আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার নিরসন চান ভোটাররা

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

এবারের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোটারদের কাছে বহু ইস্যু রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সর্বোচ্চ আধঘণ্টার বৃষ্টিপাতে এ নগরী পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ অবস্থা বিরাজ করছে বছরের পর বছর। ইতোপূর্বেকার মেয়র পদে নির্বাচিতরাও নির্বাচনের আগে জলাবদ্ধতা নিরসনের ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবস্থা যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। বরং, জলজট পরিস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামের একমাত্র বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ ও সন্নিহিত আবাসিক এলাকাগুলোও এখন স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তালিয়ে থাকে। এ এলাকাটি এখন এক ধরনের বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে।

অপরদিকে, নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোতে সামান্য বৃষ্টিপাতেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষার ঘোর মৌসুমে কোথাও কোথাও গলা পরিমাণ পানিও ঢুকে যায় বাসাবাড়িতে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর এ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে চলেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে নগরবাসী কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলদের ওপর ক্ষুব্ধ, ত্যক্ত-বিরক্ত। এ অবস্থায় আবার এসেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনেও জলাবদ্ধতা ইস্যুটি সামনে এসেছে।

সঙ্গত কারণেই ১২ মেয়র প্রার্থীর সকলেই জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেষ্ট হওয়ার ওয়াদা করে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। বিশেষ করে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে স্বপ্নের মেগাসিটি করার স্লোগান তুলেছেন। পক্ষান্তরে, অপর হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত এম মনজুর আলম এ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তার বিগত সময়ের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে নগরীকে জলজট মুক্ত করার ওয়াদা দিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও এ বিষয়টিকে সামনে তুলে ধরে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে চাক্তাই খালসহ নগরীর বিভিন্ন অংশে যেসব খাল ও নালা নর্দমা রয়েছে, তা সংস্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ওয়াদা করেছেন ভোটারদের কাছে।

এছাড়া এ নগরীতে আরও বহু সমস্যা বিদ্যমান। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক সংস্কার, অপর্যাপ্ত সড়ক বাতি, স্যানিটেশন, ট্রাফিক সিস্টেম, সব ধরনের ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রবণতাসহ অন্যান্য সমস্যাদি। কর্পোরেশনের কর্ণধার মেয়র। এক্ষেত্রে মনজুর আলম তার বিগত সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসন সফলতা অর্জন করতে পারেননি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আ জ ম নাছির এবার প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তার ক্ষেত্রে জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে সমালোচনার সুযোগ নেই। তবে তিনি এ সমস্যা সমাধানে ব্রতী হওয়ার ওয়াদা ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচিত হলে তাকে সেই কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে।

চট্টগ্রাম নগরীর আরও বহু সমস্যা রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হচ্ছে। এ জন্য এককভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দায়ী নয়। অন্যান্য সেবামূলক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না থাকার কারণে নগরবাসী বিভিন্ন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। এছাড়া এ কর্পোরেশনকে স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যাপারটিও ব্যাপকভাবে জড়িত, যাতে ইতোপূর্বে হ্যাটট্রিক বিজয়ী মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সফলতা অর্জন করেছিলেন। তবে তার বিভিন্ন অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা যায়নি। এসব সমস্যা নগরবাসীকে সর্বক্ষণিকভাবে ক্ষেপিয়ে রেখেছে। নির্বাচনের পরে নগরবাসী পর্যবেক্ষণে থাকবে, নির্বাচিতদের ওয়াদার বাস্তবায়ন ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে রূপান্তর করার ব্যাপারে তাদের প্রয়াসকে।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: