হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

থাকছেন ১৫ হাজার প্রশিক্ষিত নির্বাচনী কর্মকর্তা

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষিত নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের দুটি স্কুলে গত ১৬ এপ্রিল থেকে গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত ৪৯ প্রশিক্ষক এদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল কোন ভোটারকে প্ররোচিত, নিবৃত্ত, প্রভাবিত ও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাবিত না করা। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে এবং আইনের ধারা অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ নিয়ে ছিল এ প্রশিক্ষণ।

এদিকে, নির্বাচনী বিধিমালার ৭৯ ধারা অনুযায়ী কোন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার অথবা নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্যরা কোন প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করতে পারবেন না। যদি এ ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ঐ সদস্যের বিরুদ্ধে সর্বনি¤œ ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ-ে দ-িত করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ভোটাধিকার গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এ ভোটাধিকার গ্রহণে নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা বা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন কিনা সে বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবগত করার জন্য এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারসংখ্যা, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পরীক্ষা ও সংরক্ষণ, ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি কমিশনে ডাকযোগে ভোট গণনার বিবরণী প্রেরণ, ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা ও পুনঃ ভোটগ্রহণ, কেন্দ্রে প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত তালিকা প্রদর্শন, বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম রোধ, নির্বাচনী কাগজপত্রে অবৈধ হস্তক্ষেপ, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন কার্য সম্পাদনের নির্দেশনা দেয়া হয় এই প্রশিক্ষণে।

চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডের আওতায় থাকা ৭১৯টি ভোটকেন্দ্রে কর্তব্যরত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য ১৫ হাজার ৪৩৭ জনকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ এর উপসচিব মোঃ শামসুল আলমের পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ প্রশিক্ষণের আওতায় প্রিসাইডিং অফিসার ৭১৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৯০৬ জন এবং পোলিং অফিসার ৯ হাজার ৮১২ জনসহ মোট ১৫ হাজার ৪৩৭ জনকে প্রশিক্ষিত করা হবে। নগরীর কাজেম আলী হাইস্কুল ও ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিন এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত ৪৯ জন প্রশিক্ষক এ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক অফিসের এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টদের বিষয়ে এবং ভোটারদের আচরণবিধির ওপর প্রশিক্ষণের দেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: