টি কেন্দ্র নগরীর ১৫ থানা এলাকার। ৪টি কেন্দ্র হাটহাজারী থানা এলাকায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর প্রতি পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে আরও ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে সিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে। সিএমপির পক্ষ থেকে মোট সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ এ নির্বাচনে কাজ করবে। এদিকে, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল টিম কার্যকর থাকবে।

এ ব্যাপারে নগরীর আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদীপ দাশ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে আগেভাগেই সিএমপির সদর দফতর থেকে থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখতে সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল ম-ল প্রতিনিয়ত থানাগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

র‌্যাব সেভেন দফতর সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের ৫৫০ সদস্য ছাড়াও আরও ৪৫৫ জন র‌্যাব সদস্য কাজ করবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এই ১০০৫ জন সদস্য আজ সকাল ৬টা থেকে টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। দুটি ভাগে ভাগ হয়ে ৪১টি ওয়ার্ডে ৮ সদস্যের টহল টিম আজ সকাল ৬টা থেকে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোকে টহলের আওতায় রাখবে। দুটি ওয়ার্ড মিলে একজন ক্লাস্টার কমান্ডার থাকবেন। মোটরসাইকেলে দু’জন করে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের কেন্দ্রেগুলোতে মোবাইল টিমের ন্যায় প্রহরায় থাকবে। সাদা পোশাকে প্রত্যেকে ওয়ার্ডে দু’জন করে র‌্যাব সদস্য কাজ করবেন। বাকি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কার্যকর থাকবে। এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা যেখান থেকে ভোট গণনা করা হবে সেখানেও চারটি টিম কার্যকর থাকবে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব সেভেনের এএসপি সোহেল মাহমুদ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও টহল অব্যাহত রাখবে। ঝুঁকিপূর্ণ কোন কেন্দ্রের বা কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের বিভিন্ন টিম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ টহল টিম কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে যে কোন ধরনের বাধা বিনাশ করতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে র‌্যাব সদস্যরা।

এ নির্দেশনা শুধু ভোটকেন্দ্রই নয়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ যানবাহন চলাচলেও গতিবিধি আরোপ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্বাচনের আগের দিন থেকে পরদিন পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল। এছাড়াও পর্যবেক্ষক হিসেবে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে দেশী-বিদেশী সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংস্থা পরিচয় ব্যতীত ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের দফতর সূত্রে জানা গেছে, চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের আওতায় মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন করতে ৭১৯টি কেন্দ্রে আজ ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন বহিরাগত নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে নগরীর বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট ও বোর্ডিংয়ে এমনকি সন্দেহভাজন স্থাপনায় ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্লক রেইড অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ২৮ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত নগরীতে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে বেবিট্যাক্সি, অটোরিক্সা, ইজিবাইক, টেক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপ, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো গণপরিবহনের জন্য রাস্তায় চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও জনসাধারণের মোটরসাইকেল চলাচলে গত ২৫ এপ্রিল রাত ১২ থেকে কাল ২৯ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনী এজেন্টকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশী-বিদেশী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র থাকা বাঞ্ছনীয়।

নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক, সরকারী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেমন ফায়ার সার্ভিস, পিডিবি, গ্যাস, ডাক ও ডেলিযোগাযোগ রোগী বহনের এ্যাম্বুলেন্স চলাচলে কোন বাধা নেই।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব উল আহসান জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ও চট্টগ্রামে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গত ২৫ এপ্রিল থেকে কাল ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন। যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কোন ব্যত্যয় ঘটে সেক্ষেত্রে নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: